শিরোনাম

বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত ৬

গাজীপুর সংবাদদাতা
বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত ৬
বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর সদর উপজেলায় বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শিল্প পুলিশের বিরুদ্ধে। এতে নারী শ্রমিকসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ডগরী (নয়াপাড়া) এলাকার প্যারাগন সিরামিকস লিমিটেড কারখানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা শ্রমিকরা হলো- বাংলা বাজার এলাকার মোর্শেদের মেয়ে রুমা (৩০), সেলিমের স্ত্রী শিল্পী (৩৫), শামীমের স্ত্রী শারমিন (২২), আব্দুল কাদেরের স্ত্রী তপোরা (৪০), বশির মোল্লার ছেলে আজিজুল হক (৩০) ও মনসুর আলীর স্ত্রী রেবা (৪৫)।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্যারাগন সিরামিকস কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সোমবার রাতেই একদিনের জন্য কারখানা ছুটি ঘোষণা করে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্যারাগন সিরামিকস লিমিটেড কারখানার ঊর্ধ্বতন মহা-ব্যবস্থাপক (ফ্যাক্টরি) মোসাহেব কাক্কা সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, আগামীকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) কারখানার আবারও চালু হবে।

আন্দোলনরত শ্রমিক এবং স্থানীয়রা জানান, মার্চ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল সোমবার বিকাল ৫টা থেকে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। এ সময় তারা রাজেন্দ্রপুর-মির্জাপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে সড়কটিতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটক ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর শুরু চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে শিল্প পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদেরকে বেধড়ক মারধর করেছে শিল্প পুলিশ।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, আহত কয়েকজন শ্রমিকের পায়ে (হাঁটুর নিচে) রক্তাক্ত জখম ও ছিদ্র ছিল। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্যারাগন সিরামিকস লিমিটেড কারখানার এক কর্মকর্তা জানান, কারখানার গ্যাস বিল পরিশোধ না করায় গত ২ এপ্রিল থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে উৎপাদন কাজ স্থবির হয়ে যাওয়ায় সময়মতো বেতন পরিশোধ করতে পারেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ।

জয়দেবপুর থানার ওসি নয়ন কর জানান, এক মাসের বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কারখানার প্রধান ফটক ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর চালায়, শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।

/এফআর/