শিরোনাম

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
চাকরির পরীক্ষা দিয়ে বের হচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। ছবি: সিজেডিএন টোয়েন্টিফোর

আজ ১৫ জুলাই, বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস। এমন এক সময়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের তরুণরা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে, এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের তুলনায়ও দেশে তরুণদের মধ্যে এসব বিষয়ে উদ্বেগের হার বেশি।

বর্তমানে বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশের (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। এর অর্থ হলো বৃদ্ধ মানুষের তুলনায় দেশে তরুণ বা কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি। একশ বছরে একবার করে এই জনমিতি পার করে একটি দেশ। তরুণদের সংখ্যাধিক্যের এ সুফল ২০৪০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা।

সম্প্রতি ‘লাইভস, চয়েজেস অ্যান্ড ফিউচারস: ডেমোগ্রাফিক ফিউচারস সার্ভে’ শীর্ষক বৈশ্বিক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬৭.২ শতাংশ তরুণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। বিশ্বের ৭৩টি দেশের ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়েছে।

জরিপে দেখা যায়, একই বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুটানের ৬৬.৩ শতাংশ, আফগানিস্তানের ৫৪.৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫৩.২ শতাংশ, ভারতের ৪৭.৪ শতাংশ এবং শ্রীলংকার ৪৫ শতাংশ তরুণ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও মালদ্বীপ এ জরিপের আওতায় ছিল না।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ৭৩টি দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে তরুণদের উদ্বেগের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। তালিকার শীর্ষে রয়েছে কোস্টারিকা। যেখানে ৭০.৭ শতাংশ তরুণ একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের ওপরে এশিয়ার একমাত্র দেশ ফিলিপাইন। দেশটির ৭০.৪ শতাংশ তরুণ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে কিউএস ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স-২০২৫ অনুযায়ী, চাকরিদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির সক্ষমতায় বাংলাদেশের স্কোর ৩৯.১। ৮১টি দেশের মধ্যে এ অবস্থান ৬৭তম।

প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎমুখী একাডেমিক প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের স্কোর ৬৫.৭ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিতে ৪২.৬। অর্থনৈতিক রূপান্তর সূচকে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় বাংলাদেশকে কোনো স্কোর দেওয়া হয়নি। সবমিলিয়ে দেশের সামগ্রিক স্কোর ৪৯.১।

প্রায় ৫০ লাখ চাকরিদাতার মতামত, বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং, গবেষণার মান ও অন্যান্য সূচক বিবেচনায় এ ইনডেক্স তৈরি করা হয়েছে। এতে চারটি বিষয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। সেগুলো হলো- চাকরিদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা, ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা, অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সক্ষমতা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ-২০২৩ অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬ হাজারে। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯৯ হাজার। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখের বেশি। আর গত এক দশকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮ গুণ বেড়েছে।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছে না দেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ। একইসঙ্গে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও বেড়েছে। দেশে মোট বেকারের মধ্যে ১৩.৫ শতাংশ স্নাতক এবং ৭.১৩ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক পাস। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন বেকারের একজনই স্নাতক বা উচ্চ মাধ্যমিক সনদধারী। অন্যদিকে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুব বেকারদের প্রায় ২৯ শতাংশই স্নাতক। অর্থাৎ প্রতি তিনজন স্নাতক তরুণের একজন বেকার।

দেশের বিশাল এই জনশক্তিকে কাজে লাগাতে না পারলে তরুণদের মধ্যে হতাশা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, তারা পরিবার ও দেশের জন্যও বোঝা হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।

/জেএইচ/