সরকারি দপ্তরের ঘুষের অভিযোগ জানাতে ‘ওয়েবসাইট’ চালু

সরকারি দপ্তরের ঘুষের অভিযোগ জানাতে ‘ওয়েবসাইট’ চালু
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন কিংবা জমির নামজারি কোথায় কত ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, সেই তথ্য এবার জমা হবে এক জায়গায়। পরিচয় প্রকাশ ছাড়াই ঘুষের অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দিতে চালু হয়েছে ‘ঘুষসাইট’। ওয়েবসাইটটিতে সরকারি দপ্তর, সেবা, আনুমানিক স্থান, দাবিকৃত ঘুষের পরিমাণ ও ফলাফল জানাতে পারছেন ভুক্তভোগীরা। গত ২১ আগস্ট চালু হওয়া ওয়েবসাইটটির ঠিকানা www.ghush.site।
‘উল্লেখ করুন দপ্তর, উল্লেখ করুন দাবি, গোপন রাখুন ব্যক্তির পরিচয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সাইফ কবীর (২৩) ও শহীদ শরীফ (১৮) নামে দুই তরুণ। সাইফ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও মার্কেটিংয়ে ডাবল মেজর করছেন। সহ উদ্যোক্তা শাহেদ শরিফ এ লেভেলের শিক্ষার্থী ও ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার।
উদ্যোক্তা সাইফ কবীর সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে জানান, ভারতে একটি ওয়েবসাইট দেখে বাংলাদেশেও একই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা করেন। পরে শাহেদ শরীফকে বিষয়টি জানান। ‘কেউ একজন বানানো উচিত’ এভাবে না ভেবে তারা নিজেরাই একদিনের মধ্যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। গত ২১ আগস্ট এটি চালু হয়। ‘Report a bribe’ অপশনে গিয়ে দপ্তর, সেবা, জেলা-শহর, দাবিকৃত অর্থ ও ঘটনার ফলাফল জানানো যায়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই মিনিটেরও কম সময় লাগে।
অভিযোগকারীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে এতে কোনো অ্যাকাউন্ট, নাম, ই-মেইল, ফোন নম্বর বা ডিভাইস আইডেন্টিফায়ার নেওয়া হয় না।এমনকি রিপোর্টের ডেটাবেজে আইপি অ্যাড্রেসের কোনো ফিল্ডও নেই। তবে হোস্টিং ও নেটওয়ার্ক সেবাদাতারা নেটওয়ার্ক ডেটা প্রক্রিয়া করতে পারে বলে জানান সাইফ। এতে ব্যক্তিগত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নাম না দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয় না। গালিগালাজ, স্প্যাম, পুনরাবৃত্ত বা সমন্বিত ভুয়া রিপোর্ট ঠেকাতে মডারেশন করা হয়। ভবিষ্যতে ডেটার মান উন্নত করা, ঢাকার বাইরের জেলা কভারেজ বাড়ানো এবং সাংবাদিক-গবেষকদের জন্য তথ্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সাইফের।
তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, বাংলাদেশে ঘুষ আছে এটা সবাই জানে। কিন্তু এর পরিমাণ বা কোন সেবায় কত ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তার কোনো হিসাব নেই। আমরা সেই জায়গাটা পূরণ করতে চেয়েছি। ঘুষের অভিযোগ যাচাই করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং বিভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা এক জায়গায় এনে সরকারি সেবায় ঘুষের সম্ভাব্য ধরন ও প্রবণতা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।
ওয়েবসাইটটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৫৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবিকৃত ঘুষের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৫৯ টি, চট্টগ্রামে ১৩৩টি, সিলেটে ৩৩টি, রাজশাহী ও খুলনায় ৩২টি করে, রংপুরে ৩১টি, ময়মনসিংহে ২১টি এবং বরিশালে তেরো অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব তথ্যকে সরকারি বা যাচাইকৃত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিটি তথ্যই ব্যবহারকারীর দেওয়া এবং যাচাইবিহীন।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় একটি মডারেশন ব্যবস্থা সেটি পরীক্ষা করে। উদ্যোক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই ব্যবস্থা নাম, ফোন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ফাইল নম্বরসহ ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে। একইসঙ্গে স্প্যাম ও আপত্তিকর কনটেন্টও শনাক্ত করা হয়।
সাইফ কবীর বলেন, ‘এটি প্রাইভেসি ফিল্টার, সত্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নয়। কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটেছে কি না, সেটি এই সিস্টেম নিশ্চিত করে না।’
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যকে তাই ‘অভিযোগ’ হিসেবেই বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে তথ্য প্রকাশ না করার নীতিও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান এ উদ্যোক্তা।
