শিরোনাম

ব্রেকআপের পর নিজেকে সামলাবেন যেভাবে

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ব্রেকআপের পর নিজেকে সামলাবেন যেভাবে
ব্রেকআপের পর নিজেকে সামলাবেন যেভাবে

একটি সম্পর্কের ইতি টানা কখনোই সহজ নয়। প্রিয় একজন মানুষকে হারানোর কষ্টের পাশাপাশি বদলে যায় দৈনন্দিন অভ্যাস, ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা স্বপ্ন এবং অনেক সময় নিজের সম্পর্কে তৈরি ধারণাও। ফলে বিচ্ছেদের পরের দিনগুলোতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া, অস্থিরতা কিংবা একাকিত্ব অনুভব করা খুবই স্বাভাবিক।

মনোবিদদের মতে, ব্রেকআপের পরের প্রথম সপ্তাহটি সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর মধ্যে একটি। কারণ এ সময় আবেগ এতটাই তীব্র থাকে যে অনেকে না ভেবেই এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। তাই এই সময়ে দ্রুত প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা না করে বরং নিজের মন ও শরীরকে স্থির করার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বিচ্ছেদের পর প্রথম কয়েক দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের জন্য একটি নিরাপদ মানসিক পরিবেশ তৈরি করা। আবেগকে অস্বীকার না করে ধীরে ধীরে তা সামলে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। মানসিক কষ্টের সময় অনেকেই খাওয়া, ঘুম কিংবা ব্যক্তিগত যত্নের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েন। কিন্তু শরীর দুর্বল হয়ে গেলে মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, নিয়মিত খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি বা হালকা শারীরিক কার্যক্রমও মন ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

ব্রেকআপের পর কান্না, রাগ, দুঃখ, শূন্যতা কিংবা প্রাক্তনকে ফিরে পাওয়ার ইচ্ছা-সবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এসব অনুভূতি জোর করে দমন করার প্রয়োজন নেই।

মনোবিজ্ঞানীরা এ সময় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট নিজের অনুভূতির জন্য আলাদা করে রাখার পরামর্শ দেন। এই সময়ে ডায়েরিতে মনের কথা লিখতে পারেন, কাঁদতে ইচ্ছা করলে কাঁদতে পারেন কিংবা কিছুক্ষণ নীরবে নিজের অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করতে পারেন।

নিজের অনুভূতিকে নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করাও কাজে আসতে পারে। নিজের আবেগের নাম দিতে পারলে অনেক সময় সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। তবে সারাদিন সেই অনুভূতির মধ্যেই ডুবে থাকা নয়; বরং নির্দিষ্ট সময় আবেগকে অনুভব করে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজে ফিরতে হবে।

বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন সঙ্গী কী করছেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, নতুন কাউকে অনুসরণ করছেন কি না কিংবা কখন অনলাইনে আসছেন-এসব জানার আগ্রহ তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু বারবার তার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দেখা, পুরোনো ছবি বা মেসেজ পড়া মানসিক কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই প্রয়োজন মনে হলে কিছুদিনের জন্য প্রাক্তনের অ্যাকাউন্ট মিউট বা আনফলো করে রাখতে পারেন। এটি প্রতিশোধ বা সম্পর্ক চিরতরে শেষ করা নয়; বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য সাময়িক দূরত্ব তৈরি করা।

ব্রেকআপের পর কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা না করাটাও স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘ সময় নিজেকে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখলে একাকিত্ব ও অতিরিক্ত চিন্তা আরও বাড়তে পারে। এ সময়ে এমন মানুষদের কাছাকাছি থাকুন, যাদের সঙ্গে কথা বললে আপনি নিরাপদ ও স্বস্তিবোধ করেন। সবসময় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে হবে এমন নয়। বন্ধু বা পরিবারের কারও সঙ্গে সময় কাটানো, বাইরে একটু হাঁটতে যাওয়া কিংবা সাধারণ কোনো বিষয়ে কথা বলাও মনকে অন্যদিকে ফেরাতে সাহায্য করতে পারে।

ব্রেকআপের প্রথম সপ্তাহে আবেগ সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকতে পারে। তাই এই সময়ে জীবনের বড় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেওয়া, অন্য কোথাও চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা তাড়াহুড়ো করে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার মতো সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলুন। একইভাবে প্রাক্তন সঙ্গীকে বারবার ফোন বা মেসেজ করা, ‘শেষবার কথা বলি’ বলা কিংবা তিনি এখনো ভালোবাসেন কি না তা পরীক্ষা করার চেষ্টা থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন। কারণ তীব্র আবেগের সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

মনোবিদদের মতে, এই সময়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত কাউকে দ্রুত ভুলে যাওয়া নয়। বরং নিজের ভেতরের শক্তি ফিরিয়ে আনা এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া। ব্রেকআপের পর কিছুদিন মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা কিংবা খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন যদি অত্যন্ত তীব্র হয় অথবা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। আর নিজের ক্ষতি করার চিন্তা দেখা দিলে একা থাকা উচিত নয়। দ্রুত পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য, বন্ধু বা অন্য কোনো নিরাপদ ব্যক্তিকে বিষয়টি জানিয়ে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া জরুরি।

/এসবি/