ঢাকায় ফিরেছে এনালগ বিলবোর্ড, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

ঢাকায় ফিরেছে এনালগ বিলবোর্ড, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
মেহেদী হাছান মাহীম

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় আবারও দেখা যাচ্ছে এনালগ বিলবোর্ড। প্রায় ১০ বছর এ ধরনের বিলবোর্ড স্থাপনের কাজ বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি মেট্রোরেল লাইনের নিচে সারি সারি নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই বিলবোর্ডে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়বে তেমনি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের মাঝখানে মেট্রোরেলের লাইনের নিচে একাধিক এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিলবোর্ডের বেশিরভাগেই বিজ্ঞাপন রয়েছে, অল্পকিছু বিলবোর্ডে এখনো ফাঁকা। বিলবোর্ডে ছোট কাগজে লেখা রয়েছে ‘কল ফর অ্যাড’ এবং একটি মোবাইল নম্বর।
সরেজমিন আরও দেখা গেছে, পুরানা পল্টন মোড় এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষাভবন মোড় পর্যন্ত এনালগ বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন নেই। তবে ওই স্থান থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিলবোর্ডে আকিজ গ্রুপ এবং বিকাশের বিজ্ঞাপন রয়েছে। এছাড়া শাহবাগ মোড় থেকে কারওয়ান বাজার মোড় পর্যন্ত কিছু বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন আছে।
বিলবোর্ড নিয়ে চালকদের অভিযোগ
সড়কের পাশে এবং মাঝখানে স্থাপিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্র ও বিলবোর্ড নিয়ে যানবাহন চালকেরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ এগুলোকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেছেন, এসব বিজ্ঞাপন মুহূর্তের জন্য হলেও গাড়ি চালানোর সময় মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়।
মোটরসাইকেল চালক মো. আবীর জানান, সড়কে থাকা বিলবোর্ডগুলো বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। তবে কখনো কখনো চোখ বিজ্ঞাপনের দিকে চলে গেলে সাময়িকভাবে মোটরসাইকেল চালাতে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয় । যদিও এ কারণে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হননি।
আরেক মোটরসাইকেল চালক রিজওয়ান বলেন, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে থাকা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও বিলবোর্ডের কারণে কয়েকবার চালানোর সময় তিনি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন। একবারতো তিনি অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
কী বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সিটি করপোরেশনের জন্য বিলবোর্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের উৎস। তবে শুধু আয়ের কথা বিবেচনা করে যত্রতত্র বিলবোর্ড স্থাপন করা উচিত নয়। অতীতেও অপরিকল্পিতভাবে বিলবোর্ড বসানোর কারণে নগরীর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়েছে।
আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, কোথায় বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে আর কোথায় যাবে না-সে বিষয়গুলো নগর পরিকল্পনায় থাকা প্রয়োজন। এজন্য সিটি করপোরেশনের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিলবোর্ড রয়েছে, তবে সেগুলো নীতিমালা অনুযায়ী স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের মতো যত্রতত্র বিলবোর্ড বসানোর প্রবণতা সেখানে দেখা যায় না। বিলবোর্ড স্থাপনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সিটি করপোরেশনের বক্তব্য
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এনালগ বিলবোর্ড স্থাপনে চালকদের সমস্যা হওয়ার কথা না। আর এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করা নিয়ে আমরা কোনো সমস্যা দেখছি না।’
এনালগ বিলবোর্ড পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলইডি বিলবোর্ড যখন ছিল, তখন আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছিলাম। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে আমরা তাদের বলেছি, মেট্রোরেল লাইনের নিচে কোনো ধরনের এলইডি বিলবোর্ড করা যাবে না এবং এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করলে সেটির আকার আরও ছোট করতে হবে। এছাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে কোনো বিলবোর্ড রাখা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। হয়তো কোনো জায়গায় এটি বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনো জায়গায় হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, যেসব মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘যাদেরকে বিলবোর্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে, তাদের বারবার বলা হয়েছে, এগুলোর আশপাশে গাছ লাগাতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে। এসব শর্তে আমরা তাদের বিলবোর্ড ইজারা দিয়েছি।’
ইজারাদাররা যা বলছেন
এনালগ বিলবোর্ডে থাকা বিজ্ঞাপন দেওয়ার মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মো. বাবুল নামের একজন ইজারাদার বলেন, ‘আমি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে এই বিলবোর্ড ইজারা নিয়েছি।’ সানরাইস এবং এক্সেস ট্রেডিং নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে ইজারা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাবুল বলেন, ‘আমি পুরানা পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ইজারা নিয়েছি। এগুলোতে বাংলালিংক, রবি, গ্রামীণ এবং ইউনিলিভারের মতো বড় বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।’