সাইফের মতে, একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগের চেয়ে একই দপ্তর বা সেবাকে ঘিরে বহু মানুষের একই ধরনের অভিযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘একজন বললেন লাইসেন্স করতে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে, এটা একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু একই অফিসে ৪০ জন একই ধরনের অভিযোগ করলে সেটি একটি প্যাটার্ন তৈরি করে।’
তার মতে, এই তথ্য ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের কাজে আসতে পারে। কোনো সরকারি দপ্তরে যাওয়ার আগে সেবাগ্রহীতারা অভিযোগগুলো দেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ একটি অভিযোগে পাসপোর্টের জন্য ১৫০০ টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। আরেকটি অভিযোগে পোর্ট থেকে মালামাল সরানোর জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে উদ্যোক্তা সাইফ কবীর আবারও স্পষ্ট করেছেন, এসব কোনো ঘটনাকেই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ সত্য বা প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করছে না।
ঘুষসাইটের উদ্যোক্তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে উদ্যোক্তারা বলছেন, এটি কোনো সরকারি অভিযোগ গ্রহণের বিকল্প ব্যবস্থা নয়। বরং মানুষের অভিজ্ঞতা বেনামে নথিবদ্ধ করে ঘুষের অভিযোগ নিয়ে একটি উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। ওয়েবসাইটটি উদ্যোক্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় কেউ চাইলে অনুদান দিতে পারবেন। তবে অভিযোগ জানাতে কোনো অর্থ বা অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন কিংবা জমির নামজারি কোথায় কত ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, সেই তথ্য এবার জমা হবে এক জায়গায়। পরিচয় প্রকাশ ছাড়াই ঘুষের অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দিতে চালু হয়েছে ‘ঘুষসাইট’। ওয়েবসাইটটিতে সরকারি দপ্তর, সেবা, আনুমানিক স্থান, দাবিকৃত ঘুষের পরিমাণ ও ফলাফল জানাতে পারছেন ভুক্তভোগীরা। গত ২১ আগস্ট চালু হওয়া ওয়েবসাইটটির ঠিকানা www.ghush.site।
‘উল্লেখ করুন দপ্তর, উল্লেখ করুন দাবি, গোপন রাখুন ব্যক্তির পরিচয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সাইফ কবীর (২৩) ও শহীদ শরীফ (১৮) নামে দুই তরুণ। সাইফ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও মার্কেটিংয়ে ডাবল মেজর করছেন। সহ উদ্যোক্তা শাহেদ শরিফ এ লেভেলের শিক্ষার্থী ও ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার।
উদ্যোক্তা সাইফ কবীর সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে জানান, ভারতে একটি ওয়েবসাইট দেখে বাংলাদেশেও একই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা করেন। পরে শাহেদ শরীফকে বিষয়টি জানান। ‘কেউ একজন বানানো উচিত’ এভাবে না ভেবে তারা নিজেরাই একদিনের মধ্যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। গত ২১ আগস্ট এটি চালু হয়। ‘Report a bribe’ অপশনে গিয়ে দপ্তর, সেবা, জেলা-শহর, দাবিকৃত অর্থ ও ঘটনার ফলাফল জানানো যায়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই মিনিটেরও কম সময় লাগে।
অভিযোগকারীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে এতে কোনো অ্যাকাউন্ট, নাম, ই-মেইল, ফোন নম্বর বা ডিভাইস আইডেন্টিফায়ার নেওয়া হয় না।এমনকি রিপোর্টের ডেটাবেজে আইপি অ্যাড্রেসের কোনো ফিল্ডও নেই। তবে হোস্টিং ও নেটওয়ার্ক সেবাদাতারা নেটওয়ার্ক ডেটা প্রক্রিয়া করতে পারে বলে জানান সাইফ। এতে ব্যক্তিগত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নাম না দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয় না। গালিগালাজ, স্প্যাম, পুনরাবৃত্ত বা সমন্বিত ভুয়া রিপোর্ট ঠেকাতে মডারেশন করা হয়। ভবিষ্যতে ডেটার মান উন্নত করা, ঢাকার বাইরের জেলা কভারেজ বাড়ানো এবং সাংবাদিক-গবেষকদের জন্য তথ্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সাইফের।
তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, বাংলাদেশে ঘুষ আছে এটা সবাই জানে। কিন্তু এর পরিমাণ বা কোন সেবায় কত ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তার কোনো হিসাব নেই। আমরা সেই জায়গাটা পূরণ করতে চেয়েছি। ঘুষের অভিযোগ যাচাই করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং বিভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা এক জায়গায় এনে সরকারি সেবায় ঘুষের সম্ভাব্য ধরন ও প্রবণতা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।
