বিশ্লেষণ
নেপালের জেন-জি সফল, বাংলাদেশে ব্যর্থ হলো কোন কারণে

নেপালের জেন-জি সফল, বাংলাদেশে ব্যর্থ হলো কোন কারণে
সিটিজেন ডেস্ক

নেপাল ও বাংলাদেশ দুই দেশেই সরকার ও পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে তরুণদের বিক্ষোভ রাজপথ কাঁপিয়েছে। কিন্তু ভোটের ফলাফলে দুই দেশের চিত্র পুরোপুরি আলাদা। নেপালে জেন জি-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় এসেছে, আর বাংলাদেশে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পুরোনো রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে কার্যকর বিকল্প গড়তে পারেনি।
নেপালে গত ৫ মার্চের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে ১৮২টি আসন জিতে বড় জয় পায়। এর পর ২৭ মার্চ সাবেক র্যাপার ও তরুণের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি বিক্ষোভে সরকারের পতন হয়। এদিকে বাংলাদেশে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দল এনসিপি পেয়েছে মাত্র ছয়টি আসন।
নেপালে তরুণদের সাফল্যের পেছনে শুধু ক্ষোভ ছিল না, ছিল শক্তিশালী নির্বাচনী কৌশলও। বালেন্দ্র শাহের দল কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত প্রচার চালায়। এ জন্য ৬৬০ সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিম ব্যবহার করে। প্রতিদিন একাধিক জেলায় রোডশো করে, আর প্রবাসী নেপালিদের অর্থসহায়তাও পায়। সবচেয়ে বড় কথা তারা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা একসূত্রে গেঁথে ভোটারের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছিল।
বাংলাদেশে চিত্রটা ছিল উল্টো। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা রাখলেও, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সেই শক্তি কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্পে রূপ নিতে পারেনি। তরুণদের নেতৃত্বে গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে লড়ে মাত্র ৬টিতে জেতে। বিপরীতে বিএনপি জোট ২৯৯ আসনের মধ্যে অন্তত ২১২টি আসন পেয়ে বড় জয় তুলে নেয়।
বাংলাদেশে ব্যর্থতার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট। প্রথমত অনেক তরুণ ভোটার নতুন, বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প দেখেননি, দ্বিতীয়ত এনসিপি সাংগঠনিক শক্তি, সম্পদ ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতায় পিছিয়ে ছিল। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করায় দলটির ভেতরে ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকজন নেতা-নেত্রী দল ছাড়েন। আর তাদের ঘোষিত সংস্কারের পক্ষের অবস্থানও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলে রাজপথের আবেগ ব্যালটের সমর্থনে পুরোপুরি বদলানো যায়নি।
দুই দেশের পার্থক্যটা তাই একদম পরিষ্কার। নেপালে আন্দোলনের পর দ্রুত নেতৃত্ব, কৌশল, অর্থায়ন এবং নির্বাচনী কৌশল সব এক সূত্রে গেঁথে ফেলা গেছে। বাংলাদেশে আন্দোলনের নৈতিক শক্তি ছিল, কিন্তু সেটাকে টেকসই রাজনৈতিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার কাজটা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। নেপাল ক্ষোভকে ভোটে বদলেছে; বাংলাদেশী তরুণরা সেটা পারেনি।
রাজপথ কাঁপানো আর নির্বাচনে জেতা যে এক কথা নয় নেপালের তরুণেরা সেটা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের তরুণেরা সেই জায়গাটাতেই হেরে গেছে।

