শিরোনাম

কিশোরগঞ্জে ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জে ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ
কিশোরগঞ্জে ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠনটির পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। এসময় তারা পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে তাকে কিশোরগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে জেলা শহরের শহীদী মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে গৌরাঙ্গ বাজার মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা অবিলম্বে পকেট কমিটি বাতিল করে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।

সমাবেশে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার কথা ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দলের ভেতর যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তার বিরুদ্ধে কথা বলা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত দিনের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত প্রতিটি কর্মসূচিতে আমরা রেদোয়ানুর রহমান ওয়াকিউর ভাইয়ের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জের রাজপথ দখলে রেখেছিলাম। দীর্ঘ ১১ মাস পর ওয়াকিউর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের জন্য আমাদের ত্যাগ থাকা সত্ত্বেও কেন আমাদের ওপর এই অন্যায় করা হলো? আমাদের অপরাধ কী? আমরা এই বঞ্চনার কারণ জানতে চাই।’

শরীফুল আলমের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কিশোরগঞ্জের ছাত্র-জনতা আজ শরীফুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ বা ময়মনসিংহ যেখানেই আন্দোলন হয়েছে, আমরা সবসময় সক্রিয় ছিলাম। রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমরা আমাদের দাবি আদায় করে নেব।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন, মিছিলের শেষ প্রান্তে থাকা কর্মীটিও যেন যথাযথ মূল্যায়ন পায়। কিন্তু বর্তমানে আমরা কী দেখছি? যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতা রেখে চলেছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই এবং যারা কোনোদিন রাজপথের মিছিলে ছিল না তারাই আজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে চলে এসেছে। এই পকেট কমিটি ও সিন্ডিকেটকে আমরা কিশোরগঞ্জের মাটি থেকে প্রত্যাখ্যান করছি।’

এ প্রসঙ্গে রেদুয়ান রহমান ওয়াকিউর বলেন, গত বছর কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু মাত্র ২৪ দিনের মাথায় কোনো কারণ উল্লেখ না করেই আমাদের কমিটি স্থগিত করা হয়। এরপরও দলীয় সকল কার্যক্রম এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পক্ষে দিনরাত কাজ করেছি। কিন্তু এবারের নতুন কমিটিতে আমাকে বাদ দেওয়ায় বিস্মিত হয়েছি। যে বয়সে পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়ার কথা, সেই বয়সে জীবনের মায়া ত্যাগ করে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছি। হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘর, পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন সময় পার করেছি।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হুমায়ুন কবির অমি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত রাতুল, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ আহমেদ, গুরুদয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানি আহমেদ খান, পৌর ছাত্রদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ পাভেল হাসানসহ নেতাকর্মীরা।

এর আগে, গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর পরপরই স্থানীয় ছাত্রদলের একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে জানা যায়, গত বছরের ১৫ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একটি ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। তবে ঘোষণার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় ৪ জুন রাতে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো.জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঐ কমিটি স্থগিত করা হয়। এবারও আবার ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এ কমিটিতে জায়গা হয় নি আগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেদুয়ান রহমান ওয়াকিউরের। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের প্রভাবেই ওয়াকিউরকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তার অনুসারীরা রাস্তায় নেমেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে ওয়াকিউরকে মাইনাস করার জন্যই কমিটি স্থগিত করা হয়েছিলো বলে দাবী করছেন। যার প্রমাণ হিসেবে তারা বলছেন, ওয়াকিউর বাদে আগের কমিটির ৫ জনের সবাই নবগঠিত কমিটিতে পদ পেয়েছে।

/এমআর/