শিরোনাম

পণ্যের হালাল সনদ নিতে ঘুষ দিতে হয়, অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
পণ্যের হালাল সনদ নিতে ঘুষ দিতে হয়, অভিযোগ ব্যবসায়ীদের
হালাল ফর এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন কর্মশালায় অতিথিরা

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে পণ্যের হালাল সনদ নিতে ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘হালাল ফর এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন’ কর্মশালায় এই অভিযোগ করেন তারা।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। এতে অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবিএটি বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুল ইসলাম এবং নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক সভাপতি শাব্বির এ. খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দীন ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। শুধু কৃষিভিত্তিক বা খাদ্যপণ্য নয়, হালাল অর্থনীতির আওতায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে, যা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।

তিনি বলেন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮২ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতনির্ভর, যার রপ্তানি আয় প্রায় ৩৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে হালাল পণ্যের রপ্তানি মাত্র ৮৫ কোটি ডলার হলেও, এ খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারের আকার ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। যা ২০৩৪ সালে বেড়ে ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ভোক্তারাও স্বাস্থ্য, গুণগত মান, নৈতিকতা ও নিরাপত্তার কারণে হালাল পণ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক বাজারে হালাল পণ্যের মোট সম্ভাব্য চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে। ফলে এ খাতে এখনও বিশাল বাজারের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশকে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ‘হালাল ব্র্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

কর্মশালা থেকে হালাল পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশকে হালাল হাব হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করা, একক হালাল অথরিটি গঠন, উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত শরিয়াহ, স্বাস্থ্যবিধি ও নৈতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার স্থাপন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য সফল দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা এবং হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো উন্নয়ন।

কর্মশালায় এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশন অব টেস্টিং ল্যাব বাংলাদেশ-এর সভাপতি মো. আহসান হাবিব, বিসিআই পরিচালক জিয়া হায়দার মিঠু, বেঙ্গল মিটের হেড অব এক্সপোর্ট এ কে এম সায়াদুল হক, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক মো. খালেদ আবু নাসের ও বাংলা কেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী এম. এস. সিদ্দিকীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

/এসবি/