ওয়েবসাইটটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৫৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবিকৃত ঘুষের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৫৯ টি, চট্টগ্রামে ১৩৩টি, সিলেটে ৩৩টি, রাজশাহী ও খুলনায় ৩২টি করে, রংপুরে ৩১টি, ময়মনসিংহে ২১টি এবং বরিশালে তেরো অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব তথ্যকে সরকারি বা যাচাইকৃত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিটি তথ্যই ব্যবহারকারীর দেওয়া এবং যাচাইবিহীন।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় একটি মডারেশন ব্যবস্থা সেটি পরীক্ষা করে। উদ্যোক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই ব্যবস্থা নাম, ফোন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ফাইল নম্বরসহ ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে। একইসঙ্গে স্প্যাম ও আপত্তিকর কনটেন্টও শনাক্ত করা হয়।
সাইফ কবীর বলেন, ‘এটি প্রাইভেসি ফিল্টার, সত্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নয়। কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটেছে কি না, সেটি এই সিস্টেম নিশ্চিত করে না।’
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যকে তাই ‘অভিযোগ’ হিসেবেই বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে তথ্য প্রকাশ না করার নীতিও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান এ উদ্যোক্তা।
সাইফের মতে, একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগের চেয়ে একই দপ্তর বা সেবাকে ঘিরে বহু মানুষের একই ধরনের অভিযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘একজন বললেন লাইসেন্স করতে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে, এটা একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু একই অফিসে ৪০ জন একই ধরনের অভিযোগ করলে সেটি একটি প্যাটার্ন তৈরি করে।’
তার মতে, এই তথ্য ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের কাজে আসতে পারে। কোনো সরকারি দপ্তরে যাওয়ার আগে সেবাগ্রহীতারা অভিযোগগুলো দেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ একটি অভিযোগে পাসপোর্টের জন্য ১৫০০ টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। আরেকটি অভিযোগে পোর্ট থেকে মালামাল সরানোর জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে উদ্যোক্তা সাইফ কবীর আবারও স্পষ্ট করেছেন, এসব কোনো ঘটনাকেই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ সত্য বা প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করছে না।
ঘুষসাইটের উদ্যোক্তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে উদ্যোক্তারা বলছেন, এটি কোনো সরকারি অভিযোগ গ্রহণের বিকল্প ব্যবস্থা নয়। বরং মানুষের অভিজ্ঞতা বেনামে নথিবদ্ধ করে ঘুষের অভিযোগ নিয়ে একটি উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। ওয়েবসাইটটি উদ্যোক্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় কেউ চাইলে অনুদান দিতে পারবেন। তবে অভিযোগ জানাতে কোনো অর্থ বা অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সরকারি দপ্তরের ঘুষের অভিযোগ জানাতে ‘ওয়েবসাইট’ চালু
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন কিংবা জমির নামজারি কোথায় কত ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, সেই তথ্য এবার জমা হবে এক জায়গায়। পরিচয় প্রকাশ ছাড়াই ঘুষের অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দিতে চালু হয়েছে ‘ঘুষসাইট’। ওয়েবসাইটটিতে সরকারি দপ্তর, সেবা, আনুমানিক স্থান, দাবিকৃত ঘুষের পরিমাণ ও ফলাফল জানাতে পারছেন ভুক্তভোগীরা। গত ২১ আগস্ট চালু হওয়া ওয়েবসাইটটির ঠিকানা www.ghush.site।
‘উল্লেখ করুন দপ্তর, উল্লেখ করুন দাবি, গোপন রাখুন ব্যক্তির পরিচয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সাইফ কবীর (২৩) ও শহীদ শরীফ (১৮) নামে দুই তরুণ। সাইফ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও মার্কেটিংয়ে ডাবল মেজর করছেন। সহ উদ্যোক্তা শাহেদ শরিফ এ লেভেলের শিক্ষার্থী ও ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার।
উদ্যোক্তা সাইফ কবীর সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে জানান, ভারতে একটি ওয়েবসাইট দেখে বাংলাদেশেও একই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা করেন। পরে শাহেদ শরীফকে বিষয়টি জানান। ‘কেউ একজন বানানো উচিত’ এভাবে না ভেবে তারা নিজেরাই একদিনের মধ্যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। গত ২১ আগস্ট এটি চালু হয়। ‘Report a bribe’ অপশনে গিয়ে দপ্তর, সেবা, জেলা-শহর, দাবিকৃত অর্থ ও ঘটনার ফলাফল জানানো যায়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই মিনিটেরও কম সময় লাগে।
অভিযোগকারীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে এতে কোনো অ্যাকাউন্ট, নাম, ই-মেইল, ফোন নম্বর বা ডিভাইস আইডেন্টিফায়ার নেওয়া হয় না।এমনকি রিপোর্টের ডেটাবেজে আইপি অ্যাড্রেসের কোনো ফিল্ডও নেই। তবে হোস্টিং ও নেটওয়ার্ক সেবাদাতারা নেটওয়ার্ক ডেটা প্রক্রিয়া করতে পারে বলে জানান সাইফ। এতে ব্যক্তিগত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নাম না দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয় না। গালিগালাজ, স্প্যাম, পুনরাবৃত্ত বা সমন্বিত ভুয়া রিপোর্ট ঠেকাতে মডারেশন করা হয়। ভবিষ্যতে ডেটার মান উন্নত করা, ঢাকার বাইরের জেলা কভারেজ বাড়ানো এবং সাংবাদিক-গবেষকদের জন্য তথ্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সাইফের।
তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, বাংলাদেশে ঘুষ আছে এটা সবাই জানে। কিন্তু এর পরিমাণ বা কোন সেবায় কত ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তার কোনো হিসাব নেই। আমরা সেই জায়গাটা পূরণ করতে চেয়েছি। ঘুষের অভিযোগ যাচাই করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং বিভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা এক জায়গায় এনে সরকারি সেবায় ঘুষের সম্ভাব্য ধরন ও প্রবণতা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।
ওয়েবসাইটটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৫৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবিকৃত ঘুষের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৫৯ টি, চট্টগ্রামে ১৩৩টি, সিলেটে ৩৩টি, রাজশাহী ও খুলনায় ৩২টি করে, রংপুরে ৩১টি, ময়মনসিংহে ২১টি এবং বরিশালে তেরো অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব তথ্যকে সরকারি বা যাচাইকৃত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিটি তথ্যই ব্যবহারকারীর দেওয়া এবং যাচাইবিহীন।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় একটি মডারেশন ব্যবস্থা সেটি পরীক্ষা করে। উদ্যোক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই ব্যবস্থা নাম, ফোন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ফাইল নম্বরসহ ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে। একইসঙ্গে স্প্যাম ও আপত্তিকর কনটেন্টও শনাক্ত করা হয়।
সাইফ কবীর বলেন, ‘এটি প্রাইভেসি ফিল্টার, সত্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নয়। কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটেছে কি না, সেটি এই সিস্টেম নিশ্চিত করে না।’
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যকে তাই ‘অভিযোগ’ হিসেবেই বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে তথ্য প্রকাশ না করার নীতিও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান এ উদ্যোক্তা।
সাইফের মতে, একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগের চেয়ে একই দপ্তর বা সেবাকে ঘিরে বহু মানুষের একই ধরনের অভিযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘একজন বললেন লাইসেন্স করতে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে, এটা একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু একই অফিসে ৪০ জন একই ধরনের অভিযোগ করলে সেটি একটি প্যাটার্ন তৈরি করে।’
তার মতে, এই তথ্য ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের কাজে আসতে পারে। কোনো সরকারি দপ্তরে যাওয়ার আগে সেবাগ্রহীতারা অভিযোগগুলো দেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ একটি অভিযোগে পাসপোর্টের জন্য ১৫০০ টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। আরেকটি অভিযোগে পোর্ট থেকে মালামাল সরানোর জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে উদ্যোক্তা সাইফ কবীর আবারও স্পষ্ট করেছেন, এসব কোনো ঘটনাকেই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ সত্য বা প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করছে না।
ঘুষসাইটের উদ্যোক্তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে উদ্যোক্তারা বলছেন, এটি কোনো সরকারি অভিযোগ গ্রহণের বিকল্প ব্যবস্থা নয়। বরং মানুষের অভিজ্ঞতা বেনামে নথিবদ্ধ করে ঘুষের অভিযোগ নিয়ে একটি উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। ওয়েবসাইটটি উদ্যোক্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় কেউ চাইলে অনুদান দিতে পারবেন। তবে অভিযোগ জানাতে কোনো অর্থ বা অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শিক্ষকদের অবসরভাতায় ঘুষ লেনদেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ
গুনে গুনে ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল, সেই ভূমি কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
পণ্যের হালাল সনদ নিতে ঘুষ দিতে হয়, অভিযোগ ব্যবসায়ীদের