নেপাল ও বাংলাদেশ দুই দেশেই সরকার ও পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে তরুণদের বিক্ষোভ রাজপথ কাঁপিয়েছে। কিন্তু ভোটের ফলাফলে দুই দেশের চিত্র পুরোপুরি আলাদা। নেপালে জেন জি-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় এসেছে, আর বাংলাদেশে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পুরোনো রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে কার্যকর বিকল্প গড়তে পারেনি।
নেপালে গত ৫ মার্চের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে ১৮২টি আসন জিতে বড় জয় পায়। এর পর ২৭ মার্চ সাবেক র্যাপার ও তরুণের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি বিক্ষোভে সরকারের পতন হয়। এদিকে বাংলাদেশে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দল এনসিপি পেয়েছে মাত্র ছয়টি আসন।
নেপালে তরুণদের সাফল্যের পেছনে শুধু ক্ষোভ ছিল না, ছিল শক্তিশালী নির্বাচনী কৌশলও। বালেন্দ্র শাহের দল কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত প্রচার চালায়। এ জন্য ৬৬০ সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিম ব্যবহার করে। প্রতিদিন একাধিক জেলায় রোডশো করে, আর প্রবাসী নেপালিদের অর্থসহায়তাও পায়। সবচেয়ে বড় কথা তারা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা একসূত্রে গেঁথে ভোটারের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছিল।
বাংলাদেশে চিত্রটা ছিল উল্টো। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা রাখলেও, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সেই শক্তি কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্পে রূপ নিতে পারেনি। তরুণদের নেতৃত্বে গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে লড়ে মাত্র ৬টিতে জেতে। বিপরীতে বিএনপি জোট ২৯৯ আসনের মধ্যে অন্তত ২১২টি আসন পেয়ে বড় জয় তুলে নেয়।
বাংলাদেশে ব্যর্থতার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট। প্রথমত অনেক তরুণ ভোটার নতুন, বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প দেখেননি, দ্বিতীয়ত এনসিপি সাংগঠনিক শক্তি, সম্পদ ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতায় পিছিয়ে ছিল। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করায় দলটির ভেতরে ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকজন নেতা-নেত্রী দল ছাড়েন। আর তাদের ঘোষিত সংস্কারের পক্ষের অবস্থানও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলে রাজপথের আবেগ ব্যালটের সমর্থনে পুরোপুরি বদলানো যায়নি।
দুই দেশের পার্থক্যটা তাই একদম পরিষ্কার। নেপালে আন্দোলনের পর দ্রুত নেতৃত্ব, কৌশল, অর্থায়ন এবং নির্বাচনী কৌশল সব এক সূত্রে গেঁথে ফেলা গেছে। বাংলাদেশে আন্দোলনের নৈতিক শক্তি ছিল, কিন্তু সেটাকে টেকসই রাজনৈতিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার কাজটা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। নেপাল ক্ষোভকে ভোটে বদলেছে; বাংলাদেশী তরুণরা সেটা পারেনি।
রাজপথ কাঁপানো আর নির্বাচনে জেতা যে এক কথা নয় নেপালের তরুণেরা সেটা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের তরুণেরা সেই জায়গাটাতেই হেরে গেছে।

নেপালের জেন-জি সফল, বাংলাদেশে ব্যর্থ হলো কোন কারণে
সিটিজেন ডেস্ক

নেপাল ও বাংলাদেশ দুই দেশেই সরকার ও পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে তরুণদের বিক্ষোভ রাজপথ কাঁপিয়েছে। কিন্তু ভোটের ফলাফলে দুই দেশের চিত্র পুরোপুরি আলাদা। নেপালে জেন জি-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় এসেছে, আর বাংলাদেশে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পুরোনো রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে কার্যকর বিকল্প গড়তে পারেনি।
নেপালে গত ৫ মার্চের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে ১৮২টি আসন জিতে বড় জয় পায়। এর পর ২৭ মার্চ সাবেক র্যাপার ও তরুণের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি বিক্ষোভে সরকারের পতন হয়। এদিকে বাংলাদেশে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দল এনসিপি পেয়েছে মাত্র ছয়টি আসন।
নেপালে তরুণদের সাফল্যের পেছনে শুধু ক্ষোভ ছিল না, ছিল শক্তিশালী নির্বাচনী কৌশলও। বালেন্দ্র শাহের দল কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত প্রচার চালায়। এ জন্য ৬৬০ সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিম ব্যবহার করে। প্রতিদিন একাধিক জেলায় রোডশো করে, আর প্রবাসী নেপালিদের অর্থসহায়তাও পায়। সবচেয়ে বড় কথা তারা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা একসূত্রে গেঁথে ভোটারের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছিল।
বাংলাদেশে চিত্রটা ছিল উল্টো। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা রাখলেও, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সেই শক্তি কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্পে রূপ নিতে পারেনি। তরুণদের নেতৃত্বে গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে লড়ে মাত্র ৬টিতে জেতে। বিপরীতে বিএনপি জোট ২৯৯ আসনের মধ্যে অন্তত ২১২টি আসন পেয়ে বড় জয় তুলে নেয়।
বাংলাদেশে ব্যর্থতার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট। প্রথমত অনেক তরুণ ভোটার নতুন, বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প দেখেননি, দ্বিতীয়ত এনসিপি সাংগঠনিক শক্তি, সম্পদ ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতায় পিছিয়ে ছিল। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করায় দলটির ভেতরে ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকজন নেতা-নেত্রী দল ছাড়েন। আর তাদের ঘোষিত সংস্কারের পক্ষের অবস্থানও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলে রাজপথের আবেগ ব্যালটের সমর্থনে পুরোপুরি বদলানো যায়নি।
দুই দেশের পার্থক্যটা তাই একদম পরিষ্কার। নেপালে আন্দোলনের পর দ্রুত নেতৃত্ব, কৌশল, অর্থায়ন এবং নির্বাচনী কৌশল সব এক সূত্রে গেঁথে ফেলা গেছে। বাংলাদেশে আন্দোলনের নৈতিক শক্তি ছিল, কিন্তু সেটাকে টেকসই রাজনৈতিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার কাজটা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। নেপাল ক্ষোভকে ভোটে বদলেছে; বাংলাদেশী তরুণরা সেটা পারেনি।
রাজপথ কাঁপানো আর নির্বাচনে জেতা যে এক কথা নয় নেপালের তরুণেরা সেটা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের তরুণেরা সেই জায়গাটাতেই হেরে গেছে।




