শিরোনাম

পূর্বাচলে প্রাতিষ্ঠানিক প্লটের চূড়ান্ত বরাদ্দ ঝুলে আছে ৮ বছর

পূর্বাচলে প্রাতিষ্ঠানিক প্লটের চূড়ান্ত বরাদ্দ ঝুলে আছে ৮ বছর
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। ছবি: হারুন-অর-রশীদ

রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দগ্রহীতারা প্রথম কিস্তি বাবদ কয়েক কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পর দখল ও চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র পাচ্ছে না। রাজউকের দরজায় ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত এমন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকটা আগ্রহ নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অংশ নিয়ে বরাদ্দ পাওয়া এসব প্লট এখন সংশ্লিস্টদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাড়িয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সদস্য, পরিচালক ও উপপরিচালক মিলে এ অপেশাদারী আচরণ করছেন। এতে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায়, অন্যদিকে সংস্থাটিও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত বরাদ্দ পাওয়ার পরও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। এসআইএস (সোশ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার), বি এন এস রিসোর্টস লিমিটেড, মেরিয়ট কনভেনশন সেন্টার, এ এইচ কনভেনশন হল এবং ঢাকা সাউথ ইউনিভার্সিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পূর্বাচল প্রকল্পকে পূর্ণাঙ্গ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, কনভেনশন সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে রাজউক বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। যাচাই-বাছাই শেষে বিধিমতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলো রাজউকের বেঁধে দেওয়া নিয়মে নির্ধারিত জামানত ও প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করে।

২০১৭ সালে পূর্বাচল প্রকল্পকে পূর্ণাঙ্গ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, কনভেনশন সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছবি: হারুন-অর-রশীদ
২০১৭ সালে পূর্বাচল প্রকল্পকে পূর্ণাঙ্গ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, কনভেনশন সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছবি: হারুন-অর-রশীদ

কিন্তু ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য চূড়ান্ত বরাদ্দের বিষয়ে একটি স্থগিতাদেশ দিয়ে চিঠি দেয়। এরপরই ঝুলে যায় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা নাটকীয়তার পর পূর্ত মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে গত চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালের স্থগিত করা চিঠি বাতিল করে স্বাভাবিক কার্যক্রম গ্রহণ করে বলে। যার ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র ইস্যুর জন্য দাপ্তরিক নথি অনুমোদন করেন। এরপর শুরু হয় নতুন আরেক জটিলতা। পূর্বাচল প্রকল্পের উপপরিচালক লিটন সরকার বরাদ্দপত্র ইস্যুতে গড়িমসির শুরু করেন।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন ও চেয়ারম্যানের অনুমোদন থাকার পরও উপপরিচালক চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র জারি করা আটকে রাখার বিষয়টি এখতিয়ার বর্হিভুত। এ কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতায় সরকারি রাজস্ব আদায় বিলম্বিত হচ্ছে এবং প্রকল্পে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজও পিছিয়ে পড়ছে।

চূড়ান্ত বরাদ্দ জারির একক এখতিয়ার আমার নেই। চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে প্লট আইডি বরাদ্দের নির্দেশনা না পাওয়ায় বরাদ্দপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্দেশনা পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে
লিটন সরকার উপপরিচালক, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প

এ বিষয়ে পূর্বাচল প্রকল্পের উপপরিচালক লিটন সরকার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, চূড়ান্ত বরাদ্দ জারির একক এখতিয়ার আমার নেই। চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে প্লট আইডি বরাদ্দের নির্দেশনা না পাওয়ায় বরাদ্দপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্দেশনা পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে।

নথি ঘেঁটে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত বরাদ্দ পাওয়ার পরও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। এগুলো হলো: এসআইএস (সোশ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার), বি এন এস রিসোর্টস লিমিটেড, মেরিয়ট কনভেনশন সেন্টার, এ এইচ কনভেনশন হল এবং ঢাকা সাউথ ইউনিভার্সিটি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০১৬ সালের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তে পূর্বাচলের ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৪ নম্বর সড়কে ৫০ দশমিক ৩৬ কাঠা আয়তনের একটি প্লট মেরিয়ট কনভেনশন সেন্টারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাঠাপ্রতি ১৫ লাখ টাকা ধরে প্লটটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে জামানত ১৫ লাখ টাকা এবং প্রথম কিস্তি ২ কোটি ৯৬ লাখ ২৬ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তে পূর্বাচলের ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৪ নম্বর সড়কে ৫০ দশমিক ৩৬ কাঠা আয়তনের একটি প্লট মেরিয়ট কনভেনশন সেন্টারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাঠাপ্রতি ১৫ লাখ টাকা ধরে প্লটটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে জামানত ১৫ লাখ টাকা এবং প্রথম কিস্তি ২ কোটি ৯৬ লাখ ২৬ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দপত্রে বলা হয়, উন্নয়নকাজ শেষে প্লটের দখল দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে মূল্য পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা থাকবে রাজউকের হাতে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি কিংবা দখল হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।

চূড়ান্ত বরাদ্দপত্রই না পাওয়ায় কিস্তি পরিশোধের পরবর্তী ধাপে যেতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির অর্থও জমা দিতে পারছে না। ছবি: হারুন-অর-রশীদ
চূড়ান্ত বরাদ্দপত্রই না পাওয়ায় কিস্তি পরিশোধের পরবর্তী ধাপে যেতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির অর্থও জমা দিতে পারছে না। ছবি: হারুন-অর-রশীদ

বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী, জমির পূর্ণ মূল্য পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রি বা চূড়ান্ত দখল দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বরাদ্দ বাতিলের বিধানও রয়েছে। চার বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠান চালু না করলে বরাদ্দ বাতিল হতে পারে– এমন অঙ্গীকারনামাও জমা দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু চূড়ান্ত বরাদ্দপত্রই না পাওয়ায় কিস্তি পরিশোধের পরবর্তী ধাপে যেতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির অর্থও জমা দিতে পারছে না।

এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তার ব্যক্তিগতে মোবাইলে একাধিকার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

/এসএ/