শিরোনাম

নবম পে স্কেলে বদলে যাচ্ছে ইনক্রিমেন্টের নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নবম পে স্কেলে বদলে যাচ্ছে ইনক্রিমেন্টের নিয়ম
নবম পে স্কেল। ছবি: সিজেডএন গ্রাফিক্স

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বর্তমান পদ্ধতি বাতিল হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন, আর উচ্চ গ্রেডে ইনক্রিমেন্টের হার কমানো হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেলের প্রাথমিক খসড়ায় ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম গ্রেড নির্ধারিত থাকছে। বর্তমানে সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর রয়েছে।

খসড়া চূড়ান্ত করতে পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত সচিব কমিটি ও অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শিগগির এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে, যা কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। এর আগে বেতন স্কেলের যৌক্তিকতা, ইনক্রিমেন্ট ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সরকার অনলাইন ও অফলাইনে জরিপ পরিচালনা করেছে। সেই মতামতের ভিত্তিতেই খসড়ায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেতন স্কেল বাড়ানোর পাশাপাশি বেতন কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কিছু ভাতার হার কমানো হচ্ছে। তবে বর্তমান হারের তুলনায় সেটি বেশি।

জানা গেছে, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নবম বেতন কাঠামোতে প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার এবং ২০তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৫০ হাজারে নামিয়ে আনার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন গ্রেডে ২০ হাজার টাকা থেকে কিছুটা কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

সরকারের জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০, বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে সর্বমোট বেতন-ভাতা হয় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন বেতন স্কেলে ২০তম গ্রেডের সম্ভাব্য কর্মচারীর মূল বেতন (২০ হাজার টাকা) ও ভাতা মিলে সর্বমোট বেতন-ভাতা হবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

একইভাবে ১৯তম গ্রেড থেকে ১নং গ্রেড পর্যন্ত ভাতা অনেক বাড়বে। তবে যুক্তিসংগত বিবেচনা ও সমতা বিধানের স্বার্থে এই বাড়ার হার তুলনামূলকভাবে কম হবে। কিছু কিছু ভাতা আছে, যা দশম বা ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন। যেমন যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা, ঝুঁকিভাতা (যার যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। এজন্য প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার কমানো হচ্ছে।

জানা গেছে, সব ধরনের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে। প্রথম ধাপে অর্থাৎ মূল বেতনের শতভাগ দেওয়া হবে। পরবর্তী অর্থবছরে দেওয়া হবে ভাতা।

/এফসি/