দিনের মধ্যেই ফিরে আসার জন্য ঢাকার আশেপাশে ঘোরার ৯ দর্শনীয় স্থান

দিনের মধ্যেই ফিরে আসার জন্য ঢাকার আশেপাশে ঘোরার ৯ দর্শনীয় স্থান
অনলাইন ডেস্ক

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ আর ধূলিমলিন ঢাকার যান্ত্রিকতা থেকে একটু জিরিয়ে নিতে অনেকেই চান ছুটির দিনে কোথাও ঘুরতে যেতে। তবে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি এড়াতে ডে-ট্রিপ বা দিনে গিয়ে দিনে ফেরার মতো জায়গাগুলোর চাহিদাই এখন সবচেয়ে বেশি। ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে অল্প সময়ে রিফ্রেশ হয়ে নেওয়ার জন্য ঢাকার একেবারেই কাছে রয়েছে চমৎকার কিছু বিনোদন কেন্দ্র ও মুক্ত পরিবেশ।
আপনার ছুটির দিনটি সুন্দর ও স্মৃতিময় করতে ঢাকার আশেপাশের দর্শনীয় স্থানের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
পূর্বাচল নতুন শহর (২১ নম্বর সেক্টর)
বিকেলের নির্মল বাতাস ও আড্ডার জন্য ঢাকার খুব কাছেই আদর্শ স্থান পূর্বাচল। বিশেষ করে ২১ নম্বর সেক্টরের 'ব্লু লেক' কেন্দ্রিক খোলামেলা রেস্তোরাঁগুলো ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের শীর্ষে। এখানে লেকের পাড়ে বসে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের পাশাপাশি কাবাব, গ্রিল, নান, ফ্রায়েড রাইস কিংবা খিচুড়ির মতো নানা পদের সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়।
জিন্দা পার্ক (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)
গাছগাছালি, লেক ও পাখির কিচিরমিচিরে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে চলে যেতে পারেন জিন্দা পার্কে। ৩০০ ফিট রাস্তা ধরে কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে ঢাকা সিটি বাইপাস দিয়ে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। মাত্র ১০০ টাকার প্রবেশ টিকিটে পুরো দিনটি কাটিয়ে দেওয়া যায় বিশাল এই পার্কে। দুপুরের খাবারের জন্য পার্কের ভেতরেই রয়েছে সুব্যবস্থা।
গোলাপ গ্রাম (সাভার)
তুরাগ নদীর তীরে সাভারের বিরুলিয়া গ্রামজুড়ে বিস্তীর্ণ গোলাপ বাগান রয়েছে, যা 'গোলাপ গ্রাম' নামে বহুল পরিচিত। লাল গোলাপের সৌন্দর্য ও তাজা সুবাস উপভোগ করতে মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে সরাসরি বিরুলিয়া ব্রিজ দিয়ে কিংবা দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে চলে যেতে পারেন এই রূপময় গ্রামে।
'ঠিকানা' ডে-আউটার (বেরাইদ)
বারিধারা থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্বে বেরাইদের বালু নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যাফে ও ডে-আউট স্পট 'ঠিকানা'। আম বাগানের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবারের সঙ্গে অলস বিকেল উদযাপনের দারুণ সুযোগ রয়েছে এখানে। ছোটদের দাপাদাপির জন্য বিশাল খোলা মাঠের পাশাপাশি দারুণ সব খাবারের আয়োজন পরিবেশন করে স্থানটি।
এছাড়াও ঢাকা শহর ঘিরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র, যেখানে সকালে গিয়ে বিকেলেই ফিরে আসা সম্ভব।
রাজেন্দ্রপুর ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট (গাজীপুর)
প্রকৃতি ও আধুনিকতার দারুণ সমন্বয় দেখতে চাইলে যেতে পারেন গাজীপুরের চত্বর বাজারে অবস্থিত ড্রিম স্কয়ারে। বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই রিসোর্টটি তার চোখ জুড়ানো সবুজ প্রান্তর, সুবিশাল লেক ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। এখানে রয়েছে ওয়াটার বাংলো, কটেজ ও চিলড্রেনস প্লে জোন। পরিবার নিয়ে নিরিবিলি একদিন কাটানোর জন্য এটি উপযুক্ত স্থান।
