শিরোনাম

বৃষ্টি হলেই ভুগছে মানুষ, বিপুল ব্যয়েও মিলছে না সুফল

বৃষ্টি হলেই ভুগছে মানুষ, বিপুল ব্যয়েও মিলছে না সুফল
টানা বৃষ্টিপাতে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর আরামবাগ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানীতে বৃষ্টি মানেই জলাবদ্ধতা। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হলেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, শান্তিনগর-কাকরাইল এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একইভাবে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পিলখানা রোডের জলাবদ্ধতা দূর করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব প্রকল্প নেওয়ার পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হলেই আগের মতোই পানি জমে থাকছে।

অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ধানমন্ডি এলাকার। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট এলাকা এবং ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটসংলগ্ন সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। একই চিত্র নায়েম রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড; পলাশীতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে, সাকুরা মার্কেট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবনের সামনের সড়কেও দেখা যায়।

মালিবাগ ও খিলগাঁওয়ে জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত ঘটনা। পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত সড়ক, আনন্দ বেকারি মোড়, চানমারি মোড়, সবুজ কানন ১, ২ ও ৩ নম্বর গলি, মালিবাগ প্রথম লেন এবং শান্তিবাগ ১৭ নম্বর গলিতে বৃষ্টির পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি আটকে থাকে। অন্যদিকে পল্টন, দৈনিক বাংলা ও ফকিরাপুল মোড়ে জলাবদ্ধতার কারণে স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য।

রাজধানীর নটর ডেম কলেজের সামনের রাস্তায় কোমর সমান পানি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
রাজধানীর নটর ডেম কলেজের সামনের রাস্তায় কোমর সমান পানি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

কমলাপুর ও সায়েদাবাদমুখী এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, টিটিপাড়া ট্রাক স্টেশন, মুগদা মেডিকেল কলেজের সামনে, গোপীবাগ বড় মসজিদের সামনের সড়ক, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বরের উত্তর পাশের ফুটওভার ব্রিজ, নটরডেম কলেজের সামনে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশ এবং জিয়া সরণি সড়কে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত নয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামনে, বুয়েট কোয়ার্টার এলাকা, আগাসাদেক রোড, মাজেদ সরদার রোড, অভয়দাস লেন, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন ও মুন্সিবাড়ি পাইপ রোডে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কয়েকটি স্থানে দুর্গন্ধও ছড়িয়ে।

জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) রাজীব খাদেম বলেন, শান্তিনগর ও কাকরাইল এলাকার পানি কমলাপুরের দিকে গিয়ে নিষ্কাশিত হয়। সেখানে থাকা পাম্পে সাময়িক সমস্যা তৈরি হওয়ায় পানি দ্রুত সরানো যাচ্ছে না। এছাড়া পিলখানা রোডের কাজের টেন্ডার হলেও অর্থসংকটের কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।

টানা বৃষ্টিতে আজিমপুর সরকারি কলোনির সামনের রাস্তায় একটি গাছ উপড়ে পড়ে। ছবি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
টানা বৃষ্টিতে আজিমপুর সরকারি কলোনির সামনের রাস্তায় একটি গাছ উপড়ে পড়ে। ছবি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী এটিএম আজিজুল আকিল সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘বেইলি রোড, শান্তিনগর ও নটরডেম কলেজ এলাকায় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার বড় অংশ রাস্তা উঁচু করা ও ড্রেন পরিষ্কারে ব্যয় হয়েছে। অথচ জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য স্টর্ম ওয়াটার বক্স কালভার্ট পরিষ্কার, পুরো ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের ইনভার্ট লেভেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি ছিল। এসব বিষয় উপেক্ষা করে অবৈজ্ঞানিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীর অনেক এলাকায় এখন ড্রেনের পরিবর্তে পানি রাস্তা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মূল কারণ ড্রেনেজ অবকাঠামোর ত্রুটিপূর্ণ নকশা, অপর্যাপ্ত বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব।’ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার সংকট আরও বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

/এসএ/