ফলের বাগানে জমিরের দিনবদল

ফলের বাগানে জমিরের দিনবদল
কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রায় ১৩ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন জমির উদ্দিন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে একবার দেশে এসে প্রসাধনীর ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। এই ব্যবসায় লাভবান না হওয়ায় পারি জমান কাতারে। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর দেশে ফিরে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনে ভাড়া দেন। এসবের কোনোটিতেই থিতু হতে পারেননি তিনি। পরে ইউটিউব দেখে নিজ এলাকায় ফলের বাগান গড়ে তুলেন। এখন এ বাগানই তার আয়ের প্রধান উৎস। গত বছর তার বাগানে প্রথম ফলন হয়। প্রথমবারই তিনি ২২ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেন।
জমির উদ্দিন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকার রমিজপাড়ায় তার বাগান। আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে পূর্ব দিকে পাহাড়ি ছড়া ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলে বাগানটির দেখা মেলে। এর চারপাশে পাহাড়।
গাছের রোগবালাইয়ের সমস্যা হলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেন। পাশাপাশি গুগলেও খোঁজ করেন। এ ছাড়া তিনি ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমিরের বাগানে সারি সারি মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা ও পেয়ারাগাছ। সবগুলো গাছেই ফলন ধরেছে। পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষায় কোনো কোনো ফল পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালে চার একর জমি লাগিয়ত (টাকার বিনিময়ে জমি বর্গা নেওয়া) নিয়ে মিশ্র ফলের বাগান শুরু করেন জমির উদ্দিন। বর্তমানে তার বাগানে ১ হাজার ৪০০টি পেয়ারা, ৭৮০টি বারি-১ মাল্টা, ২০টি বারোমাসি মাল্টা, ২৫০টি জাম্বুরা ও ২৫০টি দার্জিলিং কমলার গাছ রয়েছ। নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনি এসব চারা সংগ্রহ করেছেন।
জমি বর্গা নেওয়া, জমি উন্নয়ন, চারা, শ্রমিক, সেচ, সার, কীটনাশক, বেড়া ও ফল প্যাকেটজাত করার উপকরণ কেনাসহ দুই বছরে জমিরের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা। গত বছর শুরু থেকেই বাগানটির গাছে ফল আসতে শুরু করে। এবারও ভালো ফলন আশা করেছিলেন। তবে জুলাইয়ের শুরুতে পেকুয়ার বন্যায় তার বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জমির উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর স্থানীয় বাজারে মাল্টা ও পেয়ারা বিক্রি করেছি। এ বছরও কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে মাল্টা প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং পেয়ারা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম আর পুঁজি খাটালে দেশে বসেই বিদেশের চেয়ে বেশি আয় করা সম্ভব। বন্যায় এ বছর ক্ষতি হয়েছে। তবে আমার বাগান তো আর এক দিনের জন্য না। হয়তো এ বছর আয় কম হবে। তবে সেটি আগামী বছর পুষিয়ে নিতে পারব।’
ভাগ্য বদলানোর আশায় ২০০০ সালে সৌদি আরবে যান জমির উদ্দিন। এর ৯ বছর পর তিনি দেশে ফিরে একটি প্রসাধনীর দোকান দেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ২০১২ সালে আবার কাতারে যান। পরে ২০১৬ সালে দেশে ফিরে শুরু করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা। ভাড়া দেওয়ার জন্য পাঁচটি অটোরিকশা কিনলেও নানা ঝামেলায় তা বিক্রি করে দেন।
এরপর কৃষিতে মন দেন। ২০১৮ সালে পাঁচ একর জমিতে পেঁপের বাগান করেন। এক বছর পর পেঁপে চাষে সুবিধা করতে না পেরে ২ হাজার ২৫০টি কলাগাছ লাগান। সেখান থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা লাভ করেন তিনি। কিন্তু পরের মৌসুমে আবার ফলন কমে যায়। একপর্যায়ে কলাগাছ কেটে ফেলেন।
এরপরও কৃষি ছাড়েননি জমির। ২০২৩ সালে বাড়ির পাশে ৪ একর জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন মিশ্র ফলের বাগান। কৃষির নতুন নতুন পদ্ধতি শেখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিই জমিরের ভরসা। কোনো সমস্যা হলে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি গুগল ও ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখেন।
জমির উদ্দিন বলেন, ‘চীন, জাপান বা অন্য দেশে কীভাবে বাগান হচ্ছে, সব ইউটিউবে দেখা যায়। সেখান থেকেই শিখেছি। কেউ যদি একবার সাহস করে শুরু করেন, করতে করতে তার অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান দেখতে আসেন। কোনো পরামর্শ দরকার হলে তাদের ফোন করি। কোথাও আটকে গেলে গুগলে সার্চ করি বা ইউটিউব দেখি।’
পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, পেকুয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের বাগান হিসেবে জমির উদ্দিনের বাগানটি ব্যতিক্রম। পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের মিশ্র ফলের বাগানের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ জমির উদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ১৩ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন জমির উদ্দিন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে একবার দেশে এসে প্রসাধনীর ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। এই ব্যবসায় লাভবান না হওয়ায় পারি জমান কাতারে। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর দেশে ফিরে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনে ভাড়া দেন। এসবের কোনোটিতেই থিতু হতে পারেননি তিনি। পরে ইউটিউব দেখে নিজ এলাকায় ফলের বাগান গড়ে তুলেন। এখন এ বাগানই তার আয়ের প্রধান উৎস। গত বছর তার বাগানে প্রথম ফলন হয়। প্রথমবারই তিনি ২২ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেন।
জমির উদ্দিন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকার রমিজপাড়ায় তার বাগান। আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে পূর্ব দিকে পাহাড়ি ছড়া ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলে বাগানটির দেখা মেলে। এর চারপাশে পাহাড়।
গাছের রোগবালাইয়ের সমস্যা হলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেন। পাশাপাশি গুগলেও খোঁজ করেন। এ ছাড়া তিনি ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমিরের বাগানে সারি সারি মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা ও পেয়ারাগাছ। সবগুলো গাছেই ফলন ধরেছে। পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষায় কোনো কোনো ফল পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালে চার একর জমি লাগিয়ত (টাকার বিনিময়ে জমি বর্গা নেওয়া) নিয়ে মিশ্র ফলের বাগান শুরু করেন জমির উদ্দিন। বর্তমানে তার বাগানে ১ হাজার ৪০০টি পেয়ারা, ৭৮০টি বারি-১ মাল্টা, ২০টি বারোমাসি মাল্টা, ২৫০টি জাম্বুরা ও ২৫০টি দার্জিলিং কমলার গাছ রয়েছ। নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনি এসব চারা সংগ্রহ করেছেন।
জমি বর্গা নেওয়া, জমি উন্নয়ন, চারা, শ্রমিক, সেচ, সার, কীটনাশক, বেড়া ও ফল প্যাকেটজাত করার উপকরণ কেনাসহ দুই বছরে জমিরের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা। গত বছর শুরু থেকেই বাগানটির গাছে ফল আসতে শুরু করে। এবারও ভালো ফলন আশা করেছিলেন। তবে জুলাইয়ের শুরুতে পেকুয়ার বন্যায় তার বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জমির উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর স্থানীয় বাজারে মাল্টা ও পেয়ারা বিক্রি করেছি। এ বছরও কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে মাল্টা প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং পেয়ারা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম আর পুঁজি খাটালে দেশে বসেই বিদেশের চেয়ে বেশি আয় করা সম্ভব। বন্যায় এ বছর ক্ষতি হয়েছে। তবে আমার বাগান তো আর এক দিনের জন্য না। হয়তো এ বছর আয় কম হবে। তবে সেটি আগামী বছর পুষিয়ে নিতে পারব।’
ভাগ্য বদলানোর আশায় ২০০০ সালে সৌদি আরবে যান জমির উদ্দিন। এর ৯ বছর পর তিনি দেশে ফিরে একটি প্রসাধনীর দোকান দেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ২০১২ সালে আবার কাতারে যান। পরে ২০১৬ সালে দেশে ফিরে শুরু করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা। ভাড়া দেওয়ার জন্য পাঁচটি অটোরিকশা কিনলেও নানা ঝামেলায় তা বিক্রি করে দেন।
এরপর কৃষিতে মন দেন। ২০১৮ সালে পাঁচ একর জমিতে পেঁপের বাগান করেন। এক বছর পর পেঁপে চাষে সুবিধা করতে না পেরে ২ হাজার ২৫০টি কলাগাছ লাগান। সেখান থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা লাভ করেন তিনি। কিন্তু পরের মৌসুমে আবার ফলন কমে যায়। একপর্যায়ে কলাগাছ কেটে ফেলেন।
এরপরও কৃষি ছাড়েননি জমির। ২০২৩ সালে বাড়ির পাশে ৪ একর জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন মিশ্র ফলের বাগান। কৃষির নতুন নতুন পদ্ধতি শেখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিই জমিরের ভরসা। কোনো সমস্যা হলে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি গুগল ও ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখেন।
জমির উদ্দিন বলেন, ‘চীন, জাপান বা অন্য দেশে কীভাবে বাগান হচ্ছে, সব ইউটিউবে দেখা যায়। সেখান থেকেই শিখেছি। কেউ যদি একবার সাহস করে শুরু করেন, করতে করতে তার অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান দেখতে আসেন। কোনো পরামর্শ দরকার হলে তাদের ফোন করি। কোথাও আটকে গেলে গুগলে সার্চ করি বা ইউটিউব দেখি।’
পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, পেকুয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের বাগান হিসেবে জমির উদ্দিনের বাগানটি ব্যতিক্রম। পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের মিশ্র ফলের বাগানের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ জমির উদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ফলের বাগানে জমিরের দিনবদল
কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রায় ১৩ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন জমির উদ্দিন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে একবার দেশে এসে প্রসাধনীর ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। এই ব্যবসায় লাভবান না হওয়ায় পারি জমান কাতারে। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর দেশে ফিরে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনে ভাড়া দেন। এসবের কোনোটিতেই থিতু হতে পারেননি তিনি। পরে ইউটিউব দেখে নিজ এলাকায় ফলের বাগান গড়ে তুলেন। এখন এ বাগানই তার আয়ের প্রধান উৎস। গত বছর তার বাগানে প্রথম ফলন হয়। প্রথমবারই তিনি ২২ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেন।
জমির উদ্দিন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকার রমিজপাড়ায় তার বাগান। আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে পূর্ব দিকে পাহাড়ি ছড়া ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলে বাগানটির দেখা মেলে। এর চারপাশে পাহাড়।
গাছের রোগবালাইয়ের সমস্যা হলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেন। পাশাপাশি গুগলেও খোঁজ করেন। এ ছাড়া তিনি ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমিরের বাগানে সারি সারি মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা ও পেয়ারাগাছ। সবগুলো গাছেই ফলন ধরেছে। পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষায় কোনো কোনো ফল পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালে চার একর জমি লাগিয়ত (টাকার বিনিময়ে জমি বর্গা নেওয়া) নিয়ে মিশ্র ফলের বাগান শুরু করেন জমির উদ্দিন। বর্তমানে তার বাগানে ১ হাজার ৪০০টি পেয়ারা, ৭৮০টি বারি-১ মাল্টা, ২০টি বারোমাসি মাল্টা, ২৫০টি জাম্বুরা ও ২৫০টি দার্জিলিং কমলার গাছ রয়েছ। নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনি এসব চারা সংগ্রহ করেছেন।
জমি বর্গা নেওয়া, জমি উন্নয়ন, চারা, শ্রমিক, সেচ, সার, কীটনাশক, বেড়া ও ফল প্যাকেটজাত করার উপকরণ কেনাসহ দুই বছরে জমিরের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা। গত বছর শুরু থেকেই বাগানটির গাছে ফল আসতে শুরু করে। এবারও ভালো ফলন আশা করেছিলেন। তবে জুলাইয়ের শুরুতে পেকুয়ার বন্যায় তার বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জমির উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর স্থানীয় বাজারে মাল্টা ও পেয়ারা বিক্রি করেছি। এ বছরও কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে মাল্টা প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং পেয়ারা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম আর পুঁজি খাটালে দেশে বসেই বিদেশের চেয়ে বেশি আয় করা সম্ভব। বন্যায় এ বছর ক্ষতি হয়েছে। তবে আমার বাগান তো আর এক দিনের জন্য না। হয়তো এ বছর আয় কম হবে। তবে সেটি আগামী বছর পুষিয়ে নিতে পারব।’
ভাগ্য বদলানোর আশায় ২০০০ সালে সৌদি আরবে যান জমির উদ্দিন। এর ৯ বছর পর তিনি দেশে ফিরে একটি প্রসাধনীর দোকান দেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ২০১২ সালে আবার কাতারে যান। পরে ২০১৬ সালে দেশে ফিরে শুরু করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা। ভাড়া দেওয়ার জন্য পাঁচটি অটোরিকশা কিনলেও নানা ঝামেলায় তা বিক্রি করে দেন।
এরপর কৃষিতে মন দেন। ২০১৮ সালে পাঁচ একর জমিতে পেঁপের বাগান করেন। এক বছর পর পেঁপে চাষে সুবিধা করতে না পেরে ২ হাজার ২৫০টি কলাগাছ লাগান। সেখান থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা লাভ করেন তিনি। কিন্তু পরের মৌসুমে আবার ফলন কমে যায়। একপর্যায়ে কলাগাছ কেটে ফেলেন।
এরপরও কৃষি ছাড়েননি জমির। ২০২৩ সালে বাড়ির পাশে ৪ একর জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন মিশ্র ফলের বাগান। কৃষির নতুন নতুন পদ্ধতি শেখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিই জমিরের ভরসা। কোনো সমস্যা হলে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি গুগল ও ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখেন।
জমির উদ্দিন বলেন, ‘চীন, জাপান বা অন্য দেশে কীভাবে বাগান হচ্ছে, সব ইউটিউবে দেখা যায়। সেখান থেকেই শিখেছি। কেউ যদি একবার সাহস করে শুরু করেন, করতে করতে তার অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান দেখতে আসেন। কোনো পরামর্শ দরকার হলে তাদের ফোন করি। কোথাও আটকে গেলে গুগলে সার্চ করি বা ইউটিউব দেখি।’
পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, পেকুয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের বাগান হিসেবে জমির উদ্দিনের বাগানটি ব্যতিক্রম। পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের মিশ্র ফলের বাগানের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ জমির উদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।









