শিরোনাম

ট্রাম্পের ইরানে হামলার ক্ষমতা সীমিত করতে বিল পাস

সিটিজেন ডেস্ক
ট্রাম্পের ইরানে হামলার ক্ষমতা সীমিত করতে বিল পাস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্পের ইরানে হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)।

বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের আনা ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। ভোটে ট্রাম্পের দলেরই ৪ জন সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে পক্ষে ভোট দেন। মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেসে প্রস্তাবটি পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সময় ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবটি পাস হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে ব্যাপক অনুপস্থিতি।

তবে এর আরেকটি কারণ হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময় আর কোনো যুদ্ধ শুরু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মার্কিন জনগণকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এটি দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এর অবসান ঘটানো অনেক বেশি কঠিন বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিনিধি পরিষদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার এটি প্রথম প্রচেষ্টা নয়। কিন্তু এই প্রথমবার এটি পাস হয়েছে। অন্য তিনটি বিল পাস হয়নি।

তবে প্রস্তাবটি পাস হলেও আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এটি কার্যকর হতে হলে সিনেটেও পাস হয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন। প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি উভয় কক্ষে পাস হাওয়া নিয়ে জটিলতা থাকলেও নিম্নকক্ষে পাস হওয়া ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধাক্কা। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে এমন তিনটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল। যদিও প্রতিবারই ভোটের ব্যবধান কমেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ৪০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধ শুরু করতে ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি। তিনি এ যুদ্ধকে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বা ‘স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে রিপাবলিকান নেতার বারবার সামরিক শক্তি প্রয়োগ কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতাকে হতাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত।

গত শনিবার এ সংঘাতের ১০০তম দিন পূর্ণ হয়েছে। তবে এর পরও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/জেএইচ/