শিরোনাম

ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যানারে জাগৃক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যানারে জাগৃক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন
ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যানারে সোমবার জাগৃক কার্যালয়ের ভেতরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) ঢাকা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউ ও সাত মসজিদ রোডের ডি-টাইপ কলোনির বাসিন্দাদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি আবাসন প্রকল্প দোলনচাঁপা ও কনকচাঁপার ফ্ল্যাট বরাদ্দে ইস্যু নিয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) জাগৃক কার্যালয়ের ভেতরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানবন্ধনকারীদের দাবি, প্রকৌশলী হারিজুর রহমান তাদেরকে পুনর্বাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। অন্যদিকে প্রকৌশলী হারিজুর রহমানের দাবি, মানবন্ধনে নেতৃত্ব দেওয়া মারগুব আহম্মদ নজিম উদ্দিনসহ উপস্থিতরা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় কমিটির সুপারিশে তাদের সেই তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে মো. হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘ফ্যাসিস্টের দোসরকে হটাও, প্রশাসন বাঁচাও’, ‘কনকচাঁপা-দোলনচাঁপায় আমাদের স্থায়ী আবাসন ফিরিয়ে দাও’ এবং ‘ন্যায়বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, মোহাম্মদপুরে নির্মাণাধীন দোলনচাঁপা ও কনকচাঁপা আবাসন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. হারিজুর রহমান ফ্ল্যাট লটারি ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস), ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বরাদ্দ দিয়েছে।

মানববন্ধনকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বঞ্চিত করে রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. হারিজুর রহমান। তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের ১০ জুন দোলনচাঁপা-কনকচাঁপা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। এর প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগেই বরাদ্দ কমিটি ফ্ল্যাট বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন করেছে। এর আগে কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।’

হারিজুর রহমান জানান, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের যাচাই-বাছাই করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে। ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বরে প্রসপেক্টাসের শর্ত পূরণ না হওয়ায় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১২৭ জনকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই তালিকার ১৫ নম্বরে থাকা মারগুব আহম্মদ নজিম উদ্দিন আজকের মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন।

/এসএ/