জল ও জঙ্গলের কাব্য (পূবাইল, গাজীপুর)
নামের মতোই সম্পূর্ণ প্রাকৃতির ছোঁয়ায় তৈরি এই রিসোর্টটি গাজীপুরের পূবাইলে অবস্থিত। গ্রামীণ পরিবেশ, বাঁশ ও ছনের তৈরি ঘর, বিলের পানিতে নৌকায় ঘুরে বেড়ানো আর তাজা দেশি খাবারের স্বাদের জন্য এটি ভ্রমণপিপাসুদের ভীষণ প্রিয়। কোনো কৃত্রিম বা বিলাসী আয়োজন ছাড়াই এখানে মেলে একদম খাঁটি গ্রাম্য অভিজ্ঞতা।
বালীটিয়া রিসোর্ট (কেরানীগঞ্জ)
ঢাকা থেকে সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছানোর মতো একটি সুন্দর স্থান কেরানীগঞ্জের হেমায়েতপুর-সিংগাইর রোডের পাশে অবস্থিত বালীটিয়া রিসোর্ট। খুব বেশি দূরে না গিয়ে স্বল্প বাজেটে বা কম সময়ে ডে-আউট ডে ট্রিপের জন্য এটি একটি আদর্শ স্পট। সবুজ বাগান, स्विमिंग পুল এবং সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
রিসোর্ট বাম্বু ভিলেজ (সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ)
ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব বাম্বু ভিলেজ। বাঁশ ও প্রাকৃতির উপাদানে তৈরি এই রিসোর্টটির বিশেষত্ব হলো নদীঘেঁষা মুক্ত হাওয়া ও গ্রামীণ আবহ। ঢাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে সহজেই এক ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় এখানে। পানাম নগরী ঘুরে বিকেলে এখানে সময় কাটানো চমৎকার একটি পরিকল্পনা হতে পারে।
ছুটি রিসোর্ট (গাজীপুর)
গাজীপুরের সুকন্দিপুর গ্রামে অবস্থিত 'ছুটি রিসোর্ট' গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধুনিক সুবিধার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই রিসোর্টে আছে সুইমিং পুল, বোটিং, বিশাল খেলার মাঠ এবং প্রাকৃতিক লেক। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে ডে-আউটে যাওয়ার জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ প্রদান করে এই রিসোর্টটি।
ডে-ট্রিপের কিছু জরুরি টিপস
* দিনব্যাপী ঘোরাঘুরির ক্ষেত্রে রিসোর্টগুলোর ‘ডে-আউট প্যাকেজ’ বা বুফে বুকিং সুবিধা নেওয়া বেশি সুবিধাজনক।
* সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার ও শনিবার) অতিরিক্ত ভিড় থাকে, তাই আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
* খুব সকালে রওনা দিলে যাতায়াতের সময় বাঁচে এবং পুরো দিনটি উপভোগ করা যায়।
/এবি/

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ আর ধূলিমলিন ঢাকার যান্ত্রিকতা থেকে একটু জিরিয়ে নিতে অনেকেই চান ছুটির দিনে কোথাও ঘুরতে যেতে। তবে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি এড়াতে ডে-ট্রিপ বা দিনে গিয়ে দিনে ফেরার মতো জায়গাগুলোর চাহিদাই এখন সবচেয়ে বেশি। ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে অল্প সময়ে রিফ্রেশ হয়ে নেওয়ার জন্য ঢাকার একেবারেই কাছে রয়েছে চমৎকার কিছু বিনোদন কেন্দ্র ও মুক্ত পরিবেশ।
আপনার ছুটির দিনটি সুন্দর ও স্মৃতিময় করতে ঢাকার আশেপাশের দর্শনীয় স্থানের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
পূর্বাচল নতুন শহর (২১ নম্বর সেক্টর)
বিকেলের নির্মল বাতাস ও আড্ডার জন্য ঢাকার খুব কাছেই আদর্শ স্থান পূর্বাচল। বিশেষ করে ২১ নম্বর সেক্টরের 'ব্লু লেক' কেন্দ্রিক খোলামেলা রেস্তোরাঁগুলো ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের শীর্ষে। এখানে লেকের পাড়ে বসে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের পাশাপাশি কাবাব, গ্রিল, নান, ফ্রায়েড রাইস কিংবা খিচুড়ির মতো নানা পদের সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়।
