দিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ সংশ্লিষ্টদের সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল

দিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ সংশ্লিষ্টদের সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল
সিজেডএন ডেস্ক

নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।বিতর্কিত তথ্যের কথা উল্লেখ করে নয়াদিল্লি পুলিশ আয়োজকদের সেমিনারটি না করার নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এফসিসি মিলনায়তনে বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ ও এফসিসির যৌথ উদ্যোগে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সেমিনারে আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যসহ একাধিক নেতার অংশগ্রহণের কথা ছিল। এর আগে এফসিসিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় ঢাকা তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত সেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পটভূমির জের ধরেই এ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে।
এফসিসি এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নয়াদিল্লি পুলিশের অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপের কারণেই পূর্বনির্ধারিত সেমিনারটি স্থগিত করতে হয়েছে। স্বল্প সময়ের নোটিশে এ নির্দেশনা আসায় বিষয়টি আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে সেমিনারে পুলিশের হস্তক্ষেপ বা নিষেধাজ্ঞার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছেন নয়াদিল্লি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-নিউ দিল্লি রেঞ্জ) শচীন শর্মা। তিনি দাবি করেন, এফসিসির কোনো সেমিনারে তাদের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।
উপ-পুলিশ কমিশনারের এই দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার এর একটি প্রতিবেদনে। তাদের প্রকাশিত তিলক মার্গ থানার একটি লিখিত চিঠিতে দেখা যায়, এফসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে- ‘প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কিছু বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’ চিঠিটিতে সংশ্লিষ্ট থানার সিল ও ওসির স্বাক্ষরও রয়েছে।এফসিসি কর্মকর্তারা জানান, নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সেমিনারে হঠাৎ এভাবে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নজিরবিহীন।
সেমিনারের বক্তা ছিলেন যারা
নয়াদিল্লিতে স্থগিত হওয়া আন্তর্জাতিক এই সেমিনারে বিদেশি সাবেক কূটনীতিক ও গবেষকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বক্তাদের তালিকায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীনা সিক্রি, ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরন নবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও চেক রাজনীতিক ওন্দ্রেজ দোস্তাল।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ও আয়োজক সংস্থা ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’-এর মহাসচিব এ এফ এম গোলাম জিলানি সময়মতো ভারতের ভিসা না পাওয়ায় নয়াদিল্লি পৌঁছাতে পারেননি। অনুষ্ঠান বাতিল ও ভিসা পেতে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো বাংলাদেশ বা ভারত কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ইস্যু ছিল না। এটি ছিল মূলত ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কভিত্তিক একটি আলোচনা।’
সংগঠনটির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম জিলানি বলেন, তাদের সংস্থা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং এটি কেবল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। তবে আন্তর্জাতিক রেকর্ড ও তথ্যে দেখা যায়, ইউরোপে অতীতে আয়োজিত সংস্থাটির একাধিক কর্মসূচিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের নেতারা যৌথভাবে সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এফসিসি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা-ই এ সেমিনার বাতিলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ৫ আগস্ট এফসিসির অডিও লিংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ওই ঘটনায় ঢাকার বর্তমান সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের পরিবেশ ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে কোনো বিতর্ক যাতে না তৈরি হয়, সেই উদ্দেশ্যেই নয়াদিল্লির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তড়িঘড়ি করে সেমিনারটি বন্ধ করে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়ার

নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।বিতর্কিত তথ্যের কথা উল্লেখ করে নয়াদিল্লি পুলিশ আয়োজকদের সেমিনারটি না করার নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এফসিসি মিলনায়তনে বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ ও এফসিসির যৌথ উদ্যোগে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সেমিনারে আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যসহ একাধিক নেতার অংশগ্রহণের কথা ছিল। এর আগে এফসিসিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় ঢাকা তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত সেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পটভূমির জের ধরেই এ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে।
এফসিসি এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নয়াদিল্লি পুলিশের অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপের কারণেই পূর্বনির্ধারিত সেমিনারটি স্থগিত করতে হয়েছে। স্বল্প সময়ের নোটিশে এ নির্দেশনা আসায় বিষয়টি আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে সেমিনারে পুলিশের হস্তক্ষেপ বা নিষেধাজ্ঞার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছেন নয়াদিল্লি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-নিউ দিল্লি রেঞ্জ) শচীন শর্মা। তিনি দাবি করেন, এফসিসির কোনো সেমিনারে তাদের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।
উপ-পুলিশ কমিশনারের এই দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার এর একটি প্রতিবেদনে। তাদের প্রকাশিত তিলক মার্গ থানার একটি লিখিত চিঠিতে দেখা যায়, এফসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে- ‘প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কিছু বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’ চিঠিটিতে সংশ্লিষ্ট থানার সিল ও ওসির স্বাক্ষরও রয়েছে।এফসিসি কর্মকর্তারা জানান, নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সেমিনারে হঠাৎ এভাবে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নজিরবিহীন।
সেমিনারের বক্তা ছিলেন যারা
নয়াদিল্লিতে স্থগিত হওয়া আন্তর্জাতিক এই সেমিনারে বিদেশি সাবেক কূটনীতিক ও গবেষকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বক্তাদের তালিকায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীনা সিক্রি, ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরন নবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও চেক রাজনীতিক ওন্দ্রেজ দোস্তাল।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ও আয়োজক সংস্থা ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’-এর মহাসচিব এ এফ এম গোলাম জিলানি সময়মতো ভারতের ভিসা না পাওয়ায় নয়াদিল্লি পৌঁছাতে পারেননি। অনুষ্ঠান বাতিল ও ভিসা পেতে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো বাংলাদেশ বা ভারত কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ইস্যু ছিল না। এটি ছিল মূলত ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কভিত্তিক একটি আলোচনা।’
সংগঠনটির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম জিলানি বলেন, তাদের সংস্থা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং এটি কেবল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। তবে আন্তর্জাতিক রেকর্ড ও তথ্যে দেখা যায়, ইউরোপে অতীতে আয়োজিত সংস্থাটির একাধিক কর্মসূচিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের নেতারা যৌথভাবে সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এফসিসি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা-ই এ সেমিনার বাতিলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ৫ আগস্ট এফসিসির অডিও লিংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ওই ঘটনায় ঢাকার বর্তমান সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের পরিবেশ ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে কোনো বিতর্ক যাতে না তৈরি হয়, সেই উদ্দেশ্যেই নয়াদিল্লির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তড়িঘড়ি করে সেমিনারটি বন্ধ করে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়ার

দিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ সংশ্লিষ্টদের সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল
সিজেডএন ডেস্ক

নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।বিতর্কিত তথ্যের কথা উল্লেখ করে নয়াদিল্লি পুলিশ আয়োজকদের সেমিনারটি না করার নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এফসিসি মিলনায়তনে বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ ও এফসিসির যৌথ উদ্যোগে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সেমিনারে আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যসহ একাধিক নেতার অংশগ্রহণের কথা ছিল। এর আগে এফসিসিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় ঢাকা তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত সেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পটভূমির জের ধরেই এ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে।
এফসিসি এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নয়াদিল্লি পুলিশের অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপের কারণেই পূর্বনির্ধারিত সেমিনারটি স্থগিত করতে হয়েছে। স্বল্প সময়ের নোটিশে এ নির্দেশনা আসায় বিষয়টি আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে সেমিনারে পুলিশের হস্তক্ষেপ বা নিষেধাজ্ঞার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছেন নয়াদিল্লি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-নিউ দিল্লি রেঞ্জ) শচীন শর্মা। তিনি দাবি করেন, এফসিসির কোনো সেমিনারে তাদের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।
উপ-পুলিশ কমিশনারের এই দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার এর একটি প্রতিবেদনে। তাদের প্রকাশিত তিলক মার্গ থানার একটি লিখিত চিঠিতে দেখা যায়, এফসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে- ‘প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কিছু বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’ চিঠিটিতে সংশ্লিষ্ট থানার সিল ও ওসির স্বাক্ষরও রয়েছে।এফসিসি কর্মকর্তারা জানান, নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সেমিনারে হঠাৎ এভাবে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নজিরবিহীন।
সেমিনারের বক্তা ছিলেন যারা
নয়াদিল্লিতে স্থগিত হওয়া আন্তর্জাতিক এই সেমিনারে বিদেশি সাবেক কূটনীতিক ও গবেষকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বক্তাদের তালিকায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীনা সিক্রি, ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরন নবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও চেক রাজনীতিক ওন্দ্রেজ দোস্তাল।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ও আয়োজক সংস্থা ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’-এর মহাসচিব এ এফ এম গোলাম জিলানি সময়মতো ভারতের ভিসা না পাওয়ায় নয়াদিল্লি পৌঁছাতে পারেননি। অনুষ্ঠান বাতিল ও ভিসা পেতে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো বাংলাদেশ বা ভারত কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ইস্যু ছিল না। এটি ছিল মূলত ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কভিত্তিক একটি আলোচনা।’
সংগঠনটির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম জিলানি বলেন, তাদের সংস্থা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং এটি কেবল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। তবে আন্তর্জাতিক রেকর্ড ও তথ্যে দেখা যায়, ইউরোপে অতীতে আয়োজিত সংস্থাটির একাধিক কর্মসূচিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের নেতারা যৌথভাবে সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এফসিসি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা-ই এ সেমিনার বাতিলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ৫ আগস্ট এফসিসির অডিও লিংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ওই ঘটনায় ঢাকার বর্তমান সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের পরিবেশ ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে কোনো বিতর্ক যাতে না তৈরি হয়, সেই উদ্দেশ্যেই নয়াদিল্লির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তড়িঘড়ি করে সেমিনারটি বন্ধ করে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়ার

‘৫ আগস্ট গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার কথা বলতে ভারতের বাধা নেই’







