শিরোনাম

চুক্তির আড়ালে ট্রাম্পের নতুন কূটনীতি, নীরব আরব নেতারা

সিটিজেন ডেস্ক
চুক্তির আড়ালে ট্রাম্পের নতুন কূটনীতি, নীরব আরব নেতারা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশরের লোহিত সাগর তীরবর্তী অবকাশযাপন কেন্দ্র শার্ম এল-শেখ-এ এক শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক শান্তিপ্রস্তাব ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে এক মিশ্র ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের এ চুক্তির অংশ হিসেবে আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হলেও, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে কেবল ‘রহস্যময় নীরবতা’ মিলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৩ মে) একাধিক মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প এ প্রস্তাব দেন। তবে যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়াকে সব পক্ষ সমর্থন করলেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অনুরোধের পর ফোনলাইনে একপ্রকার নিস্তব্ধতা নেমে আসে।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি তাদের ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। এমনকি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, হয়তো ইরানও একসময় এ শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইবে।

তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা হবে। কিন্তু ট্রাম্পের এ চরম আশাবাদের বিপরীতে আরব নেতাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প যখন সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের প্রসঙ্গ তোলেন, তখন ফোনলাইনে এতটাই নীরবতা ছিল যে ট্রাম্পকে রসিকতা করে জিজ্ঞেস করতে হয়, আপনারা কি এখনো লাইনে আছেন? অবশ্য নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধ থামানোর যেকোনো চুক্তিতে তারা ট্রাম্পের পাশে আছেন।

এদিকে ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে জেরুজালেমে। ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১২’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সমঝোতাকে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী এবং গুরুতর সমস্যাজনক বলে মনে করছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মূল শঙ্কা হলো, চুক্তির মাধ্যমে শুরুতে একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। কিন্তু এতে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন কিংবা তাদের আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে মোকাবিলা করা হয়নি। ইসরায়েলের ধারণা, এ বিরতির সুযোগে ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে নিজেদের পুনর্গঠন করার সুযোগ পাবে। ফলে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হবে।

তবে নিজের এ উদ্যোগের সমালোচনাকারীদের কঠোর ভাষায় জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তিনি যে চুক্তিই করুন না কেন, সেটি অত্যন্ত ভালো ও যথাযথ হবে। যারা এ ঐতিহাসিক উদ্যোগের সমালোচনা করছেন, তাদের ‘লুজার’ বা ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলোচকদের তাড়াহুড়ো না করে ধীরেসুস্থে এগোতে বলেছেন। মার্কিন ঘরোয়া রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন সিনেটর এ চুক্তির সমালোচনা করলেও, সাউথ ক্যারোলাইনার প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম ট্রাম্পের এ প্রচেষ্টাকে একটি ‘চমৎকার উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের অংশ হিসেবে আরব ও মুসলিম দেশগুলো যদি আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেয়, তবে তা হবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমঝোতা।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

/এমএকে/