সিন্ডিকেটের হাতে বই ছাপার বাজার, কী করছে সরকার

সিন্ডিকেটের হাতে বই ছাপার বাজার, কী করছে সরকার
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার প্রতিযোগিতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩০ কোটি ৬১ লাখ বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে আহ্বান করা ৫৯৬টি লটের মধ্যে প্রায় ৬০টিতেই মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হওয়া এবং আগের বছর অনিয়মে অভিযুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বই ছাপার বাজারে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী এই বলয়, প্রতিযোগিতার ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি ছাপাখানার মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকটি লটে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে বেশি দর প্রস্তাবের তথ্যও মিলেছে। ফলে সীমিত প্রতিযোগিতার এই চিত্রে একদিকে বই ছাপার বাজারে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী বলয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে সরকারি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও সামনে আসছে। দেশে ছোট-বড় সহস্রাধিক ছাপাখানা থাকলেও সরকারি বই ছাপার কাজে প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে। কম প্রতিযোগিতায় বাড়ছে সরকারি ব্যয়ের ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দরপত্রে প্রতিযোগিতা সীমিত থাকায় কয়েকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিয়ে ইচ্ছামতো দর নির্ধারণের সুযোগ পেতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান কম থাকলে কম দামে কাজ পাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাও তৈরি হয় না। ফলে প্রাক্কলিত দরের কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি দরে কাজ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারি অর্থের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাদের মতে, বড় কাজগুলো একই গোষ্ঠীর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘুরপাক খেলে বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা আরও সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বই ছাপার ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
তবে এনসিটিবি বলছে, এবার দরপত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা হয়েছে এবং আগের বছরগুলোর তুলনায় অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেটের চেয়েও কম খরচে দর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের ই-টেন্ডার নিয়েও রয়েছে আলাদা অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রথমে প্রতি ফর্মার কস্ট এস্টিমেট ৩ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও টেন্ডার লাইভ থাকা অবস্থায় তা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়। প্রতি ফর্মায় ৩০ পয়সা বাড়ার ফলে বিপুল সংখ্যক ফর্মার হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয় কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাব চূড়ান্ত সরকারি ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশোধিত কস্ট এস্টিমেট, অনুমোদনের কারণ এবং চূড়ান্ত কার্যাদেশের মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, কস্ট এস্টিমেট দেখার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। টেন্ডার লাইভ হওয়ার পর তারা বুঝতে পারে টাকার পরিমাণ কম ধরা হয়েছে। তাই চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে পরবর্তীতে টাকার পরিমাণ আরও ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বই ছাপার দরপত্র মার্চ থেকেই শুরু করে উৎপাদন সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করা গেলে শেষ মুহূর্তের চাপ কমবে। এতে কোনো টেন্ডারে সমস্যা ধরা পড়লে পুনঃদরপত্রের সুযোগও থাকবে। কিন্তু কাজ দেরিতে শুরু হলে বছরের শুরুতে বই পৌঁছানোর চাপের কারণে অনিয়ম ধরা পড়লেও কার্যাদেশ বাতিল বা পুনঃটেন্ডারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
দরপত্রে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত থাকায় প্রতিবারই একই ধরনের প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নতুন বা অপেক্ষাকৃত ছোট ছাপাখানাগুলো প্রতিযোগিতায় ঢুকতে না পারায় অনেক লটে প্রতিযোগী কমছে, এমনকী একক দরদাতার ঘটনাও বাড়ছে।
প্রতিযোগিতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি আগের বছর অনিয়মে অভিযুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এবার আবার দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের ত্রুটি এবং সময়মতো বই সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগে এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল সাতটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে। পরে তাদের আবেদনের পর বোর্ডের সিদ্ধান্তে মুচলেকার ভিত্তিতে কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– নাহার প্রিন্টার্স, আমাজন প্রিন্টিং প্রেস, বর্ণমালা প্রেস, পিবিএস প্রিন্টার্স, টাঙ্গাইল অফসেট প্রেস, হাক্কানী প্রিন্টার্স ও সোহাগী প্রিন্টার্স। এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, অতীতে অনিয়মের অভিযোগে দণ্ডিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এত দ্রুত পুনরায় সুযোগ দেওয়ায় বই ছাপার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং দরপত্র ব্যবস্থায় জবাবদিহি কতটা কার্যকর হবে।
জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিকের ৩০টি লটের জন্য ১১টি প্রেস ছাপার কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লট পেয়েছে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস (৪টি) ও সরকার প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং (৩টি) প্রেস। গত ১২ আগস্ট ৩০টি প্রেসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় এনসিটিবি। এছাড়া কর্ণফুলি প্রিন্টিং প্রেস, তমা প্রিন্টার্স এর মতো বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান একক বা সীমিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টেন্ডার পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক বলেন, আমাদের মতো মাঝারী ও ছোট ছাপাখানার সক্ষমতা থাকলেও বড় কাজের টেন্ডারে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করা কঠিন। ফলে দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগই সীমিত হয়ে যায়। এতে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, আর মাঝারী ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি বই ছাপার বাজারে ঢুকতেই পারছে না।
কর্ণফুলি প্রিন্টিং প্রেসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হাসনাবুজ্জামান রবিন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমরা কাজের টেন্ডার এককভাবে পেয়েছি এমন নয়। আমরা যে লট পেয়েছি এর প্রতিটিতে বিট হয়েছে। আমাদের মেশিনারিজ বেশি, কাজের অভিজ্ঞতাও বেশি। সেই জন্যই হয়তো কাজ পেয়েছি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। বিগত বছরগুলোতে যে দর চাওয়া হতো, এবার বেশ কিছু লটে অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেটের চেয়ে কম খরচেই দরপত্র পাওয়া গেছে এবং এতে সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল।
তিনি বলেন, বড় লটগুলোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা (স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স) প্রয়োজন হয়, যা সবার থাকে না। এ কারণে কিছু কিছু প্যাকেজে মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান একক দর হাঁকিয়েছে। অভিজ্ঞতার বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছে। পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সুপরিচিত এমন বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকেই সাধারণত এসব কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়।

বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার প্রতিযোগিতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩০ কোটি ৬১ লাখ বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে আহ্বান করা ৫৯৬টি লটের মধ্যে প্রায় ৬০টিতেই মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হওয়া এবং আগের বছর অনিয়মে অভিযুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বই ছাপার বাজারে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী এই বলয়, প্রতিযোগিতার ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি ছাপাখানার মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকটি লটে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে বেশি দর প্রস্তাবের তথ্যও মিলেছে। ফলে সীমিত প্রতিযোগিতার এই চিত্রে একদিকে বই ছাপার বাজারে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী বলয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে সরকারি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও সামনে আসছে। দেশে ছোট-বড় সহস্রাধিক ছাপাখানা থাকলেও সরকারি বই ছাপার কাজে প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে। কম প্রতিযোগিতায় বাড়ছে সরকারি ব্যয়ের ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দরপত্রে প্রতিযোগিতা সীমিত থাকায় কয়েকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিয়ে ইচ্ছামতো দর নির্ধারণের সুযোগ পেতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান কম থাকলে কম দামে কাজ পাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাও তৈরি হয় না। ফলে প্রাক্কলিত দরের কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি দরে কাজ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারি অর্থের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাদের মতে, বড় কাজগুলো একই গোষ্ঠীর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘুরপাক খেলে বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা আরও সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বই ছাপার ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
তবে এনসিটিবি বলছে, এবার দরপত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা হয়েছে এবং আগের বছরগুলোর তুলনায় অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেটের চেয়েও কম খরচে দর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের ই-টেন্ডার নিয়েও রয়েছে আলাদা অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রথমে প্রতি ফর্মার কস্ট এস্টিমেট ৩ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও টেন্ডার লাইভ থাকা অবস্থায় তা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়। প্রতি ফর্মায় ৩০ পয়সা বাড়ার ফলে বিপুল সংখ্যক ফর্মার হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয় কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাব চূড়ান্ত সরকারি ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশোধিত কস্ট এস্টিমেট, অনুমোদনের কারণ এবং চূড়ান্ত কার্যাদেশের মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, কস্ট এস্টিমেট দেখার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। টেন্ডার লাইভ হওয়ার পর তারা বুঝতে পারে টাকার পরিমাণ কম ধরা হয়েছে। তাই চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে পরবর্তীতে টাকার পরিমাণ আরও ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বই ছাপার দরপত্র মার্চ থেকেই শুরু করে উৎপাদন সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করা গেলে শেষ মুহূর্তের চাপ কমবে। এতে কোনো টেন্ডারে সমস্যা ধরা পড়লে পুনঃদরপত্রের সুযোগও থাকবে। কিন্তু কাজ দেরিতে শুরু হলে বছরের শুরুতে বই পৌঁছানোর চাপের কারণে অনিয়ম ধরা পড়লেও কার্যাদেশ বাতিল বা পুনঃটেন্ডারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
