শিরোনাম

ইরানে কি স্থল অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইরানে কি স্থল অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন সামরিক বাহিনী

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার স্থল অভিযানের সম্ভাবনার কথা পরোক্ষভাবে তুলেছেন। কিন্তু তিনি কোনো নির্দিষ্ট বিবরণ দেননি।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সেটা করতে চাই না। তবে কখনো কখনো স্থল অভিযান প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের হয়ে সেই অভিযান চালানোর মতো অন্য লোকও আছে।’ যদিও তিনি কারা এ অভিযান চালাতে পারে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, স্থল অভিযানের সম্ভাব্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপ অথবা পারস্য উপসাগর বরাবর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল।

কিন্তু মার্কিন হোক বা অন্য কোনো দেশের বাহিনী, তাদের ইরানের উপকূলে অবতরণ করানো এবং সেখানে দীর্ঘদিন ধরে উপস্থিতি টিকিয়ে রাখা জটিল ও বিপজ্জনক অভিযান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, উভচর আক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট স্থল ও সামুদ্রিক অবস্থার প্রয়োজন হয়। সম্ভাব্য অবতরণস্থল প্রতিরক্ষাকারীরা সহজেই সেনা মোতায়েন করতে পারে।

অবতরণকারী নৌযানের প্রবেশপথ মাইন পেতে বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অবরুদ্ধ করা যাবে। আর তীরে অবতরণকারী সৈন্যদের ওপর ড্রোন ও লোইটারিং মিউনিশনের মতো আধুনিক অস্ত্রের পাশাপাশি প্রচলিত কামান, মর্টার এবং হালকা পদাতিক বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব।

এছাড়া উপকূলে নামানো সেনাদের গোলাবারুদ, চিকিৎসাসামগ্রী, খাদ্য ও পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত জাহাজও একই ধরনের হামলার ঝুঁকিতে থাকবে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ড্যানিয়েল এস. হোগেস্টিন ‘বাহিনীটির মিলিটারি’ রিভিউ জার্নালের মে-জুন সংখ্যায় লিখেছেন, ‘উপকূলীয় যুদ্ধের ভারসাম্য এখন স্পষ্টভাবে প্রতিরক্ষাকারীদের পক্ষেই ঝুঁকে গেছে।’

অঞ্চলে মার্কিন সেনা

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই হাজারেরও বেশি সৈন্য নিয়ে গঠিত ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপের জাহাজগুলোতে চড়ে এই অঞ্চলে অবস্থান করছে।

এই ইউনিট সাধারণত উদ্ধার অভিযান, উভচর অভিযান এবং জাহাজ থেকে তীরে যাওয়ার মতো মিশনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এদের স্থল ও বিমান যুদ্ধ বিভাগও রয়েছে। কিছু ইউনিট বিশেষ অভিযানের জন্য প্রশিক্ষিত।

এছাড়াও মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্সকে বন্দর বা বিমানঘাঁটি দখলের মতো অভিযানের জন্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোতায়েনে সক্ষম।

সূত্র: সিএনএন

/জেএইচ/