শিরোনাম

নতুন বাজেট প্রণয়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বাজেট প্রণয়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এনবিআরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও অর্থনীতিতে চলমান সংকটের কারণে আগামী বাজেট প্রণয়ন এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ । বর্তমান সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়।

আগামী বাজেট সামনে রেখে দিকনির্দেশনা দিতে প্রথমবারের মতো আজ বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আসেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বাজেট দেওয়া হবে । দেশের অর্থনীতি আগে থেকেই চাপে রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। সব মিলিয়ে বাজেট প্রণয়নে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে ।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নির্বাচিত সরকারের সামনে বর্তমানে তিন ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে নতুন সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দেশের রাজস্ব আদায় তথা কর- জিডিপি কম এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। কীভাবে সম্পদ আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সমস্যা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‌মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ হচ্ছে এটা একটা বড় সমস্যা। আমাদের বড় একটা অংশ এখানে খরচ হচ্ছে, জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। সুতরাং এটা আমাদের অর্থনীতির জন্য ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে ছোট ব্যবসায়ীদের বিষয় আছে, এখানে বিনিয়োগের বিষয় আছে, সবচেয়ে বড় কথা কর্মসংস্থানের বিষয় আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা বাজেট করতে চাই, যেখানে এই বিষয়গুলোতে বিবেচনায় আনা সম্ভব হয়।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতিটাকে যদি আমরা টেনে তুলতে না পারি, দিনের শেষে ট্যাক্স- জিডিপির বাড়ানো খুব কঠিন। আমরা ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির কথা বলছি। আমরা টাকা ছাপাতে চাচ্ছি না। এটা করতে গেলে তো বিনিয়োগ যাতে আকৃষ্ট হয় দেশি-বিদেশি, সেটা করতে হবে।

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ঢালাওভাবে টাকা ছাপানোর যে প্রবণতা, তা থেকে সরকার বেরিয়ে আসতে চায় বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিকে চাঙা করতে না পারলে দিন শেষে কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো খুব কঠিন। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়া। আমরা টাকা ছাপাতে চাচ্ছি না, বরং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতিমালার ঘন ঘন পরিবর্তন বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন, সে জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত নীতি অপরিবর্তিত রাখা হবে। তাঁর মতে, বিনিয়োগের পথ সুগম করতে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন মূল লক্ষ্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি নিয়ে অনুসন্ধান হয়েছিল। নতুন সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, এ ধরনের অনুসন্ধান চালু রাখার বিষয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আগামী বাজেট প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো, সমাজের বঞ্চিত ও সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো চালু থাকবে। সেই টাকার সংস্থান আগে রেখে বাজেট সাজানো হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের সুবিধার বাইরে রাখা হবে না। তাদের পাওনা নিশ্চিত করেই সামগ্রিক বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।

/বিবি/