শিরোনাম

দুদকের জালে ঠিকাদার জাহিদুর, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
দুদকের জালে ঠিকাদার জাহিদুর, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
দুর্নীতি দমন কমিশন। ছবি: সংগৃহীত

বিগত সরকারের অসাধু চক্রের যোগসাজশে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি টিম এই জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করছেন।

অভিযোগের নেপথ্যে যা আছে

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ ভবনসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে কয়েক শ’ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আঁতাত করে বড় বড় টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়া, প্রকল্পের কাজ না করে বা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বিল উত্তোলন ও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

চিঠির নির্দেশ ও তলব

এর আগে গত ৭ এপ্রিল দুদক থেকে পাঠানো এক নোটিশের মাধ্যমে জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে তাকে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি ও প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছিল।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। আমরা তার দেওয়া তথ্যগুলো খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোম্পানির অবস্থান

জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’ রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় অবস্থিত।

অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই চলতো প্রভাবশালী মহলের বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাহিদুর রহিম বা তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। সেই সময় জাহিদুর রহিমের প্রতিষ্ঠান সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা মেরামতের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানায় এবং একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) জমা দেয়। পুরো সিস্টেমটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য প্রায় চার কোটি টাকার একটি উচ্চমূল্যের প্রাক্কলন তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের বিরুদ্ধে।

পরবর্তীতে জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে সংসদ ভবনে সাউন্ড সিস্টেম কেনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের না‌মে বড় ধর‌নের দুর্নীতির অভিযোগ উঠে ‌। অভিযোগ আম‌লে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

/এফআর/