শিরোনাম

দুবাই ছাড়ার হিড়িক, প্রাইভেট জেট ভাড়া আকাশছোঁয়া

সিটিজেন ডেস্ক
দুবাই ছাড়ার হিড়িক, প্রাইভেট জেট ভাড়া আকাশছোঁয়া
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান ড্রোন হামলা করেছে। ছবি: এপি

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের হামলার মুখে দুবাইয়ে মার্কিন স্থাপনাগুলো। এতে বিমানবন্দর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শহরটিতে বসবাসরত ধনী ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বিমান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় দুবাই ছাড়তে এখন অনেকের ভরসা ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বা প্রাইভেট জেট। ফলে প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প আসনের একটি জেটে মাসকাট থেকে ইস্তাম্বুল যেতে এখন গুনতে হচ্ছে প্রায় ৮৫ হাজার ইউরো, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

মস্কোগামী চার্টার ফ্লাইটে একেকটি আসনের ভাড়া ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত উঠেছে। রিয়াদ থেকে ইউরোপের কোনো কোনো ফ্লাইটের ভাড়া সাড়ে ৩ লাখ ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভিমানা প্রাইভেট জেটসের প্রধান নির্বাহী আমির ন্যারান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবারও (২ মার্চ) বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় তেহরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে সড়কপথে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা দূরের ওমানের রাজধানী মাসকাটে ছুটছেন। তবে সেখান থেকেও ইউরোপগামী অধিকাংশ ফ্লাইটের টিকিট সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়ে গেছে।

আটকা পড়া পর্যটকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দুবাই পর্যটন কর্তৃপক্ষ হোটেলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, ফ্লাইট জটিলতায় আটকে পড়া অতিথিদের আগের ভাড়ায় থাকার মেয়াদ বাড়াতে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পর্যটক অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা কক্ষ ছাড়ার চাপের অভিযোগ তুলেছেন।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ায় একাধিক প্রমোদতরি মাঝসমুদ্রে নোঙর করে আছে। নিরাপত্তার কারণে যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হচ্ছে না।

ইতালিতে এ পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো সরকারি উড়োজাহাজে করে দুবাই থেকে দেশে ফেরায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, সাধারণ নাগরিকেরা যখন আটকা, তখন মন্ত্রীর বিশেষ সুবিধায় দেশে ফেরা অনৈতিক। যদিও তিনি দাবি করেছেন, ভ্রমণের খরচ নিজেই বহন করেছেন।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, সীমিত আকারে কিছু ফ্লাইট চলাচল করছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এসএ/