শিরোনাম

চাঁদের উল্টো পিঠে আর্টেমিস-২, বিছিন্ন থাকবে যোগাযোগ

সিটিজেন ডেস্ক
চাঁদের উল্টো পিঠে আর্টেমিস-২, বিছিন্ন থাকবে যোগাযোগ
আর্টেমিস অভিযানের চতুর্থ দিনে তোলা একটি ছবিতে চন্দ্র চাকতির ডান প্রান্তে অবস্থিত ওরিয়েন্টাল অববাহিকাটি দেখা যাচ্ছে। ছবি: নাসা

পৃথিবীর সঙ্গে আর্টেমিস-২ মহাকাশযানে থাকা নভোচারীদের সব ধরনের যোগাযোগ বিছিন্ন হতে চলেছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোররাত ০৪:৪৭ মিনিটে মহাকাশযানটি চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশযান ও পৃথিবীর মধ্যেকার রেডিও এবং লেজার সংকেত প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য বাধাগ্রস্ত হবে।

প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য চার নভোচারী মহাকাশের অন্ধকারে সম্পূর্ণ একা নিজেদের চিন্তা ও অনুভূতির সাথে সময় কাটাবেন, যা হবে গভীর নির্জনতা ও নীরবতার মুহূর্ত। আর্টেমিস পাইলট ভিক্টর গ্লোভার মিশন শুরুর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি আশা করেন এ বিচ্ছিন্নতার সময়টিতে পুরো বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হবে। তিনি বলেন, যখন তারা চাঁদের আড়ালে সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবেন, তখন বিশ্ববাসী যেন তাদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা, আশা ও শুভকামনা জানায়।

পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় আগে অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরাও চাঁদে যাওয়ার পথে এমন সিগন্যাল হারানোর কারণে বিচ্ছিন্নতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের সময় যখন নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন চাঁদের বুকে প্রথম পা রেখে ইতিহাস গড়ছিলেন, তখন মাইকেল কলিন্স কমান্ড মডিউলে একাকী চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছিলেন। চাঁদের উল্টো দিকে যাওয়ার পর প্রায় ৪৮ মিনিটের জন্য তার সাথে চন্দ্রপৃষ্ঠে থাকা দুই সঙ্গী এবং মিশন কন্ট্রোল উভয়েরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনী ক্যারিং দ্য ফায়ার এ তিনি এ অভিজ্ঞতাকে সত্যিই একাকী এবং যেকোনো পরিচিত জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও তিনি কোনো ভয় বা একাকীত্ব অনুভব করেননি বলে জানান। পরবর্তী সাক্ষাৎকারগুলোতে তিনি জানিয়েছিলেন, মিশন কন্ট্রোলের ক্রমাগত নির্দেশনার বাইরে রেডিও নীরবতা তাকে একধরনের শান্তি ও প্রশান্তি দিয়েছিল।

মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা কচ ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে পৃথিবীকে দেখছেন। ছবি: নাসা
মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা কচ ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে পৃথিবীকে দেখছেন। ছবি: নাসা

পৃথিবীর সঙ্গে ব্ল্যাকআউট বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সময়টি মহাকাশযানের সাথে যোগাযোগ রাখার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য হবে চরম উত্তেজনার। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে কর্নওয়ালের গুনহিলি আর্থ স্টেশনে একটি বিশাল অ্যান্টেনা ওরিয়ন ক্যাপসুলের অবস্থান শনাক্ত করে নাসা সদর দপ্তরে তথ্য পাঠাচ্ছে। গুনহিলির চিফ টেকনোলজি অফিসার ম্যাট কসবি জানান, প্রথমবারের মতো তারা মনুষ্যবাহী কোনো মহাকাশযান ট্র্যাক করছেন। তাই মহাকাশযানটি চাঁদের আড়ালে যাওয়ার পর তারা কিছুটা ভয়ে থাকবেন।

তবে আশা করা হচ্ছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার এ সমস্যার খুব দ্রুতই সমাধান হবে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মুনলাইট এর মতো প্রকল্পগুলো ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ সুবিধা দিতে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

কসবি জানান, নাসা এবং অন্যান্য মহাকাশ সংস্থাগুলোর চাঁদ নিয়ে ভবিষ্যতের অন্বেষণ এবং সেখানে টেকসই উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাঁদের উল্টো দিকেও ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার এ ৪০ মিনিট আর্টেমিস নভোচারীরা চাঁদের দিকেই পুরোপুরি মনোযোগ দেবেন। তারা ছবি তোলা, চাঁদের ভূতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করা এবং সৌন্দর্য উপভোগ করার কাজে সময়টি ব্যয় করবেন। চাঁদের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার পর যখন পুনরায় পৃথিবীর সঙ্গে সংকেত স্থাপিত হবে, তখন পুরো বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে এবং ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই নভোচারীরা তাদের দেখা অসাধারণ দৃশ্যগুলো পৃথিবীর সবার সাথে ভাগ করে নিতে পারবেন।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/