
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক


কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমার্ধে স্পেনের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করলো পর্তুগাল। তবে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে চলছিল যোগ করা সময়ের খেলা। প্রথম মিনিটেই গোল করেন ৮৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মিকেল মেরিনো। বাকি সময়ে ব্যবধান ধরে রেখে (১-০) ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন।
ফ্রি-কিক থেকে ছোট পাসে খেলা শুরু করে স্পেন। ফাবিয়ান রুইস বল পৌঁছে দেন ফেরান তোরেসের কাছে। বক্সের কোনায় দারুণ টার্ন নিয়ে তোরেস নিখুঁত থ্রু পাস বাড়ান মেরিনোর জন্য। পর্তুগাল ডিফেন্ডারদের মাঝ দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে গোলকিপারকে একা সামনে পেয়ে ঠান্ডা মাথায় কাছের পোস্ট বল জালে জড়ান মেরিনো।
ম্যাচে দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে পর্তুগালের চেয়ে স্পেনের দাপটই ছিল বেশি। পুরো সময়ে স্পেন গোলের জন্য ১৫টি শট নেয়, যার ৫টি ছিল লক্ষ্যে। পর্তুগালের ১০ শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে ছিল। এই ম্যাচে ইয়ামাল আর রোনালদোর লড়াই দেখতে মুখিয়ে ছিলেন ফুটবল ভক্তরা। তবে রোনালদো ম্যাচে মাত্র ১৯ বার বল টাচ করেছেন। গোলের জন্য শট নেন ৩টি যার একটি ছিল লক্ষ্যে। অপরদিকে ইয়ামাল ৬১ বার বলে টাচ করেন। তিনিও ৩টি শট নেন। তবে ইয়ামাল ডুয়েল জিতেছেন ১০ বার।
এর আগে ম্যাচের অষ্টম মিনিটে তো লিড পেয়ে যেতে পারতো স্পেন। বল নিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন ওইয়ারসাবাল। তার সামনে ছিলেন কেবল পর্তুগালের গোলকিপার দিয়েগো কস্তা। কিন্তু ওইয়ারসাবালের নেওয়া শটটি লক্ষ্যে ছিল না। সাইডবারের পাশ দিয়ে চলে যায় বল। পরের মিনিটে রোনালদোর শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন। ৩৮ মিনিটে ফেলিক্সের হেড ফিরিয়ে দিয়ে জাল অক্ষত রাখেন স্প্যানিশ গোলকিপার। ৪১ মিনিটে মেন্দেসের শট বারে লাগে। ৫৬ মিনিটে ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন মেন্দেস। দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনই বেশি আক্রমণ করে। তবে লা রোজাদের বেশ কয়েকবার গোল বঞ্চিত করেন কস্তা, এরপর মেরিনোর গোলে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়। এবারের টুর্নামেন্টে গোল হজম না করার রেকর্ড বজায় রাখলো স্পেন।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জানিয়েছেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে যে আর বিশ্বকাপে দেখা যাবে না তা নিশ্চিত বলাই যায়। মাছ ছাড়ার আগে তার চোখে অশ্রু দেখা গেছে।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দিয়েছেন মিকেল মেরিনো। ফেরান তোরেসের কাছ থেকে বল পেয়ে গোলটি করেন তিনি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেরও ১৫ মিনিট শেষ। তবে দুই দলের কেউই এখনো গোল করতে পারেনি। বলার মতো তেমন বড় কোনো আক্রমণও করতে পারেনি স্পেন-পর্তুগাল। এদিকে ৫৬ মিনিটে চোট নিয়ৈ মাঠ ছেড়েছেন পর্তুগালের নুনো মেন্দেস। তার বদলে মাঠে নামেন নেলসন সেমেদো।

স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হলো। এই অর্ধে গোল না এলেও দুই দলই চেষ্টা কম করেনি। স্পেন গোলের উদ্দেশ্যে ৮টি শট নেয় যার ৩টি ছিল লক্ষ্যে। পর্তুগালের ৫ শটের ৩টি ছিল লক্ষ্যে।
৪১ মিনিটের সময় নুনো মেন্দেসের শট বারে না লাগলে গোল পেতে পারতো পর্তুগাল। এছাড়া রোনালদোর দারুণ একটি অ্যাক্রোবেটিক চেষ্টা রুখে দেন স্পেনের গোলকিপার সিমন। শুরুর দিকে পর্তুগাল দিয়েগো কস্তাকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল।
বল স্পেনের দখলে ছিল ৫৫ শতাংশ সময়ে, ৪৫ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরাবেন কে সেটি দেখার।
ম্যাচের ৪১ মিনিটে নুনো মেন্দেসের শট লেগেছে বারে। তার আগে রোনালদো বক্সের ভেতর দারুণ একটি অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টা নেন গোলের। তবে সেটিও ঠেকিয়ে দেন সিমন।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে ডাবল সেভ দেন পর্তুগালের গোলকিপার কস্তা। রদ্রি বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। তিনি বল বাড়ান ডানদিকে থাকা লামিন ইয়ামালের কাছে। জোরালো শট নেন ইয়ামাল, তবে সেটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন কস্তা। ফিরে আসা বল পেয়ে আবার শট নেন আলেক্স বায়েনা। স্পেনকে হতাশ করেন কস্তা, দুর্দান্ত এক সেভে রুখে দেন সেই প্রচেষ্টাও।

ম্যাচের ১১তম মিনিটে গোলের উদ্দেশ্যে শট করেছিলেন রোনালদো। তবে সেটি কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন স্পেনের গোলকিপার সিমন। তার আগে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল স্পেনের। কিন্তু গোলকিপারকে একা পেয়েও বল বাইরে মেরেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। স্পেন-পর্তুগাল দুই দলই খেলছে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে।
২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন-পর্তুগাল। ওই ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও দেখা দুই দলের। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এরই মধ্যে ঘোষণা করেছেন এটি তার শেষ বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারে রোনালদো বলতে গেলে সব কিছুই জিতেছেন শুধু বিশ্বকাপ বাদে। জয়ে রোনালদো আরেক ধাপ এগিয়ে যাবেন নাকি আজই লেখা হবে তার বিশ্বকাপ অধ্যায়ের শেষ।

পর্তুগাল একাদশ: দিয়োগো কস্তা, জোয়াও কানসেলো, রুবেন দিয়াস, রেনাতো ভেইগা, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, পেদ্রো নেতো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও ফেলিক্স, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
স্পেন একাদশ: উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, এমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল, আলেক্স বায়েনা।