শিরোনাম

কোস্টগার্ড তুলে নেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ জেলে মিরাজ, দাবি পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
কোস্টগার্ড তুলে নেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ জেলে মিরাজ, দাবি পরিবারের
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন নিখোঁজ মিরাজ শেখের মা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকা থেকে মিরাজ শেখ নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রায় চার মাস আগে মিরাজকে তুলে নিয়ে যায় কোস্ট গার্ড। এরপর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরাজকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করার পাশাপাশি নিখোঁজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ শেখের পরিবার অভিযোগ জানায়, গত ১০ এপ্রিল মিরাজ শেখকে দুজন সাদা পোশাকধারী কোস্ট গার্ড সদস্য তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন ও ১১ ও ১২ এপ্রিল পল্টুন কোস্ট গার্ডের একজন সদস্যের (সিসি) সাথে মিরাজের পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার কথা হয় এবং তিনি স্বীকার করেন যে, মিরাজ তাদের হেফাজতে আছে। একই সঙ্গে ২-৩ দিনের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে অথবা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানানো হয়।

মিরাজের স্ত্রী বলেন, দিগরাজ কোস্ট গার্ড বেইজে গেলে উকাসিং নামে একজন কোস্ট গার্ড সদস্য জানায় যে আসামিকে নিয়ে অপারেশনে যাওয়া হবে এবং বিকাল ৪টায় আসলে দেখা করতে দেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিকাল ৪টায় গেলে শাহীন নামে একজন কোস্ট গার্ড সদস্যরা আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর থেকে মিরাজের আর কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে মেরাজ শেখের পরিবার সংবাদ সম্মেলন থেকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৭টি দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো–

১. হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মিরাজ শেখকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করা।

২. সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইনে ভিত্তিতে অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তাকে দেশের প্রচলিত আইনে, প্রকাশ্য বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা।

৩. ঘটনায় জড়িত কোস্ট গার্ডের সংশ্লিষ্ট সব সদস্যের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

৪. মিরাজের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৫. কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করে আটকের কারণ উল্লেখসহ আটককৃত ব্যক্তির পরিবার বা আত্মীয়কে জানাতে হবে- এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সদস্যদেরকে পর্যাপ্ত সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

৬. শুম প্রতিরোধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা এবং

৭. জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নিখোঁজ মিরাজের সাত বছরের শিশু তার বাবার পথ চেয়ে বসে আছে। একটি পরিবার প্রতিটি মুহূর্ত দুশ্চিন্তায় কাটাচ্ছে তাদের প্রিয়জনের জীবিত ফিরে আসার আশায়। তাই দ্রুত মেরাজ শেখকে খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানায় পরিবারের সদস্যরা।

/এফআর/