শিরোনাম

স্কুল ফিডিংয়ে কাঁচা কলা বিতরণ, সহকারী শিক্ষক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
স্কুল ফিডিংয়ে কাঁচা কলা বিতরণ, সহকারী শিক্ষক বরখাস্ত
৯৩ নং শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ফরিদপুরের সদর উপজেলায় স্কুল ফিডিংয়ে শিক্ষার্থীদের বনরুটির সঙ্গে কাঁচা কলা খেতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গোলাপী বেগম নামে এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দীন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।

অভিযুক্ত গোলাপী বেগম উপজেলার পুর্বখাবাসপুরে অবস্থিত ৯৩ নং শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এদিকে, বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার দাবি, কলাগুলো তিনি যেভাবে পেয়েছেন, সেভাবেই বিতরণ করেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, খাবারগুলো দুই আগে স্কুলে পৌঁছানোর নিয়ম। তবে ওই স্কুলে যেদিন কলাগুলো পৌঁছানো হয়, সেদিনই বিতরণের কারণে এমনটি হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নং শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগম গত ২৫ এপ্রিল স্কুল ফিডিংয়ে খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেগুলো ২৬ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকী ভাতা পাবেন।

জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগম বলেন, গত ২৫ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্বে ছিলাম। সে অনুযায়ী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কলা ও বনরুটিগুলো গ্রহণ করি। ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার দেওয়া হয়েছিল। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাবার দিয়ে যায়, সেভাবেই রেখে দেওয়া হয়। তবে বিতরণের কোনো নিয়ম ও নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়নি।

নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণকৃত সাগরকলাগুলো উপরে সবুজ থাকলেও ভিতরে পাকা ছিল। আর বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় যেভাবে পেয়েছি, সেভাবেই বিতরণ করেছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুন বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে খাবার সরবরাহ করেন নাই। তারা সেদিন যে কলা দিয়েছে, তার দুই-তিনটি এখনো রয়েছে। সেগুলো পাঁচ দিনেও পাকেনি। এখানে আমার স্কুলের শিক্ষক ভুল করেননি। এটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দায়।

এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, শনিবারে পৌঁছানো কলাগুলো সোমবারের টিফিনে দেওয়া কথা। কিন্তু একদিন আগেই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদদীন বলেন, টিফিনের সময় খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা বিতরণের অভিযোগে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এমন মানহীন খাবার সরবরাহের বিষয়টি আমরা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এই বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/এফআর/