শিরোনাম

মৃত স্বামীকে দেখতে পাবেন দীপু মনি? কী বলছে আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
মৃত স্বামীকে দেখতে পাবেন দীপু মনি? কী বলছে আইন
তৌফিক নেওয়াজ ও দীপু মনি

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির স্বামী এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে দশটার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুতে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ডা. দীপু মনির সাময়িক প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হবে। তার আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তৌফিক নেওয়াজ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার জানাজা ও দাফন কোথায় এবং কখন হবে, তা আজ (বুধবার) দুপুরের পর পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বামীর জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে বুধবার তার সাময়িক প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হবে।

প্রসঙ্গত, কারাগারে বন্দি কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে স্বল্প সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়াকে প্যারোল বলা হয়। ফরাসি শব্দ ‘প্যারোল’-এর অর্থ প্রতিশ্রুতি। দেশের বিদ্যমান আইনে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধানের পূর্ণ বিবরণ নেই। তবে বন্দীর ক্ষেত্রে জরুরি মানবিক প্রয়োজন দেখা দিলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করা হয়। সচরাচর বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নিতে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার এই মুক্তি কার্যকর করা হয়।

সাধারণ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পর বিচারিক আদেশে জামিনে মুক্তি বা কারাগারে পাঠানো হয়। তবে প্যারোল আদালতের কোনো বিচারিক আদেশ নয়। এটি সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা নির্বাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক আদেশ। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, অপরাধের ধরন ভেদে আদালত নির্দিষ্ট জামানতে জামিন মঞ্জুর করতে পারে কিংবা তদন্ত ১২০ দিনের মধ্যে শেষ না হলে নির্ধারিত শর্তে আদালত জামিন দিতে পারে। তবে প্যারোল কোনো জামিন নয়।

২০১৬ সালের জুনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রণীত প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো বন্দীর নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে কিংবা বিশেষ কারণে প্যারোল অনুমোদন দেওয়া যায়। এই নীতিমালায় বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখা ও ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

/জেএইচ/