শিরোনাম

সন্তানের বিষয়ে অন্যদের যে কথা বলতে দেবেন না

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সন্তানের বিষয়ে অন্যদের যে কথা বলতে দেবেন না
প্রতীকী ছবি

বলা হয়ে থাকে একটা শিশু প্রাথমিক ও মূল্যবান শিক্ষাই গ্রহণ করে তার পরিবার থেকে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আচার-ব্যবহার শেখে। অনেক সময় আপনার সন্তানকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকে। ধরেন আপনার শিশুকে কোনো আয়োজন, বিয়ে, উৎসব বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে নিয়ে গেছেন। অথবা পারিবারিক আয়োজনে কাউকে দাওয়াত করে নিয়ে এসেছেন। সেখানে প্রাপ্তবয়স্করা শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করে যা তাদের মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অনেক সময় বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের অস্বস্তি উপেক্ষা করতে বলেন শুধু অন্যদের খুশি রাখতে। তবে অজান্তে আপনি আপনার সন্তানের ক্ষতির কারণ হচ্ছেন। বাবা-মা হিসাবে সন্তানের মানসিক এবং শারীরিক বাউন্ডারি রক্ষা করার অর্থ তাদের অভদ্র হতে শেখানো নয়। এর অর্থ তাদের শেখানো যে তাদের অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তানকে নিয়ে অন্য কাউকে এই জিনিসগুলো করা কিংবা বলার অনুমতি দেবেন না-

আলিঙ্গন বা চুম্বন করতে দেবেন না

আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কোনো ব্যক্তি আপনার সন্তানকে আলিঙ্গন বা চুম্বন করতে চাইতে পারেন। তখন আপনার সন্তান সরে যেতে পারে বা অসম্মতি জানাতে পারে। এমন অবস্থায় তাকে জোর করবেন না। শিশুরা শারীরিক স্নেহ চায় কি না সে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে আপনার সন্তানকে ভদ্রভাবে না বলতে শেখাতে পারেন। কারণ সে ছোট মানুষ হলেও নিজের স্বস্তি ও অস্বস্তি প্রকাশের অধিকার তার রয়েছে।

অহেতুক মন্তব্য করতে দেবেন না

আপনার সন্তান খুব চঞ্চল হতে পারে। আবার লাজুক স্বভাবেরও হতে পারে। সে যেমনই হোক, তার স্বভাব নিয়ে অন্যকে মন্তব্য করার অনুমতি দেবেন না। কারণ তারা সব সময় আপনার সন্তানের সঙ্গে থাকবে না। কিন্তু তাদের বলা বিভিন্ন মন্তব্য আপনার সন্তানের মনে গভীরভাবে গেঁথে যেতে পারে। শিশুরা ধীরে ধীরে নিজের সম্পর্কে বারবার শোনা জিনিসগুলো বিশ্বাস করতে শুরু করে। যে শিশুটি মানুষ দেখলে শান্ত থাকে সে সব সময়েই যে লাজুক, এমন নয়। আবার যে খেলনা বা খাবার ভাগ করতে অস্বীকার করে সেও স্বার্থপর নয়। শিশুরা এখনও তাদের আবেগ বুঝতে এবং প্রকাশ করতে শিখছে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।

তুলনা করার অনুমতি দেবেন না

অনেক সময় বাবা-মা বা পরিবারের মানুষই নিজের শিশুকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করেন। পরীক্ষায় তার নম্বর দেখো, কেন তুমি তার মতো স্কোর করতে পারো না? এই ধরনের মন্তব্য করবেন না। আবার অনেকেই বলতে পারেন অমুকের সন্তান এই এই বিষয়ে ভালো, তমুকের ছেলে ভালো ইংরেজি বলতে পারে। এই ধরনের মন্তব্য অনুপ্রেরণা হিসাবে বলা হতে পারে, কিন্তু তুলনা শুনে শিশুদের মনে হতে পারে যে তারা যথেষ্ট ভালো নয়। এটা একসময় সে বিশ্বাস করা শুরু করতে পারে। এতে সত্যি সত্যি সে খারাপ ফল করতে পারে। প্রতিটি শিশু ভিন্নভাবে বিকাশ করে। আপনার সন্তানকে অন্য সন্তানের সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজের উন্নতিতে মনোযোগ দিন। যদি কেউ তুলনা করে আপনি সহজভাবে বলতে পারেন, সে যে অগ্রগতি করছে তাতেই আমরা খুশি। আপনার সন্তানের জানা দরকার আপনার ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতা।

সন্তানকে নিয়ে মজা করতে দেবেন না

প্রাপ্তবয়স্করা অনেক সময় ভরা মজলিশে সবার সামনে টিজিং করেন। এটাকে হয়তো আপনি রসিকতা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু যদি সবাই হাসে এবং আপনার সন্তান চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে, বিব্রত বা বিচলিত দেখায়, তাহলে এটি তাদের কাছে রসিকতা নয়। শিশুদের চেহারা, কণ্ঠস্বর, ওজন, জামাকাপড়, পড়াশোনা, অভ্যাস বা ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মন্তব্য তাদের ভেতর থেকে আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারে। এরকমটা দেখলে সাথে সাথে তাদের থামিয়ে দিন।

নেতিবাচক কথা বলতে দেবেন না

আপনি যখন একা থাকেন তখন সুন্দর করে আপনার সন্তানের ভুল ধরিয়ে দেবেন। তবে অন্যদের সামনে সন্তানের ভুল বা দুর্বলতার কথা তুলে ধরবেন না। এ ধরনের কথা আপনার সন্তানকে বিব্রত ও মা-বাবার প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে। শিশুদের ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝানো প্রয়োজন, কিন্তু সবার সামনে নয়। তাদের নির্দেশনা প্রয়োজন, পাশাপাশি মর্যাদাও।

/জেএইচ/