জিন্দা পার্ক (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)
গাছগাছালি, লেক ও পাখির কিচিরমিচিরে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে চলে যেতে পারেন জিন্দা পার্কে। ৩০০ ফিট রাস্তা ধরে কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে ঢাকা সিটি বাইপাস দিয়ে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। মাত্র ১০০ টাকার প্রবেশ টিকিটে পুরো দিনটি কাটিয়ে দেওয়া যায় বিশাল এই পার্কে। দুপুরের খাবারের জন্য পার্কের ভেতরেই রয়েছে সুব্যবস্থা।
গোলাপ গ্রাম (সাভার)
তুরাগ নদীর তীরে সাভারের বিরুলিয়া গ্রামজুড়ে বিস্তীর্ণ গোলাপ বাগান রয়েছে, যা 'গোলাপ গ্রাম' নামে বহুল পরিচিত। লাল গোলাপের সৌন্দর্য ও তাজা সুবাস উপভোগ করতে মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে সরাসরি বিরুলিয়া ব্রিজ দিয়ে কিংবা দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে চলে যেতে পারেন এই রূপময় গ্রামে।
'ঠিকানা' ডে-আউটার (বেরাইদ)
বারিধারা থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্বে বেরাইদের বালু নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যাফে ও ডে-আউট স্পট 'ঠিকানা'। আম বাগানের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবারের সঙ্গে অলস বিকেল উদযাপনের দারুণ সুযোগ রয়েছে এখানে। ছোটদের দাপাদাপির জন্য বিশাল খোলা মাঠের পাশাপাশি দারুণ সব খাবারের আয়োজন পরিবেশন করে স্থানটি।
এছাড়াও ঢাকা শহর ঘিরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র, যেখানে সকালে গিয়ে বিকেলেই ফিরে আসা সম্ভব।
রাজেন্দ্রপুর ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট (গাজীপুর)
প্রকৃতি ও আধুনিকতার দারুণ সমন্বয় দেখতে চাইলে যেতে পারেন গাজীপুরের চত্বর বাজারে অবস্থিত ড্রিম স্কয়ারে। বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই রিসোর্টটি তার চোখ জুড়ানো সবুজ প্রান্তর, সুবিশাল লেক ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। এখানে রয়েছে ওয়াটার বাংলো, কটেজ ও চিলড্রেনস প্লে জোন। পরিবার নিয়ে নিরিবিলি একদিন কাটানোর জন্য এটি উপযুক্ত স্থান।
জল ও জঙ্গলের কাব্য (পূবাইল, গাজীপুর)
নামের মতোই সম্পূর্ণ প্রাকৃতির ছোঁয়ায় তৈরি এই রিসোর্টটি গাজীপুরের পূবাইলে অবস্থিত। গ্রামীণ পরিবেশ, বাঁশ ও ছনের তৈরি ঘর, বিলের পানিতে নৌকায় ঘুরে বেড়ানো আর তাজা দেশি খাবারের স্বাদের জন্য এটি ভ্রমণপিপাসুদের ভীষণ প্রিয়। কোনো কৃত্রিম বা বিলাসী আয়োজন ছাড়াই এখানে মেলে একদম খাঁটি গ্রাম্য অভিজ্ঞতা।
বালীটিয়া রিসোর্ট (কেরানীগঞ্জ)
ঢাকা থেকে সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছানোর মতো একটি সুন্দর স্থান কেরানীগঞ্জের হেমায়েতপুর-সিংগাইর রোডের পাশে অবস্থিত বালীটিয়া রিসোর্ট। খুব বেশি দূরে না গিয়ে স্বল্প বাজেটে বা কম সময়ে ডে-আউট ডে ট্রিপের জন্য এটি একটি আদর্শ স্পট। সবুজ বাগান, स्विमिंग পুল এবং সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
রিসোর্ট বাম্বু ভিলেজ (সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ)
ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব বাম্বু ভিলেজ। বাঁশ ও প্রাকৃতির উপাদানে তৈরি এই রিসোর্টটির বিশেষত্ব হলো নদীঘেঁষা মুক্ত হাওয়া ও গ্রামীণ আবহ। ঢাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে সহজেই এক ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় এখানে। পানাম নগরী ঘুরে বিকেলে এখানে সময় কাটানো চমৎকার একটি পরিকল্পনা হতে পারে।
ছুটি রিসোর্ট (গাজীপুর)
গাজীপুরের সুকন্দিপুর গ্রামে অবস্থিত 'ছুটি রিসোর্ট' গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধুনিক সুবিধার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই রিসোর্টে আছে সুইমিং পুল, বোটিং, বিশাল খেলার মাঠ এবং প্রাকৃতিক লেক। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে ডে-আউটে যাওয়ার জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ প্রদান করে এই রিসোর্টটি।
ডে-ট্রিপের কিছু জরুরি টিপস
* দিনব্যাপী ঘোরাঘুরির ক্ষেত্রে রিসোর্টগুলোর ‘ডে-আউট প্যাকেজ’ বা বুফে বুকিং সুবিধা নেওয়া বেশি সুবিধাজনক।
* সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার ও শনিবার) অতিরিক্ত ভিড় থাকে, তাই আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
* খুব সকালে রওনা দিলে যাতায়াতের সময় বাঁচে এবং পুরো দিনটি উপভোগ করা যায়।
/এবি/

দিনের মধ্যেই ফিরে আসার জন্য ঢাকার আশেপাশে ঘোরার ৯ দর্শনীয় স্থান
অনলাইন ডেস্ক

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ আর ধূলিমলিন ঢাকার যান্ত্রিকতা থেকে একটু জিরিয়ে নিতে অনেকেই চান ছুটির দিনে কোথাও ঘুরতে যেতে। তবে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি এড়াতে ডে-ট্রিপ বা দিনে গিয়ে দিনে ফেরার মতো জায়গাগুলোর চাহিদাই এখন সবচেয়ে বেশি। ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে অল্প সময়ে রিফ্রেশ হয়ে নেওয়ার জন্য ঢাকার একেবারেই কাছে রয়েছে চমৎকার কিছু বিনোদন কেন্দ্র ও মুক্ত পরিবেশ।
আপনার ছুটির দিনটি সুন্দর ও স্মৃতিময় করতে ঢাকার আশেপাশের দর্শনীয় স্থানের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
পূর্বাচল নতুন শহর (২১ নম্বর সেক্টর)
বিকেলের নির্মল বাতাস ও আড্ডার জন্য ঢাকার খুব কাছেই আদর্শ স্থান পূর্বাচল। বিশেষ করে ২১ নম্বর সেক্টরের 'ব্লু লেক' কেন্দ্রিক খোলামেলা রেস্তোরাঁগুলো ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের শীর্ষে। এখানে লেকের পাড়ে বসে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের পাশাপাশি কাবাব, গ্রিল, নান, ফ্রায়েড রাইস কিংবা খিচুড়ির মতো নানা পদের সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়।
জিন্দা পার্ক (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)
গাছগাছালি, লেক ও পাখির কিচিরমিচিরে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে চলে যেতে পারেন জিন্দা পার্কে। ৩০০ ফিট রাস্তা ধরে কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে ঢাকা সিটি বাইপাস দিয়ে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। মাত্র ১০০ টাকার প্রবেশ টিকিটে পুরো দিনটি কাটিয়ে দেওয়া যায় বিশাল এই পার্কে। দুপুরের খাবারের জন্য পার্কের ভেতরেই রয়েছে সুব্যবস্থা।
গোলাপ গ্রাম (সাভার)
তুরাগ নদীর তীরে সাভারের বিরুলিয়া গ্রামজুড়ে বিস্তীর্ণ গোলাপ বাগান রয়েছে, যা 'গোলাপ গ্রাম' নামে বহুল পরিচিত। লাল গোলাপের সৌন্দর্য ও তাজা সুবাস উপভোগ করতে মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে সরাসরি বিরুলিয়া ব্রিজ দিয়ে কিংবা দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে চলে যেতে পারেন এই রূপময় গ্রামে।
