শিরোনাম

৬ সপ্তাহ চলার মতো জেট ফুয়েল আছে ইউরোপে

সিটিজেন ডেস্ক
৬ সপ্তাহ চলার মতো জেট ফুয়েল আছে ইউরোপে
ইনসেটে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ইউরোপে জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোর কাছে যে পরিমাণ জেট ফুয়েলের মজুত আছে, তা দিয়ে বড়জোর আর মাত্র ৬ সপ্তাহ চলা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল এ তথ্য জানিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি আমরা হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে না পারি, তাহলে শিগগিরই হয়তো শুনতে পাবো, জেট ফুয়েলের অভাবে ইউরোপের ‘অমুক’ শহর থেকে ‘তমুক’ শহরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বিরোল বলেন, এটি ‘আমাদের দেখা সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট’ যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল, গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়েছে।

‘এখনকার পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক বলেন, বতর্মান অবস্থা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির জন্য তা ততই খারাপ পরিস্থিতি বয়ে আনবে। সবাই ভোগান্তিতে পড়বে।

এই সংকটের ফলে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়ার দেশগুলো– বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ– যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা চালালে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান। গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: এপি, টিআরটি

/জেএইচ/