শিরোনাম

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন
হুমায়ুন কবির

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা থেকে এবার সরাসরি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হয়েছেন হুমায়ুন কবির। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে শপথ নেন। সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও আড়াই বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে লেবার পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বও নেন হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না।

জন্মসূত্রে অন্য দেশের নাগরিকেরা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেলে জন্মগ্রহণকারী দেশ এবং যুক্তরাজ্য দুই দেশের পাসপোর্টই রাখতে পারেন। তবে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ধারায় বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাদের সংখ্যার অন্যূর্ন নয়-দশমাংশ সংসদ সদস্যের মধ্যে হতে হবে। আর অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবে। অর্থাৎ নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন এমন ১০ জনের ১ জন ব্যক্তিকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী করা যাবে। তবে শর্ত হলো তাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে।

সংবিধানের ৬৬ ধারার ২(গ)-তে উল্লেখ আছে, ‘কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা থাকার যোগ্য হবেন না যদি তিনি কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন কিংবা কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ২৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। তবে হুমায়ুন কবির বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না কিংবা ত্যাগ করার জন্য আবেদন করেছেন কি না সে বিষয়ে ধোঁয়াশা তেরি হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। এর ৬ দিন পর সাধারণ পাসপোর্ট (সবুজ) জমা দিয়ে ওই মাসেই সরকারি বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল) নিয়ে সৌদি আরব সফরে যান। গত ছয় মাসে সরকারি পাসপোর্ট নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ভারত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, ফিলিপাইনসহ অন্তত ১১ বার বিদেশ সফর করেছেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন যে হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিক। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ (রিনাউন্স) করেছেন কি না, তা তারা নিশ্চিত করতে পারেননি। এমনকি হুমায়ুন কবির নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন কি না এমন তথ্যও জানাতে পারেনি সরকারের সূত্র।

এ বিষয়ে জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে কারও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় হুমায়ুন কবিরের প্রতিমন্ত্রী হওয়াটা সাংবিধানিক কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রসঙ্গত, হুমায়ুন কবিরের জন্ম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার হবসপুর গ্রামে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে পৃথক তিনটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি লন্ডনে মেয়রের দপ্তরে কৌশল সহকারী, লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টাসহ ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্রিটেনে লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

/জেএইচ/