গ্যাস সংকটে বন্ধ ২৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, অসহনীয় লোডশেডিং

গ্যাস সংকটে বন্ধ ২৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, অসহনীয় লোডশেডিং
সিজেডএন ডেস্ক

এলএনজি সরবরাহে সংকট এক মাসেও কাটেনি। গ্যাসের পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল ও কয়লার সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এর মধ্যে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বেড়ে গিয়ে দিনে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তাপমাত্রা বাড়ায় গত দুই দিনে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। অফ-পিক সময়েও চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি সংকটে পিক সময়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। অফ-পিকে উৎপাদন আরও কমে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে নেমে যাচ্ছে। ফলে দিন-রাত প্রায় সব সময়ই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
গতকাল বেলা তিনটায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৬০ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৬৬৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার ২২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গ্যাসের অভাবে বন্ধ ২৭ কেন্দ্র
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ৫০টি। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসের সংকটে ২৭টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে।
ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বর্তমানে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো সময়ে উৎপাদন নেমে যাচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ঘাটতির সময়ে চাহিদাও বাড়ছে। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বিশেষ করে দুপুর ও সন্ধ্যায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান আরও বড় হচ্ছে।
তেল ও কয়লার সংকটও
ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। দেশে এ ধরনের ৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু তেলের সংকটে ২৮টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর চাহিদা বেড়ে গেলে ঘাটতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বাড়তি চালানো হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কখনো কখনো এসব কেন্দ্র থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
কয়লার সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়লার অভাবে রামপাল ও পটুয়াখালীর দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যা।
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ। একই কারণে মাতারবাড়ীর একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে। এতে এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট।
এর বাইরে নেপাল থেকে আমদানি করা ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও আকস্মিক বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও কয়লার সংকটে সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি থেকে কখনো কখনো ৯০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
আগস্টজুড়েই বাড়ছিল লোডশেডিং
পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্ট মাসের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট ছিল। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। মাঝখানে তাপমাত্রা কিছুটা কমায় লোডশেডিং কমেছিল। তবে ২৭ আগস্ট থেকে আবার তা বেড়ে যায়।
ওই দিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। পরদিন শুক্রবার ছুটির কারণে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় পরিস্থিতি সামান্য ভালো ছিল। কিন্তু ২৯ আগস্ট থেকে আবার ঘাটতি বাড়তে থাকে।
২৯ আগস্ট বেলা তিনটায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াট। ওই দিন দুপুর ১২টার পর থেকে ঘাটতি ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের নিচে নামেনি।
৩০ আগস্ট পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। রাত ১২টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট। রাত চারটা পর্যন্ত তা ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ছিল। ভোর পাঁচটায় কমে ২ হাজার ৮৮৩ মেগাওয়াট এবং সকাল সাতটায় দিনের সর্বনিম্ন ২ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াটে নামে।
এরপর আবার বাড়তে থাকে ঘাটতি। সকাল ১০টার পর থেকে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। বেলা তিনটায় তা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াটে।
এটি চলতি দিনের অন্যতম সর্বোচ্চ লোডশেডিং। এর আগে ১০ আগস্ট রাত একটায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
৩০ আগস্ট রাত ১২টায়ও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২১ শতাংশ। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৫০৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৮২৯ মেগাওয়াট।
তবে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই সময় লোডশেডিং কমে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ঘরে নামে। বিদ্যুৎ উৎপাদনও ১৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ায়। এর আগে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা উৎপাদন ১৩ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে ছিল।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। এর মধ্যে তাপমাত্রা আরও বাড়লে চাহিদা বাড়বে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলএনজি সরবরাহে সংকট এক মাসেও কাটেনি। গ্যাসের পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল ও কয়লার সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এর মধ্যে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বেড়ে গিয়ে দিনে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তাপমাত্রা বাড়ায় গত দুই দিনে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। অফ-পিক সময়েও চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি সংকটে পিক সময়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। অফ-পিকে উৎপাদন আরও কমে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে নেমে যাচ্ছে। ফলে দিন-রাত প্রায় সব সময়ই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
গতকাল বেলা তিনটায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৬০ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৬৬৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার ২২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গ্যাসের অভাবে বন্ধ ২৭ কেন্দ্র
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ৫০টি। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসের সংকটে ২৭টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে।
ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বর্তমানে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো সময়ে উৎপাদন নেমে যাচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ঘাটতির সময়ে চাহিদাও বাড়ছে। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বিশেষ করে দুপুর ও সন্ধ্যায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান আরও বড় হচ্ছে।
তেল ও কয়লার সংকটও
ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। দেশে এ ধরনের ৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু তেলের সংকটে ২৮টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর চাহিদা বেড়ে গেলে ঘাটতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বাড়তি চালানো হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কখনো কখনো এসব কেন্দ্র থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
কয়লার সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়লার অভাবে রামপাল ও পটুয়াখালীর দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যা।
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ। একই কারণে মাতারবাড়ীর একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে। এতে এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট।
এর বাইরে নেপাল থেকে আমদানি করা ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও আকস্মিক বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও কয়লার সংকটে সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি থেকে কখনো কখনো ৯০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
আগস্টজুড়েই বাড়ছিল লোডশেডিং
পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্ট মাসের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট ছিল। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। মাঝখানে তাপমাত্রা কিছুটা কমায় লোডশেডিং কমেছিল। তবে ২৭ আগস্ট থেকে আবার তা বেড়ে যায়।
ওই দিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। পরদিন শুক্রবার ছুটির কারণে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় পরিস্থিতি সামান্য ভালো ছিল। কিন্তু ২৯ আগস্ট থেকে আবার ঘাটতি বাড়তে থাকে।
২৯ আগস্ট বেলা তিনটায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াট। ওই দিন দুপুর ১২টার পর থেকে ঘাটতি ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের নিচে নামেনি।
৩০ আগস্ট পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। রাত ১২টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট। রাত চারটা পর্যন্ত তা ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ছিল। ভোর পাঁচটায় কমে ২ হাজার ৮৮৩ মেগাওয়াট এবং সকাল সাতটায় দিনের সর্বনিম্ন ২ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াটে নামে।
এরপর আবার বাড়তে থাকে ঘাটতি। সকাল ১০টার পর থেকে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। বেলা তিনটায় তা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াটে।
এটি চলতি দিনের অন্যতম সর্বোচ্চ লোডশেডিং। এর আগে ১০ আগস্ট রাত একটায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
৩০ আগস্ট রাত ১২টায়ও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২১ শতাংশ। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৫০৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৮২৯ মেগাওয়াট।
তবে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই সময় লোডশেডিং কমে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ঘরে নামে। বিদ্যুৎ উৎপাদনও ১৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ায়। এর আগে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা উৎপাদন ১৩ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে ছিল।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। এর মধ্যে তাপমাত্রা আরও বাড়লে চাহিদা বাড়বে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাস সংকটে বন্ধ ২৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, অসহনীয় লোডশেডিং
সিজেডএন ডেস্ক

