শিরোনাম

ইংলিশ রোডে অ্যাংগেল রডের বাজারে স্বস্তি

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
শেখ শাহরিয়ার হোসেন
ইংলিশ রোডে অ্যাংগেল রডের বাজারে স্বস্তি
পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে অ্যাংগেল, রডসহ বিভিন্ন ধরনের স্টিলজাত নির্মাণসামগ্রীর অন্যতম পাইকারি বাজার

রাজধানীর পুরান ঢাকার ইংলিশ রোড দীর্ঘদিন ধরেই অ্যাংগেল, রডসহ বিভিন্ন ধরনের স্টিলজাত নির্মাণসামগ্রীর অন্যতম পাইকারি বাজার। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারি, ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রকল্পের সরবরাহকারীরা প্রয়োজনীয় অ্যাংগেল রড কিনতে এখানে আসেন। কয়েক মাস আগেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় ঊর্ধ্বমুখী ছিল রডের দাম। তবে বর্তমানে দাম কিছুটা কমে আসায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবুও প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত অ্যাংগেল রড সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে। ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও বড় অর্ডারের সংখ্যা তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বর্তমানে দেড় ইঞ্চি তিন মিলিমিটার প্রতি টন অ্যাংগেল রডের মূল্য ৮৬ হাজার টাকা। দেড় ইঞ্চি বাই তিন মিলিমিটার সাইজের চ্যানেল রড প্রতি টনের দাম প্রায় ৮৯ হাজার টাকা। অথচ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় একই রডের দাম ৯৫ থেকে ৯৭ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় কাঁচামালের বাজারেও চাপ কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমলেও বিক্রি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাদের মতে, প্রতি টনের দাম ৭০ হাজার টাকার মধ্যে নেমে এলে নির্মাণ খাতে নতুন গতি আসবে এবং ক্রেতাদের জন্যও তা অনেক বেশি সহনীয় হবে।

ইংলিশ রোডের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে অ্যাংগেল রডের প্রধান ক্রেতা বিভিন্ন খামারি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ছোট-বড় নির্মাণ ঠিকাদার এবং সরকারি প্রকল্পের সরবরাহকারীরা। বাজারে বিক্রি কম হওয়ার আরেকটি বড় কারণ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শুরু না হওয়া। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও বড় বড় টেন্ডার এখনো আগের মতো চালু হয়নি। এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হলে বাজারে বড় অর্ডার আসবে এবং বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বর্তমানে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) তাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্যাটের কারণে একদিকে পণ্যের দাম বাড়ে, অন্যদিকে ক্রেতাদের আগ্রহও কমে যায়। ফলে ব্যবসায়ীদের লাভের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।

ইংলিশ রোডের ব্যবসায়ী ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় প্রতি টন অ্যাংগেল রড ৯৫ থেকে ৯৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন ৮৯ হাজার টাকায় নেমেছে। দাম কিছুটা কমায় ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও বিক্রি আশানুরূপ বাড়েনি।’

হেলেন আয়রণ অ্যান্ড স্টিল স্টোরের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের বাজারে বেশিরভাগ রডই দেশীয় কারখানা থেকে আসে। পণ্যের মানও ভালো। কিন্তু ১৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যবসার জন্য বড় সমস্যা। সরকার যদি ভ্যাট কমায় এবং সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, তাহলে বাজার আবার চাঙা হয়ে উঠবে।’

গাজীপুর থেকে একটি গরুর খামারের জন্য রড কিনতে আসা ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে, এটা ভালো খবর। কিন্তু এখনও দাম অনেক বেশি। প্রতি টন যদি ৭০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, তাহলে আমাদের মতো খামারিদের জন্য অনেক সুবিধা হতো।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের নির্মাণশিল্পের সঙ্গে এই বাজারের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। নির্মাণকাজ বাড়লে ইংলিশ রোডের ব্যবসাও বাড়ে, আবার নির্মাণ খাত স্থবির হলে এর প্রভাব সরাসরি পড়ে অ্যাংগেল রডের বাজারে। তাই তারা আশা করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন টেন্ডার কার্যক্রম দ্রুত শুরু হলে এবং করের চাপ কিছুটা কমানো হলে বাজারে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। একই সঙ্গে দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে নামলে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক উভয় ধরনের নির্মাণকাজে অ্যাংগেল রডের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

/এমআর/