'ঠিকানা' ডে-আউটার (বেরাইদ)
বারিধারা থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্বে বেরাইদের বালু নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যাফে ও ডে-আউট স্পট 'ঠিকানা'। আম বাগানের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবারের সঙ্গে অলস বিকেল উদযাপনের দারুণ সুযোগ রয়েছে এখানে। ছোটদের দাপাদাপির জন্য বিশাল খোলা মাঠের পাশাপাশি দারুণ সব খাবারের আয়োজন পরিবেশন করে স্থানটি।
এছাড়াও ঢাকা শহর ঘিরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র, যেখানে সকালে গিয়ে বিকেলেই ফিরে আসা সম্ভব।
রাজেন্দ্রপুর ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট (গাজীপুর)
প্রকৃতি ও আধুনিকতার দারুণ সমন্বয় দেখতে চাইলে যেতে পারেন গাজীপুরের চত্বর বাজারে অবস্থিত ড্রিম স্কয়ারে। বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই রিসোর্টটি তার চোখ জুড়ানো সবুজ প্রান্তর, সুবিশাল লেক ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। এখানে রয়েছে ওয়াটার বাংলো, কটেজ ও চিলড্রেনস প্লে জোন। পরিবার নিয়ে নিরিবিলি একদিন কাটানোর জন্য এটি উপযুক্ত স্থান।
জল ও জঙ্গলের কাব্য (পূবাইল, গাজীপুর)
নামের মতোই সম্পূর্ণ প্রাকৃতির ছোঁয়ায় তৈরি এই রিসোর্টটি গাজীপুরের পূবাইলে অবস্থিত। গ্রামীণ পরিবেশ, বাঁশ ও ছনের তৈরি ঘর, বিলের পানিতে নৌকায় ঘুরে বেড়ানো আর তাজা দেশি খাবারের স্বাদের জন্য এটি ভ্রমণপিপাসুদের ভীষণ প্রিয়। কোনো কৃত্রিম বা বিলাসী আয়োজন ছাড়াই এখানে মেলে একদম খাঁটি গ্রাম্য অভিজ্ঞতা।
বালীটিয়া রিসোর্ট (কেরানীগঞ্জ)
ঢাকা থেকে সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছানোর মতো একটি সুন্দর স্থান কেরানীগঞ্জের হেমায়েতপুর-সিংগাইর রোডের পাশে অবস্থিত বালীটিয়া রিসোর্ট। খুব বেশি দূরে না গিয়ে স্বল্প বাজেটে বা কম সময়ে ডে-আউট ডে ট্রিপের জন্য এটি একটি আদর্শ স্পট। সবুজ বাগান, स्विमिंग পুল এবং সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
রিসোর্ট বাম্বু ভিলেজ (সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ)
ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব বাম্বু ভিলেজ। বাঁশ ও প্রাকৃতির উপাদানে তৈরি এই রিসোর্টটির বিশেষত্ব হলো নদীঘেঁষা মুক্ত হাওয়া ও গ্রামীণ আবহ। ঢাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে সহজেই এক ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় এখানে। পানাম নগরী ঘুরে বিকেলে এখানে সময় কাটানো চমৎকার একটি পরিকল্পনা হতে পারে।
ছুটি রিসোর্ট (গাজীপুর)
গাজীপুরের সুকন্দিপুর গ্রামে অবস্থিত 'ছুটি রিসোর্ট' গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধুনিক সুবিধার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই রিসোর্টে আছে সুইমিং পুল, বোটিং, বিশাল খেলার মাঠ এবং প্রাকৃতিক লেক। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে ডে-আউটে যাওয়ার জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ প্রদান করে এই রিসোর্টটি।
ডে-ট্রিপের কিছু জরুরি টিপস
* দিনব্যাপী ঘোরাঘুরির ক্ষেত্রে রিসোর্টগুলোর ‘ডে-আউট প্যাকেজ’ বা বুফে বুকিং সুবিধা নেওয়া বেশি সুবিধাজনক।
* সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার ও শনিবার) অতিরিক্ত ভিড় থাকে, তাই আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
* খুব সকালে রওনা দিলে যাতায়াতের সময় বাঁচে এবং পুরো দিনটি উপভোগ করা যায়।
/এবি/