দরপত্রে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত থাকায় প্রতিবারই একই ধরনের প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নতুন বা অপেক্ষাকৃত ছোট ছাপাখানাগুলো প্রতিযোগিতায় ঢুকতে না পারায় অনেক লটে প্রতিযোগী কমছে, এমনকী একক দরদাতার ঘটনাও বাড়ছে।
প্রতিযোগিতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি আগের বছর অনিয়মে অভিযুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এবার আবার দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের ত্রুটি এবং সময়মতো বই সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগে এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল সাতটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে। পরে তাদের আবেদনের পর বোর্ডের সিদ্ধান্তে মুচলেকার ভিত্তিতে কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– নাহার প্রিন্টার্স, আমাজন প্রিন্টিং প্রেস, বর্ণমালা প্রেস, পিবিএস প্রিন্টার্স, টাঙ্গাইল অফসেট প্রেস, হাক্কানী প্রিন্টার্স ও সোহাগী প্রিন্টার্স। এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, অতীতে অনিয়মের অভিযোগে দণ্ডিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এত দ্রুত পুনরায় সুযোগ দেওয়ায় বই ছাপার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং দরপত্র ব্যবস্থায় জবাবদিহি কতটা কার্যকর হবে।
জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিকের ৩০টি লটের জন্য ১১টি প্রেস ছাপার কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লট পেয়েছে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস (৪টি) ও সরকার প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং (৩টি) প্রেস। গত ১২ আগস্ট ৩০টি প্রেসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় এনসিটিবি। এছাড়া কর্ণফুলি প্রিন্টিং প্রেস, তমা প্রিন্টার্স এর মতো বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান একক বা সীমিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টেন্ডার পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক বলেন, আমাদের মতো মাঝারী ও ছোট ছাপাখানার সক্ষমতা থাকলেও বড় কাজের টেন্ডারে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করা কঠিন। ফলে দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগই সীমিত হয়ে যায়। এতে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, আর মাঝারী ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি বই ছাপার বাজারে ঢুকতেই পারছে না।
কর্ণফুলি প্রিন্টিং প্রেসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হাসনাবুজ্জামান রবিন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমরা কাজের টেন্ডার এককভাবে পেয়েছি এমন নয়। আমরা যে লট পেয়েছি এর প্রতিটিতে বিট হয়েছে। আমাদের মেশিনারিজ বেশি, কাজের অভিজ্ঞতাও বেশি। সেই জন্যই হয়তো কাজ পেয়েছি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। বিগত বছরগুলোতে যে দর চাওয়া হতো, এবার বেশ কিছু লটে অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেটের চেয়ে কম খরচেই দরপত্র পাওয়া গেছে এবং এতে সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল।
তিনি বলেন, বড় লটগুলোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা (স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স) প্রয়োজন হয়, যা সবার থাকে না। এ কারণে কিছু কিছু প্যাকেজে মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান একক দর হাঁকিয়েছে। অভিজ্ঞতার বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছে। পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সুপরিচিত এমন বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকেই সাধারণত এসব কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়।

সিন্ডিকেটের হাতে বই ছাপার বাজার, কী করছে সরকার
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার প্রতিযোগিতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩০ কোটি ৬১ লাখ বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে আহ্বান করা ৫৯৬টি লটের মধ্যে প্রায় ৬০টিতেই মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হওয়া এবং আগের বছর অনিয়মে অভিযুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বই ছাপার বাজারে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী এই বলয়, প্রতিযোগিতার ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি ছাপাখানার মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকটি লটে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে বেশি দর প্রস্তাবের তথ্যও মিলেছে। ফলে সীমিত প্রতিযোগিতার এই চিত্রে একদিকে বই ছাপার বাজারে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী বলয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে সরকারি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও সামনে আসছে। দেশে ছোট-বড় সহস্রাধিক ছাপাখানা থাকলেও সরকারি বই ছাপার কাজে প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে। কম প্রতিযোগিতায় বাড়ছে সরকারি ব্যয়ের ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দরপত্রে প্রতিযোগিতা সীমিত থাকায় কয়েকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিয়ে ইচ্ছামতো দর নির্ধারণের সুযোগ পেতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান কম থাকলে কম দামে কাজ পাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাও তৈরি হয় না। ফলে প্রাক্কলিত দরের কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি দরে কাজ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারি অর্থের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাদের মতে, বড় কাজগুলো একই গোষ্ঠীর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘুরপাক খেলে বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা আরও সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বই ছাপার ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
