শিরোনাম

ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের
বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা

আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রধান বাণিজ্য সহযোগীদের ওপর আবারও মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ব্রাজিলের বেশ কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার (২২ জুলাই) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তটির মাধ্যমে বৈশ্বিক শুল্ক যুদ্ধের একটি নতুন ঢেউ শুরু হতে যাচ্ছে। এটি বিশ্বের আরও বহু দেশকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাবে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার জানান, মূলত ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের বিখ্যাত 'ধারা ৩০১' (অন্যায্য বাণিজ্য প্রথা আইন) এর ওপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের একটি জরুরি আদেশ ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপরই ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্য ও অবৈধ বন উজাড়ের মতো বিষয়গুলোকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে জুন মাস থেকে চলা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে এ নতুন শুল্ক আরোপ করল ওয়াশিংটন। তবে নতুন এ চূড়ান্ত আদেশে ব্রাজিলের গরুর মাংস, কফি এবং বিমানের মতো প্রধান পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড়ের পূর্ববর্তী তালিকাটি আরও প্রসারিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে পিগ আয়রন, স্ক্র্যাপ স্টিল ও জৈব মধুর মতো পণ্যকেও শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ একতরফা পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা একে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। অক্টোবরের পুনর্নির্বাচনকে সামনে রেখে লুলার সরকার জানিয়েছে, তারা অবিলম্বে তাদের নিজস্ব আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিরোধ নিষ্পত্তি ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করবে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ পরিস্থিতির জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে করেছেন। তার দাবি, লুলা জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজের অহংকারকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা। তিনি রুবিওর মন্তব্যকে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর চরম অভদ্র ও ঔদ্বত্যপূর্ণ আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ছাড়ের আওতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এ শুল্কের বাইরে থাকবে। ব্রাজিলের বাণিজ্যমন্ত্রী মার্সিও এলিয়াস রোসা জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্রাজিলের মোট মার্কিন রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ বা ৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খাবে কাঠ, আসবাবপত্র, জুতা ও যন্ত্রপাতি খাত। অন্যদিকে মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জোট উই পে দ্য ট্যারিফস এ শুল্ক নীতিকে একটি ভোঁতা হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, এর মাশুল শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাধারণ ব্যবসায়ীদেরই গুনতে হবে। শুধু ব্রাজিলই নয়, ইউএসটিআর-এর চলমান অন্যান্য তদন্তের কারণে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও আগামী দিনে একই ধরনের মার্কিন শুল্কের মুখোমুখি হতে পারে বলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটি বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/