শিরোনাম

হিজবুল্লাহর সামরিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ

সিটিজেন ডেস্ক
হিজবুল্লাহর সামরিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ
ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননে ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখা যাচ্ছে (লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম)। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে হামলা ও পাল্টা হামলার পর লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লার সামরিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। সেইসঙ্গে গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক কার্যক্রমও সীমিত করেছেন তিনি।

সোমবার (২ মার্চ) রাজধানী বৈরুতের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন নাওয়াফ। সেই বৈঠকে চেয়ারম্যান ছিলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে নাওয়াফ বলেন, ‘আজ থেকে লেবাননের সরকারি সেনাবাহিনী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সবধরনের সামরিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভা বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে যেকোনো সামরিক অভিযান নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ক যেকোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ছয়টি শহরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের সূচনা হয়। এর পরদিন, ১ মার্চ থেকে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এটি ছিল হিজবুল্লাহর প্রথম সামরিক পদক্ষেপ।

তবে ওই দিনই লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর এই হামলাকে ‘দায়িত্বহীন’ আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

এদিকে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে লেবাননজুড়ে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। দখলদার দেশটির হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই হতাহতের খবর জানানো হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫৪ জন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর আগে ৩১ জন নিহত ও ১৪৯ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছিল।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ ও পূর্ব লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ব্যাপক বোমা হামলার কারণে এখন পর্যন্ত ২৮ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।

সূত্র : এএফপি, আল জাজিরা

/জেএইচ/