শিরোনাম

হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

সিটিজেন ডেস্ক
হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু
মাহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৪ জনে। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৫ শিশু।

রবিবার (১০ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২০৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা সাত শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দুজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে সারা দেশে মোট ১ হাজার ৫০৩ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। তাদের বেশির ভাগকেই হাসপাতালে নিতে হয়েছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই রয়েছে ৪৯৬ জন।

তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১১৬ শিশু। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের শিশুর সংখ্যা ৪৪৩।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯ হাজার ১৫৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৯০৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষায় ৬ হাজার ৮১৯ শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়।

এদিকে চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩০ হাজার ৮৬২ শিশু।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তারা শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

/এমআর/