শিরোনাম

ইইউ’র ডিপিপি বাস্তবায়নে বিজিএমই’র প্রস্তুতি

সিটিজেন ডেস্ক
ইইউ’র ডিপিপি বাস্তবায়নে বিজিএমই’র প্রস্তুতি
বিজিএমইএ এবং অ্যাওয়ার-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন ‘ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট’ (ডিপিপি) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ট্রেসেবিলিটি প্ল্যাটফর্ম (অ্যাওয়ার) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।

রবিবার (১০ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান এবং অ্যাওয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিকো ভ্যান ডার ভিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রায় চার হাজার পোশাক কারখানায় ব্যবহৃত আমদানিকৃত ফাইবার ও কাঁচামালের তথ্য ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করা হবে। এর ফলে ২০২৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাধ্যতামূলক হতে যাওয়া ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টের শর্ত পূরণ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ভবিষ্যতে ইউরোপে প্রবেশকারী প্রতিটি পোশাকপণ্যের সঙ্গে একটি ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট থাকতে হবে। কিউআর কোডভিত্তিক এই ডিজিটাল রেকর্ডে পণ্যের কাঁচামালের উৎস, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত প্রভাব সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মূলত চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত ফাইবার ও সুতার ওপর নির্ভরশীল। ফলে কাঁচামালের উৎস যাচাই এবং সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য অনুসরণ বা ‘ক্রস-বর্ডার ট্রেসেবিলিটি’ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যাওয়ারের প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি কাঁচামালের চালানের জন্য ব্লকচেইনভিত্তিক ‘ডেটা টোকেন’ তৈরি হবে। কাঁচামাল বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর স্থানীয় কারখানাগুলো নিজেদের উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য ওই টোকেনের সঙ্গে যুক্ত করবে। এতে কাঁচামাল থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ডিজিটাল তথ্যশৃঙ্খল তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো আর শুধু প্রচলিত অডিট রিপোর্ট বা সার্টিফিকেশনের ওপর নির্ভর করবে না, বরং প্রতিটি পণ্যের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ফেকো ভ্যান ডার ভিন বলেন, এশিয়ার টেক্সটাইল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তিন দশকের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘বিশ্ববাজারে এখন প্রমাণহীন দাবি আইনি দায়ে পরিণত হচ্ছে। তাই যাচাইকৃত তথ্য এখন আর বাড়তি সুবিধা নয়, বরং বাজারের বাস্তব প্রয়োজন।’

বিজিএমইএর সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, সংগঠনটি সবসময় বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইইউর ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট দ্রুত কার্যকর হতে যাচ্ছে। আমাদের সদস্য কারখানাগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। আমরা মনে করি, এই প্রযুক্তি শুধু নিয়ম মানতেই নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতেও সহায়তা করবে।’

চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ‘ডেটা সার্বভৌমত্ব’। অর্থাৎ কারখানাগুলোর উৎপাদিত তথ্যের মালিকানা তাদের কাছেই থাকবে এবং কারা সেই তথ্য দেখতে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও থাকবে সংশ্লিষ্ট কারখানার হাতে।

অ্যাওয়ারের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার মুয়ীদ হাসান বলেন, ‘ইইউর এই নতুন নিয়ম বাংলাদেশের জন্য হুমকি নয়; বরং এটি একটি বড় সুযোগ। যারা আগে প্রস্তুতি নেবে, তারাই ভবিষ্যতে বেশি অর্ডার পাবে।’

জানা গেছে, খুব শিগগিরই দেশের কয়েকটি স্পিনিং ও পোশাক কারখানায় এই উদ্যোগের পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটি সফল হলে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার পথ তৈরি হবে।

/এমআর/