ইজারাদার বাবুল আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বেশকিছু বিলবোর্ড খালি রয়েছে। বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দিতে পারিনি।’ কত দিনের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় এবং খরচ কেমন- জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় আবারও দেখা যাচ্ছে এনালগ বিলবোর্ড। প্রায় ১০ বছর এ ধরনের বিলবোর্ড স্থাপনের কাজ বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি মেট্রোরেল লাইনের নিচে সারি সারি নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই বিলবোর্ডে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়বে তেমনি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের মাঝখানে মেট্রোরেলের লাইনের নিচে একাধিক এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিলবোর্ডের বেশিরভাগেই বিজ্ঞাপন রয়েছে, অল্পকিছু বিলবোর্ডে এখনো ফাঁকা। বিলবোর্ডে ছোট কাগজে লেখা রয়েছে ‘কল ফর অ্যাড’ এবং একটি মোবাইল নম্বর।
সরেজমিন আরও দেখা গেছে, পুরানা পল্টন মোড় এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষাভবন মোড় পর্যন্ত এনালগ বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন নেই। তবে ওই স্থান থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিলবোর্ডে আকিজ গ্রুপ এবং বিকাশের বিজ্ঞাপন রয়েছে। এছাড়া শাহবাগ মোড় থেকে কারওয়ান বাজার মোড় পর্যন্ত কিছু বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন আছে।
বিলবোর্ড নিয়ে চালকদের অভিযোগ
সড়কের পাশে এবং মাঝখানে স্থাপিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্র ও বিলবোর্ড নিয়ে যানবাহন চালকেরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ এগুলোকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেছেন, এসব বিজ্ঞাপন মুহূর্তের জন্য হলেও গাড়ি চালানোর সময় মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়।
মোটরসাইকেল চালক মো. আবীর জানান, সড়কে থাকা বিলবোর্ডগুলো বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। তবে কখনো কখনো চোখ বিজ্ঞাপনের দিকে চলে গেলে সাময়িকভাবে মোটরসাইকেল চালাতে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয় । যদিও এ কারণে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হননি।
আরেক মোটরসাইকেল চালক রিজওয়ান বলেন, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে থাকা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও বিলবোর্ডের কারণে কয়েকবার চালানোর সময় তিনি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন। একবারতো তিনি অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
কী বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সিটি করপোরেশনের জন্য বিলবোর্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের উৎস। তবে শুধু আয়ের কথা বিবেচনা করে যত্রতত্র বিলবোর্ড স্থাপন করা উচিত নয়। অতীতেও অপরিকল্পিতভাবে বিলবোর্ড বসানোর কারণে নগরীর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়েছে।
আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, কোথায় বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে আর কোথায় যাবে না-সে বিষয়গুলো নগর পরিকল্পনায় থাকা প্রয়োজন। এজন্য সিটি করপোরেশনের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিলবোর্ড রয়েছে, তবে সেগুলো নীতিমালা অনুযায়ী স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের মতো যত্রতত্র বিলবোর্ড বসানোর প্রবণতা সেখানে দেখা যায় না। বিলবোর্ড স্থাপনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সিটি করপোরেশনের বক্তব্য
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এনালগ বিলবোর্ড স্থাপনে চালকদের সমস্যা হওয়ার কথা না। আর এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করা নিয়ে আমরা কোনো সমস্যা দেখছি না।’
এনালগ বিলবোর্ড পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলইডি বিলবোর্ড যখন ছিল, তখন আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছিলাম। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে আমরা তাদের বলেছি, মেট্রোরেল লাইনের নিচে কোনো ধরনের এলইডি বিলবোর্ড করা যাবে না এবং এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করলে সেটির আকার আরও ছোট করতে হবে। এছাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে কোনো বিলবোর্ড রাখা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। হয়তো কোনো জায়গায় এটি বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনো জায়গায় হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, যেসব মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘যাদেরকে বিলবোর্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে, তাদের বারবার বলা হয়েছে, এগুলোর আশপাশে গাছ লাগাতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে। এসব শর্তে আমরা তাদের বিলবোর্ড ইজারা দিয়েছি।’
ইজারাদাররা যা বলছেন
এনালগ বিলবোর্ডে থাকা বিজ্ঞাপন দেওয়ার মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মো. বাবুল নামের একজন ইজারাদার বলেন, ‘আমি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে এই বিলবোর্ড ইজারা নিয়েছি।’ সানরাইস এবং এক্সেস ট্রেডিং নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে ইজারা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাবুল বলেন, ‘আমি পুরানা পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ইজারা নিয়েছি। এগুলোতে বাংলালিংক, রবি, গ্রামীণ এবং ইউনিলিভারের মতো বড় বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।’
ইজারাদার বাবুল আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বেশকিছু বিলবোর্ড খালি রয়েছে। বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দিতে পারিনি।’ কত দিনের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় এবং খরচ কেমন- জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঢাকায় ফিরেছে এনালগ বিলবোর্ড, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
