ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা

ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার। নতুন এই নীতিমালায় কারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে সরকার বৈষম্যহীন ও মানবিক একটি ‘সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো-উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যক্তির পরিবর্তে পরিবারকে বিবেচনা করা। এই ধারণার ভিত্তিতেই দেশের অতি দরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি সরকারি অর্থ স্থানান্তর বা জিটুপি পদ্ধতিতে প্রতি মাসে নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
যারা পাবে না ফ্যামিলি কার্ড
নীতিমালায় সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটি ‘নেতিবাচক তালিকা’ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যগুলোর যেকোনো একটি পরিবারের ক্ষেত্রে থাকলে তারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না।
নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের সীমা অতিক্রম করলে: সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে কোনো পরিবারের স্কোর বেশি হলে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য হবে না।
নারী পরিবারপ্রধান নিয়মিত সরকারি চাকরিতে থাকলে: পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি করেন এবং সেখান থেকে বেতন-ভাতা পান, তাহলে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীরাও এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
নিয়মিত সরকারি পেনশন পেলে: মনোনীত নারী পরিবারপ্রধান যদি সরকারি পেনশন বা একই ধরনের অবসরকালীন সুবিধা পান, তাহলেও তিনি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বিবেচিত হবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
সঞ্চয় বা বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। একইভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট কিংবা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলেও পরিবারটি তালিকা থেকে বাদ পড়বে।
তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএতে নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা মিলবে না। এ তালিকায় সিএনজি বা পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।
বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে অথবা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বৈধ ও হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে তিনি এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না।
করযোগ্য আয় ও নিয়মিত কর প্রদান করলে: পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
জমি ও বাণিজ্যিক সম্পদের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে: পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ যদি শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হয়, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে না।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসা প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বরকে ‘ওয়ান-আইডি’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এটি ওই পরিবারের কেন্দ্রীয় পরিচিতি হিসেবে কাজ করবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ওয়ান-আইডি কেবল একটি শনাক্তকরণ নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় থাকা মনোনীত নারী পরিবারপ্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে আর্থিক, খাদ্য বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না। অর্থাৎ কোনো নারী আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কিংবা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট বা ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধাভোগী হলে, কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাই করে তার আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে।
একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং এ ধরনের অন্যান্য সরকারি নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও। এসব সুবিধা গ্রহণকারী নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা চালু হওয়ার পর আগের সুবিধা একই সঙ্গে রাখতে পারবেন না। তবে পরিবারপ্রধান হিসেবে মনোনীত নারী ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। তারা প্রচলিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

দেশের দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার। নতুন এই নীতিমালায় কারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে সরকার বৈষম্যহীন ও মানবিক একটি ‘সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো-উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যক্তির পরিবর্তে পরিবারকে বিবেচনা করা। এই ধারণার ভিত্তিতেই দেশের অতি দরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি সরকারি অর্থ স্থানান্তর বা জিটুপি পদ্ধতিতে প্রতি মাসে নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
যারা পাবে না ফ্যামিলি কার্ড
নীতিমালায় সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটি ‘নেতিবাচক তালিকা’ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যগুলোর যেকোনো একটি পরিবারের ক্ষেত্রে থাকলে তারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না।
নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের সীমা অতিক্রম করলে: সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে কোনো পরিবারের স্কোর বেশি হলে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য হবে না।
নারী পরিবারপ্রধান নিয়মিত সরকারি চাকরিতে থাকলে: পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি করেন এবং সেখান থেকে বেতন-ভাতা পান, তাহলে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীরাও এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
নিয়মিত সরকারি পেনশন পেলে: মনোনীত নারী পরিবারপ্রধান যদি সরকারি পেনশন বা একই ধরনের অবসরকালীন সুবিধা পান, তাহলেও তিনি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বিবেচিত হবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
সঞ্চয় বা বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। একইভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট কিংবা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলেও পরিবারটি তালিকা থেকে বাদ পড়বে।
তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএতে নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা মিলবে না। এ তালিকায় সিএনজি বা পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।
বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে অথবা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বৈধ ও হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে তিনি এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না।
করযোগ্য আয় ও নিয়মিত কর প্রদান করলে: পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
জমি ও বাণিজ্যিক সম্পদের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে: পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ যদি শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হয়, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে না।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসা প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বরকে ‘ওয়ান-আইডি’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এটি ওই পরিবারের কেন্দ্রীয় পরিচিতি হিসেবে কাজ করবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ওয়ান-আইডি কেবল একটি শনাক্তকরণ নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় থাকা মনোনীত নারী পরিবারপ্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে আর্থিক, খাদ্য বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না। অর্থাৎ কোনো নারী আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কিংবা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট বা ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধাভোগী হলে, কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাই করে তার আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে।
একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং এ ধরনের অন্যান্য সরকারি নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও। এসব সুবিধা গ্রহণকারী নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা চালু হওয়ার পর আগের সুবিধা একই সঙ্গে রাখতে পারবেন না। তবে পরিবারপ্রধান হিসেবে মনোনীত নারী ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। তারা প্রচলিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার। নতুন এই নীতিমালায় কারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে সরকার বৈষম্যহীন ও মানবিক একটি ‘সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো-উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যক্তির পরিবর্তে পরিবারকে বিবেচনা করা। এই ধারণার ভিত্তিতেই দেশের অতি দরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি সরকারি অর্থ স্থানান্তর বা জিটুপি পদ্ধতিতে প্রতি মাসে নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
যারা পাবে না ফ্যামিলি কার্ড
নীতিমালায় সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটি ‘নেতিবাচক তালিকা’ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যগুলোর যেকোনো একটি পরিবারের ক্ষেত্রে থাকলে তারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না।
নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের সীমা অতিক্রম করলে: সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে কোনো পরিবারের স্কোর বেশি হলে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য হবে না।
নারী পরিবারপ্রধান নিয়মিত সরকারি চাকরিতে থাকলে: পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি করেন এবং সেখান থেকে বেতন-ভাতা পান, তাহলে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীরাও এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
নিয়মিত সরকারি পেনশন পেলে: মনোনীত নারী পরিবারপ্রধান যদি সরকারি পেনশন বা একই ধরনের অবসরকালীন সুবিধা পান, তাহলেও তিনি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বিবেচিত হবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
সঞ্চয় বা বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। একইভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট কিংবা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলেও পরিবারটি তালিকা থেকে বাদ পড়বে।
তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএতে নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা মিলবে না। এ তালিকায় সিএনজি বা পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।
বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে অথবা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বৈধ ও হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে তিনি এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না।
করযোগ্য আয় ও নিয়মিত কর প্রদান করলে: পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
জমি ও বাণিজ্যিক সম্পদের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে: পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ যদি শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হয়, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে না।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসা প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বরকে ‘ওয়ান-আইডি’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এটি ওই পরিবারের কেন্দ্রীয় পরিচিতি হিসেবে কাজ করবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ওয়ান-আইডি কেবল একটি শনাক্তকরণ নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় থাকা মনোনীত নারী পরিবারপ্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে আর্থিক, খাদ্য বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না। অর্থাৎ কোনো নারী আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কিংবা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট বা ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধাভোগী হলে, কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাই করে তার আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে।
একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং এ ধরনের অন্যান্য সরকারি নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও। এসব সুবিধা গ্রহণকারী নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা চালু হওয়ার পর আগের সুবিধা একই সঙ্গে রাখতে পারবেন না। তবে পরিবারপ্রধান হিসেবে মনোনীত নারী ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। তারা প্রচলিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

অবৈধ বাংলাদেশিদের দেশে ফেরা আরও সহজ করবে আরডিএমএস







