শিরোনাম

সেই শান্তই এখন সবার ওপরে

সেই শান্তই এখন সবার ওপরে

নাজমুল হোসেন শান্ত, নামের সঙ্গে শান্ত থাকলেও তার ক্যারিয়ারের শুরুটা মোটেই ‘শান্ত’ ছিল না। তার ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল অনেকটাই রোলার কোস্টারের মতো। এই ওপরে উঠছে তো কিছুক্ষণ পরেই আবার দুম করে নিচে নামছে! টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি; আশা জাগানিয়া শুরুর পর ইনিংসগুলো বড় করতে পারতেন না। এর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকারও হতে হয়েছে অনেক।

শান্তর ব্যাটিং ক্যারিয়ারই কি শুধু রোলার কোস্টারের মতো ছিল, অধিনায়কত্বেও কত উত্থান-পতন। একটা সময় তিন সংস্করণেই বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন শান্ত। পরে টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কিছুদিন দুই সংস্করণে অধিনায়কত্ব করা শান্তর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় ওয়ানডের নেতৃত্বও। বিরক্ত হয়েই কিনা, নিজে থেকেই একটা সময় টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন।

চার মাস পর আবার টেস্ট দলের নেতৃত্বে ফিরে এখন দলকে টেনে তুলছেন শান্ত। তার ব্যাটিং আর অধিনায়কত্বেও এখন যেন শান্তি নেমে এসেছে। রোলার কোস্টার অবস্থা থেকে এখন অনেকটাই স্থির শান্তর ক্যারিয়ার ও টেস্ট দলের নেতৃত্ব। দারুণ ব্যাটিং দিয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আগলে রাখছেন দারুণভাবে।

আজ (২০ মে) পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জয়ের পর পরিসংখ্যানে চোখ রেখে থাকলে দেখবেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক এখন শান্ত। পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে এসেছে বাংলাদেশ। টেস্ট র‌্যাংকিংয়েও প্রথমবারের মেতা বাংলাদেশ সাত নম্বরে উঠেছে।

এখন পর্যন্ত যে ১৮ টেস্টে শান্ত বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে ৮ জয়ের পাশাপাশি আছে একটি ড্র। জয়ের হার ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি টেস্টজয়ী অধিনায়কও এখন শান্ত। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জিতে মুশফিকুর রহিমের পাশে (৭ জয়) বসেছিলেন। সিলেটে সংখ্যাটি নিয়ে গেলেন আটে। এখন পর্যন্ত যে ১৮ টেস্টে শান্ত বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে ৮ জয়ের পাশাপাশি আছে একটি ড্র। জয়ের হার ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এদিক দিয়েও অন্যদের চেয়ে এগিয়ে তিনি। দুটির বেশি টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ জয়ের হার।

সেই শান্তই এখন সবার ওপরে
দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা বাংলাদেশ দল। ছবি: বিসিবি

নেতৃত্ব পাওয়ার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শান্ত প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পান। সিলেটে নিউজিল্যান্ডকে ১৫০ রানে হারায় বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতেই হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১০ ও ৬ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ। গত বছরের এপ্রিলে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ১০৬ রানের জয়ের পর নভেম্বরে সিলেটে ইনিংস ও ৪৭ রান এবং মিরপুর টেস্টে ২১৭ রানে আয়ারল্যান্ডকে হারায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এবার মিরপুরে পাকিস্তানকে ১০৪ আর সিলেটে ৭৮ রানে হারালো বাংলাদেশ।

একজন অধিনায়কের মাঠে ও মাঠের বাইরে যেমন নেতৃত্ব দেওয়া দরকার, সেটিই করছেন শান্ত। ব্যাটিংয়ে নিজে পারফরম্যান্স করছেন। ম্যাচে বোলারদের দারুণভাবে ব্যবহার করছেন। জয়ের কৃতিত্ব দিচ্ছেন পুরো দলকে। সিলেট টেস্টে মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারের পরস্কার জেতা শান্ত একজন যোগ্য নেতার মতোই বলেছেন, ‘কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের, তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছি, দল গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আশা করি আমরা এভাবেই খেলে যাব।’

/টিই/