শিরোনাম

চন্দ্রাঅভিযান; নাসার উৎক্ষেপণ প্যাডে ৪ নভোচারী

চন্দ্রাঅভিযান; নাসার উৎক্ষেপণ প্যাডে ৪ নভোচারী
আর্টেমিস-২ মিশনের চার ক্রু (ছবি: সংগৃহীত)

অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় পর চাঁদে মনুষ্যবাহী মিশন পরিচালনা করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সব ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নাসা চাঁদের উদ্দেশে মহকাশযান উৎক্ষেপণ করতে পারে।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নাসা তাদের বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) চন্দ্র রকেট ও ওরিয়ন স্পেস ক্যাপসুলকে ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং (ভিএবি) থেকে উৎক্ষেপণ প্যাডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

আর্টেমিস-২ মিশনে অংশ নেওয়া নভোচারীরা মহাকাশের এমন গভীরে যাবেন, যেখানে আগে কখনো মানুষ যায়নি। এর মূল লক্ষ্য ১৯৬০ ও ৭০’র দশকের অ্যাপোলো মিশনের পর প্রথমবারের মতো চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের অবতরণের পথ তৈরি করা।

শনিবার নির্ধারিত চার মাইলের এই যাত্রা ক্রলার–ট্রান্সপোর্টার–২–এ করে সম্পন্ন হতে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সবচেয়ে দ্রুত সম্ভাব্য উৎক্ষেপণের তারিখ হতে পারে ৬ ফেব্রুয়ারি। তবে চাঁদের অবস্থানও ঠিক থাকতে হবে। সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট উৎক্ষেপণ সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

আর্টিমিস মিশন-২ এর রকেট (ছবি: সংগৃহীত)
আর্টিমিস মিশন-২ এর রকেট (ছবি: সংগৃহীত)

প্রতি মাসের শুরুতে প্রায় এক সপ্তাহ এমন সময় থাকে, যখন রকেট সঠিক দিকে তাক করা যায়। এরপর টানা তিন সপ্তাহ কোনো উৎক্ষেপণ সুযোগ থাকে না। এর ফলে সম্ভাব্য উৎক্ষেপণের তারিখগুলো হলো—৬, ৭, ৮, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১১ মার্চ কিংবা ১, ৩, ৪, ৫ ও ৬ এপ্রিল।

আর্টেমিস-২ মিশনের চার ক্রুর মধ্যে আছেন নাসার কমান্ডার রিড ভাইসমান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কখ। কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেনও দ্বিতীয় মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দলে থাকবেন।

এই মিশনে প্রথমবারের মতো এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন ক্যাপসুলে মানুষ নিয়ে উড্ডয়ন করা হবে।

আর্টিমিস-২ মিশনের বিভিন্ন ধাপ (ছবি: সংগৃহীত)
আর্টিমিস-২ মিশনের বিভিন্ন ধাপ (ছবি: সংগৃহীত)

নিরাপদে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা পদ্ধতি পরীক্ষা করবেন। নভোচারীরা নিজেরাই চিকিৎসাবিষয়ক পরীক্ষার অংশ হিসেবে কাজ করবেন এবং গভীর মহাকাশ থেকে তথ্য ও ছবি পাঠাবেন।

এবার কেউ চাঁদে অবতরন করবে না। এই মিশনের উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে আর্টেমিস–৩ মিশনকে চাঁদে অবতরণের ভিত্তি তৈরি করা। নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস–৩–এর উৎক্ষেপণ '২০২৭ সালের আগে নয়'।

সবশেষ মনুষ্যবাহী চন্দ্র মিশন ছিল অ্যাপোলো–১৭। যা ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে চাঁদে অবতরণ করে এবং সেই মাসেই পৃথিবীতে ফিরে আসে। মোট ২৪ জন নভোচারী চাঁদে গেছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন চাঁদের পৃষ্ঠে হেঁটেছেন। সবই অ্যাপোলো মিশনের সময়।

২০৩০’এর দশকে আরও কয়েকটি দেশের চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা আছে। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্টে চন্দ্রযান–৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফলভাবে অবতরণের পর ভারতের মহাকাশ সংস্থা জানায়, ২০৪০ সালের মধ্যে তারা চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে।

/টিই/