শিরোনাম

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব রেস্তোরাঁ খাতে, সংকট নিরসনে ১০ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব রেস্তোরাঁ খাতে, সংকট নিরসনে ১০ দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তায় দেশের রেস্তোরাঁ খাতে গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। সংকট নিরসনে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। রবিবার (১০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, করোনাকালীন দীর্ঘ সংকট ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবাইকে হতাশ হতে হয়েছে। কারণ ওই সময়ে নতুন কোনো বিনিয়োগ হয়নি, উল্টো শত শত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। ফলে কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এতে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে, যা বাজার ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করেছে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তোরাঁ খাতে। ক্রমবর্ধমান খরচ, ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রেস্তোরাঁ সেক্টর আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে।

এসময় রেস্তোরাঁ সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইমরান হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির পক্ষ ১০ দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো –

১. রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন।

২. আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় মাত্রায় রেখে এর পরিধি বাড়ানো।

৩. এলপিজি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ পুনরায় চালু করা।

৪. বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি করা।

৫. রেস্তোরাঁ সেক্টরে রাজউক, কলকারখানা, ফায়ার ও পরিবেশসহ সব অধিদপ্তরের হয়রানি বন্ধ করা।

৬. রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্পোরেট আগ্রাসন বন্ধ করা।

৭. রেস্তোরাঁ সেক্টরকে শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন।

৮. ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু পুনরায় চালু করা।

৯. রেস্তোরাঁ সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের জিম্মি, হয়রানি, চাঁদাবাজিসহ সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।

১০. গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া।

/এফআর/