এলএনজি সরবরাহে সংকট এক মাসেও কাটেনি। গ্যাসের পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল ও কয়লার সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এর মধ্যে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বেড়ে গিয়ে দিনে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তাপমাত্রা বাড়ায় গত দুই দিনে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। অফ-পিক সময়েও চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি সংকটে পিক সময়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। অফ-পিকে উৎপাদন আরও কমে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে নেমে যাচ্ছে। ফলে দিন-রাত প্রায় সব সময়ই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
গতকাল বেলা তিনটায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৬০ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৬৬৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার ২২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গ্যাসের অভাবে বন্ধ ২৭ কেন্দ্র
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ৫০টি। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসের সংকটে ২৭টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে।
ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বর্তমানে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো সময়ে উৎপাদন নেমে যাচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ঘাটতির সময়ে চাহিদাও বাড়ছে। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বিশেষ করে দুপুর ও সন্ধ্যায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান আরও বড় হচ্ছে।
তেল ও কয়লার সংকটও
ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। দেশে এ ধরনের ৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু তেলের সংকটে ২৮টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর চাহিদা বেড়ে গেলে ঘাটতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বাড়তি চালানো হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কখনো কখনো এসব কেন্দ্র থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
কয়লার সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়লার অভাবে রামপাল ও পটুয়াখালীর দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যা।
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ। একই কারণে মাতারবাড়ীর একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে। এতে এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট।
এর বাইরে নেপাল থেকে আমদানি করা ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও আকস্মিক বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও কয়লার সংকটে সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি থেকে কখনো কখনো ৯০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
আগস্টজুড়েই বাড়ছিল লোডশেডিং
পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্ট মাসের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট ছিল। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। মাঝখানে তাপমাত্রা কিছুটা কমায় লোডশেডিং কমেছিল। তবে ২৭ আগস্ট থেকে আবার তা বেড়ে যায়।
ওই দিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। পরদিন শুক্রবার ছুটির কারণে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় পরিস্থিতি সামান্য ভালো ছিল। কিন্তু ২৯ আগস্ট থেকে আবার ঘাটতি বাড়তে থাকে।
২৯ আগস্ট বেলা তিনটায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াট। ওই দিন দুপুর ১২টার পর থেকে ঘাটতি ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের নিচে নামেনি।
৩০ আগস্ট পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। রাত ১২টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট। রাত চারটা পর্যন্ত তা ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ছিল। ভোর পাঁচটায় কমে ২ হাজার ৮৮৩ মেগাওয়াট এবং সকাল সাতটায় দিনের সর্বনিম্ন ২ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াটে নামে।
এরপর আবার বাড়তে থাকে ঘাটতি। সকাল ১০টার পর থেকে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। বেলা তিনটায় তা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াটে।
এটি চলতি দিনের অন্যতম সর্বোচ্চ লোডশেডিং। এর আগে ১০ আগস্ট রাত একটায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
৩০ আগস্ট রাত ১২টায়ও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২১ শতাংশ। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৫০৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৮২৯ মেগাওয়াট।
তবে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই সময় লোডশেডিং কমে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ঘরে নামে। বিদ্যুৎ উৎপাদনও ১৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ায়। এর আগে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা উৎপাদন ১৩ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে ছিল।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। এর মধ্যে তাপমাত্রা আরও বাড়লে চাহিদা বাড়বে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।