তবে এনসিটিবি বলছে, এবার দরপত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা হয়েছে এবং আগের বছরগুলোর তুলনায় অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেটের চেয়েও কম খরচে দর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের ই-টেন্ডার নিয়েও রয়েছে আলাদা অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রথমে প্রতি ফর্মার কস্ট এস্টিমেট ৩ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও টেন্ডার লাইভ থাকা অবস্থায় তা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়। প্রতি ফর্মায় ৩০ পয়সা বাড়ার ফলে বিপুল সংখ্যক ফর্মার হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয় কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাব চূড়ান্ত সরকারি ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশোধিত কস্ট এস্টিমেট, অনুমোদনের কারণ এবং চূড়ান্ত কার্যাদেশের মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, কস্ট এস্টিমেট দেখার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। টেন্ডার লাইভ হওয়ার পর তারা বুঝতে পারে টাকার পরিমাণ কম ধরা হয়েছে। তাই চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে পরবর্তীতে টাকার পরিমাণ আরও ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বই ছাপার দরপত্র মার্চ থেকেই শুরু করে উৎপাদন সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করা গেলে শেষ মুহূর্তের চাপ কমবে। এতে কোনো টেন্ডারে সমস্যা ধরা পড়লে পুনঃদরপত্রের সুযোগও থাকবে। কিন্তু কাজ দেরিতে শুরু হলে বছরের শুরুতে বই পৌঁছানোর চাপের কারণে অনিয়ম ধরা পড়লেও কার্যাদেশ বাতিল বা পুনঃটেন্ডারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
দরপত্রে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত থাকায় প্রতিবারই একই ধরনের প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নতুন বা অপেক্ষাকৃত ছোট ছাপাখানাগুলো প্রতিযোগিতায় ঢুকতে না পারায় অনেক লটে প্রতিযোগী কমছে, এমনকী একক দরদাতার ঘটনাও বাড়ছে।
প্রতিযোগিতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি আগের বছর অনিয়মে অভিযুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এবার আবার দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের ত্রুটি এবং সময়মতো বই সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগে এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল সাতটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে। পরে তাদের আবেদনের পর বোর্ডের সিদ্ধান্তে মুচলেকার ভিত্তিতে কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– নাহার প্রিন্টার্স, আমাজন প্রিন্টিং প্রেস, বর্ণমালা প্রেস, পিবিএস প্রিন্টার্স, টাঙ্গাইল অফসেট প্রেস, হাক্কানী প্রিন্টার্স ও সোহাগী প্রিন্টার্স। এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, অতীতে অনিয়মের অভিযোগে দণ্ডিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এত দ্রুত পুনরায় সুযোগ দেওয়ায় বই ছাপার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং দরপত্র ব্যবস্থায় জবাবদিহি কতটা কার্যকর হবে।
জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিকের ৩০টি লটের জন্য ১১টি প্রেস ছাপার কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লট পেয়েছে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস (৪টি) ও সরকার প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং (৩টি) প্রেস। গত ১২ আগস্ট ৩০টি প্রেসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় এনসিটিবি। এছাড়া কর্ণফুলি প্রিন্টিং প্রেস, তমা প্রিন্টার্স এর মতো বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান একক বা সীমিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টেন্ডার পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক বলেন, আমাদের মতো মাঝারী ও ছোট ছাপাখানার সক্ষমতা থাকলেও বড় কাজের টেন্ডারে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করা কঠিন। ফলে দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগই সীমিত হয়ে যায়। এতে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, আর মাঝারী ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি বই ছাপার বাজারে ঢুকতেই পারছে না।
কর্ণফুলি প্রিন্টিং প্রেসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হাসনাবুজ্জামান রবিন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমরা কাজের টেন্ডার এককভাবে পেয়েছি এমন নয়। আমরা যে লট পেয়েছি এর প্রতিটিতে বিট হয়েছে। আমাদের মেশিনারিজ বেশি, কাজের অভিজ্ঞতাও বেশি। সেই জন্যই হয়তো কাজ পেয়েছি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। বিগত বছরগুলোতে যে দর চাওয়া হতো, এবার বেশ কিছু লটে অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেটের চেয়ে কম খরচেই দরপত্র পাওয়া গেছে এবং এতে সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল।
তিনি বলেন, বড় লটগুলোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা (স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স) প্রয়োজন হয়, যা সবার থাকে না। এ কারণে কিছু কিছু প্যাকেজে মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান একক দর হাঁকিয়েছে। অভিজ্ঞতার বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছে। পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সুপরিচিত এমন বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকেই সাধারণত এসব কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়।

স্কুল পর্যায়ের ৬০১টি বই পরিমার্জন করা হচ্ছে: এনসিটিবি চেয়ারম্যান







