শিরোনাম

সরকারি দপ্তরে ছাত্রদল নেতার হুমকির অভিযোগ, ইউএনওর হুঁশিয়ারি বার্তা

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ সংবাদদাতা
সরকারি দপ্তরে ছাত্রদল নেতার হুমকির অভিযোগ, ইউএনওর হুঁশিয়ারি বার্তা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা। নিজ কার্যালয়ে ধারণ করা ৩৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে গিয়ে নিজের এলাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি বরাদ্দ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ। তবে তথ্য না পেয়ে অফিস সহকারীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।

অফিস সহকারীর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানানো হয়। এর পরও রিশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। একপর্যায়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

ঘটনার পরও দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে পিআইও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে ভিডিও বার্তা দেন। ভিডিও বার্তায় কারও নাম উল্লেখ না করে ইউএনও বলেন, ‘প্রিয় গৌরীপুরবাসী, আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সম্প্রতি একটি বিষয় লক্ষ করা গেছে বিভিন্ন অফিস-আদালতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি, অপব্যবহার ও বলপ্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটছে। এটি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ও ১৮৭ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং এমন পরিস্থিতি যদি পুনরায় দেখা যায়, তাহলে ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের এত সতর্কতার কারণ কী, আর অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন। আবার অনেকেই ধারণা করছেন, হুমকিদাতারা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের পরিচয় প্রকাশ না করে একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতেই ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন ইউএনও। ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এ ভিডিও প্রশাসনের জন্য সহায়ক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

নাম প্রকাশ করা হয়নি কেনো জানতে চাইলে শুক্রবার ইউএনও আফিয়া আমীন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি।’

জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ। তিনি স্বীকার করেন, এলাকার একটি সড়ক এবং সরকারি সেলাই মেশিন বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে পিআইও ও ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হুমকি দেওয়া হয়নি বলে জানান ছাত্রদলের এই নেতা। রিশাদের দাবি, অনিয়ম তুলে ধরায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, ইউএনওর মাধ্যমে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তারা জানতে পেরেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছে।

/জেএইচ/