মেহেদী হাছান মাহীম

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় আবারও দেখা যাচ্ছে এনালগ বিলবোর্ড। প্রায় ১০ বছর এ ধরনের বিলবোর্ড স্থাপনের কাজ বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি মেট্রোরেল লাইনের নিচে সারি সারি নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই বিলবোর্ডে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়বে তেমনি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের মাঝখানে মেট্রোরেলের লাইনের নিচে একাধিক এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিলবোর্ডের বেশিরভাগেই বিজ্ঞাপন রয়েছে, অল্পকিছু বিলবোর্ডে এখনো ফাঁকা। বিলবোর্ডে ছোট কাগজে লেখা রয়েছে ‘কল ফর অ্যাড’ এবং একটি মোবাইল নম্বর।
সরেজমিন আরও দেখা গেছে, পুরানা পল্টন মোড় এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষাভবন মোড় পর্যন্ত এনালগ বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন নেই। তবে ওই স্থান থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিলবোর্ডে আকিজ গ্রুপ এবং বিকাশের বিজ্ঞাপন রয়েছে। এছাড়া শাহবাগ মোড় থেকে কারওয়ান বাজার মোড় পর্যন্ত কিছু বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন আছে।
বিলবোর্ড নিয়ে চালকদের অভিযোগ
সড়কের পাশে এবং মাঝখানে স্থাপিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্র ও বিলবোর্ড নিয়ে যানবাহন চালকেরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ এগুলোকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেছেন, এসব বিজ্ঞাপন মুহূর্তের জন্য হলেও গাড়ি চালানোর সময় মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়।
মোটরসাইকেল চালক মো. আবীর জানান, সড়কে থাকা বিলবোর্ডগুলো বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। তবে কখনো কখনো চোখ বিজ্ঞাপনের দিকে চলে গেলে সাময়িকভাবে মোটরসাইকেল চালাতে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয় । যদিও এ কারণে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হননি।
আরেক মোটরসাইকেল চালক রিজওয়ান বলেন, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে থাকা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও বিলবোর্ডের কারণে কয়েকবার চালানোর সময় তিনি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন। একবারতো তিনি অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
কী বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সিটি করপোরেশনের জন্য বিলবোর্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের উৎস। তবে শুধু আয়ের কথা বিবেচনা করে যত্রতত্র বিলবোর্ড স্থাপন করা উচিত নয়। অতীতেও অপরিকল্পিতভাবে বিলবোর্ড বসানোর কারণে নগরীর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়েছে।
আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, কোথায় বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে আর কোথায় যাবে না-সে বিষয়গুলো নগর পরিকল্পনায় থাকা প্রয়োজন। এজন্য সিটি করপোরেশনের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিলবোর্ড রয়েছে, তবে সেগুলো নীতিমালা অনুযায়ী স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের মতো যত্রতত্র বিলবোর্ড বসানোর প্রবণতা সেখানে দেখা যায় না। বিলবোর্ড স্থাপনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সিটি করপোরেশনের বক্তব্য
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এনালগ বিলবোর্ড স্থাপনে চালকদের সমস্যা হওয়ার কথা না। আর এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করা নিয়ে আমরা কোনো সমস্যা দেখছি না।’
এনালগ বিলবোর্ড পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলইডি বিলবোর্ড যখন ছিল, তখন আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছিলাম। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে আমরা তাদের বলেছি, মেট্রোরেল লাইনের নিচে কোনো ধরনের এলইডি বিলবোর্ড করা যাবে না এবং এনালগ বিলবোর্ড স্থাপন করলে সেটির আকার আরও ছোট করতে হবে। এছাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে কোনো বিলবোর্ড রাখা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। হয়তো কোনো জায়গায় এটি বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনো জায়গায় হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, যেসব মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘যাদেরকে বিলবোর্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে, তাদের বারবার বলা হয়েছে, এগুলোর আশপাশে গাছ লাগাতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে। এসব শর্তে আমরা তাদের বিলবোর্ড ইজারা দিয়েছি।’
ইজারাদাররা যা বলছেন
এনালগ বিলবোর্ডে থাকা বিজ্ঞাপন দেওয়ার মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মো. বাবুল নামের একজন ইজারাদার বলেন, ‘আমি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে এই বিলবোর্ড ইজারা নিয়েছি।’ সানরাইস এবং এক্সেস ট্রেডিং নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে ইজারা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাবুল বলেন, ‘আমি পুরানা পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ইজারা নিয়েছি। এগুলোতে বাংলালিংক, রবি, গ্রামীণ এবং ইউনিলিভারের মতো বড় বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।’
ইজারাদার বাবুল আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বেশকিছু বিলবোর্ড খালি রয়েছে। বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দিতে পারিনি।’ কত দিনের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় এবং খরচ কেমন- জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।




