শিরোনাম

জামালপুরে ডিজেল যেন সোনার হরিণ

জামালপুর সংবাদদাতা
জামালপুরে ডিজেল যেন সোনার হরিণ
তেলের জন্য পাম্পে ভিড়। ছবি: সংবাদদাতা

জামালপুরে ডিজেল সংকটের কারণে বোরো ধানের জমিতে চাহিদামাফিক পানি দিতে পারছেন না কৃষকরা। এ কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন না হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় সেচ পাম্প রয়েছে ৫৩ হাজার ৩৬৮টি। এর মধ্যে ডিজেলচালিত সেচ পাম্প ২৮ হাজার ১০৩টি। চলতি মৌসুমে জামালপুর জেলায় ২ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে চাষ হয়েছে ৫০ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমি। ডিজেল সংকটের কারণে ঝুকিঁর মুখে পড়েছেে এসব জমির ফসল।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া বাজারের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, চারা রোপণের পর থেকে ১/২ দিন পর পর জমিতে পানি দিতে হয়। ডিজেল সংকটের কারণে এবার সময় মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাম্পে দিন-রাত অবস্থান করেও চাহিদা মাফিক ডিজেল পাচ্ছি না। এ কারণে অন্য বছরের তুলনায় ধানের ফলন কম হবে।

ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, ডিজেলের অভাবে মেশিন চালু করতে পারছি না। ডিজেল এখন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। ১০-১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তেল মিলছে না। নারী কৃষকরাও লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজন মতো ডিজেল পাচ্ছেন না । তেলের অভাবে ১৫ দিনেও জমিতে পানি দিতে পারছি না। এ অবস্থায় ধানের ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শরীফ আলম খান বলেন, সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদনে যথেষ্ট পরিমাণণ প্রভাব পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি পরিবার।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জ্বালানি তদারকি কমিটির আহবায়ক আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। ডিজেলের কোন সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

/এসআর/