শিরোনাম

ঢাকায় চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি, তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকায় চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি, তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সম্প্রতি একটি উগ্রবাদী সংগঠন থেকে ই-মেইল করে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেছে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনের (সিটিটিসি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল।

সিটিটিসি ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নামে ইমেইল করে চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর ও সিটিটিসিকে জানায় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। পরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঢাকার বারিধারায় চীনা দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার এডিসি মাহমুদ এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত অন্তত ১০ জন চীনা নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ ও চীনা কূটনীতিকদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।

সিটিটিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হুমকির খবর পেয়ে চীনা দূতাবাসে গিয়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কারা এবং কোন উগ্রবাদী সংগঠন থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে সেটি বের করার চেষ্টা চলছে।’

এদিকে চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ঢাকায় থাকা প্রত্যেকটি দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে গুলশানসহ বিদেশি কূটনীতিকদের বসবাস করা এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি হুমকিদাতা সংগঠনকে শনাক্ত এবং তাদের অবস্থান সনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দারা।

সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসব বস্তু নিষ্ক্রিয় করে। এর মধ্যে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির লিফলেট, দুটি বোমা সদৃশ বস্তুসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি মামুন ওরফে বোমা মামুনের ঘনিষ্ঠ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত বোমা মামুনের কোনো হদিস পায়নি। এছাড়াও সম্প্রতি জাতিসংঘ থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রবাদী সংগঠন আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। ওই বার্তার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি এলো।

/জেএইচ/