
সিটিজেন স্পোর্টস ডেস্ক

প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই ভুল করেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি তারা। পরে ইনজুরি সময়েও ব্যবধান ধরে রাখেন হালিমা-আফঈদারা।
চীনের মতো দলের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা দেখে বলতেই হয় বাংলাদেশ দল লেটার মার্ক পেয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে একের পর এক আহত হচ্ছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। হালিমা নাকে ব্যথা পেয়েছেন। এরপর গোকিপার মিলি আক্তারও আঘাত পান।
দ্বিতীয়ার্ধে ৮৫ মিনিট পেরোলোও কোনো গোল হজম করেনি বাংলাদেশ।
৭৪ মিনিটে কর্নার পায় বাংলাদেশ। কর্নার শটে বাংলাদেশের শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ফেলে দেন চীনের ডিফেন্ডার লিউ ইয়াটং। এক মিনিট পর ভিএআর চেক হয় পেনাল্টি ছিল কি না তা নিশ্চিত হতে। কিন্তু রেফারি মাঠের বাইরে মনিটর দেখে জানান, পেনাল্টি দেওয়ার মতো অপরাধ করেননি ইয়াটং।
৬৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চীনের ডিফেন্ডার ঝ্যাং চেনগুয়ের দুরপাল্লার শট রুখে দেন বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তার।
৬৩ মিনিটে দুটি পরির্ব্তন চীনের। লিউ জিংকে তুলে ঝ্যাং জিনকে মাঠে নামিয়েছেন চীনের কোচ অ্যান্থনি মিলিচিচ।
ম্যাচের গোলদাতা ওয়াং সুয়াংকে তুলে ট্যাং জিয়ালিকে মাঠে নামানো হয়েছে।
৫৩ মিনিটে ডিফেন্ডার নবীরনকে তুলে মিডফিল্ডার স্বপ্না রানীকে মাঠে নামিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। গোল পেতে মরিয়া বাংলাদেশ।
মিডফিল্ডার স্বপ্না মাঠে নামার পর আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে স্বপ্না পায়ের কাজে ফাঁকা জায়গা তৈরির চেষ্টা করছেন। অন্যদের তুলনায় পরে মাঠে নামায় ক্ষিপ্রতার সঙ্গে দৌড়াতে পারছেন।
বাংলাদেশ:
মিডফিল্ডার উমহেলা মারমাকে তুলে ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুনকে নামানো হয়েছে।
ডিফেন্ডার শিউলি আজিমকে তুলে হালিমা আক্তারকে নামানো হয়েছে।
চীন:
জিন কুনের জায়গায় নেমেছেন জাই জংমেই।
চীন বল দখলে রেখেছে ৬৩.৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ বল দখলে রেখেছে ৩৬.৭ শতাংশ।
মোট ১৩টি শট নিয়েছে চীন। এর মধ্যে ৭টি শট ছিল পোস্টে।
মোট ৩টি শট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। ২টি শট ছিল পোস্টে।
২টি ফাউল করেছেন চীনের খেলোয়াড়রা।
৩টি ফাউল করেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।
৩টি কর্নার পেয়েছে চীন। বাংলাদেশ পেয়েছে ২টি কর্নার।
২টি গোল সেভ করেছে চীন। ৫ টি গোল সেভ করেছে বাংলাদেশ।
১টি হলুদ কার্ড দেখেছে চীন।

প্রথমার্ধে ৪০ মিনিট পর্যন্ত শক্তিশালী চীনের সঙ্গে টক্কর দিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ৪৪ ও ৪৬ মিনিটে দুটি গোল হজম করে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে আফঈদার দল। এ দুটি গোল ছাড়া এশিয়ান কাপে ৯ বারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খুব একটা খারাপ খেলেনি বাংলাদেশ দল।
১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার দুরপাল্লার শট থেকে বাংলাদেশ গোল পেয়ে যেতে পারতো! চীনের গোলকিপারের দৃঢ়তায় তা হয়নি।
৪৪ মিনিটে দুরপাল্লার শটে গোল করলেন চীনের মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং। বক্সের বাইরে থেকে বাতাসে ভাসানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান।
এই গোলের আগ পর্যন্ত ভালোই খেলছিল বাংলাদেশ। দক্ষতায় পাল্লা দিতে পারলেও শারীরিক সামর্থ্যে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না। তবুও ভালো রক্ষণ সামলেছে তারা।
এর এক মিনিট পর আবারও গোল হজম করে বাংলাদেশ।
৩৩ মিনিটে হালকা চোট পাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে মাঠের বাইরে যান ঋতুপর্ণা। তার মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকে বাংলাদেশ।
পরে ৩৭ মিনিটে মাঠে ফিরেছেন ঋতুপর্ণা।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে গোল হজম করে বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত থেকে জিন কুনের ক্রস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে হেডে গোল করেন ওয়াং সুয়া। কিন্তু বাধ সাধে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)।
চার মিনিটেরও বেশি সময় নেন তাঁরা। মাঠের রেফারি পানসা চাইসেইন্ট মাঠের পাশে ভিডিও মনিটরে রিপ্লে দেখে এসে গোল বাতিলের বাঁশি বাজান। ওয়াং সুয়াং অফসাইড হওয়ায় গোলটি বাতিল করা হলো।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাঁ উইং ফাঁকা পেয়ে যান বাংলাদেশের তারকা উইঙ্গার ঋতুপর্ণা। গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে নিয়েই বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট নেন। এমন শট থেকে তিনি গোল আগেও করেছেন।
এবারও বলটা বাতাসে ভাসতে ভাসতে গোলপোস্টে ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্তে ঠেকিয়ে দেন চীনের গোলকিপার চেন চেন।
দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের। দারুণ এক বুদ্ধিদীপ্ত কুশলী শট ছিল ঋতুপর্ণার।
ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বড় চমক দেখিয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার। অভিজ্ঞ গোলকিপার রুপনা চাকমাকে বাইরে রেখেই মূলত একাদশ সাজিয়েছেন কোচ।
পোস্টে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ মিলি আক্তারকে। মূলত উচ্চতার কারণে মিলিকে এই ম্যাচে বেছে নিয়েছেন কোচ। এই ম্যাচে রক্ষণাত্মক কৌশলেই দল সাজিয়েছেন বাটলার।
রক্ষণভাগের দায়িত্ব সামলাবেন শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও নবীরন খাতুন। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতি-আক্রমণ গড়ার দায়িত্ব থাকছে নির্ভরযোগ্য চার ফুটবলারের ওপর। মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও উমেলাহ মারমা। একক স্ট্রাইকার হিসেবে চীনের লম্বা ও শক্তিশালী ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে লড়াই করতে হবে শাসসুন্নাহার জুনিয়রকে।
বাংলাদেশের একাদশ
গোলরক্ষক: মিলি আক্তার।
ডিফেন্ডার: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও নবীরন খাতুন।
মিডফিল্ডার: মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উমেলাহ মারমা।
স্ট্রাইকার: শামসুন্নাহার জুনিয়র।