শিরোনাম

লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার না হলে শান্তি আসবে না: আইআরজিসি

সিটিজেন ডেস্ক
লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার না হলে শান্তি আসবে না: আইআরজিসি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের যোদ্ধারা। ছবি: পলিটিকো

লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশটির আধা-সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, আঞ্চলিক চলমান সংঘাতগুলোতে তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার মূল শর্তই ছিল লেবাননসহ সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে আগ্রাসন বন্ধ করা।

বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও উল্লেখ করে, শত্রুপক্ষকে অবশ্যই লেবাননের নিরীহ নাগরিকদের ওপর চালানো সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে লেবাননের যেসকল এলাকা তারা অবৈধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, সেখান থেকে দ্রুত সেনা সরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সীমানার পেছনে পিছু হটতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের দাবিও জানায় তেহরান।

চলমান এ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাধারণ সম্পাদক নাইম কাসেম। এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যকার বর্তমান সমন্বয় এবং সরাসরি আলোচনার প্রক্রিয়াকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিনিময়ে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণের যেকোনো ধরনের প্রস্তাব বা পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণরূপে অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। হিজবুল্লাহ প্রধান জানান, লেবাননের মাটিতে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে হলে সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত প্রত্যাহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

নাইম কাসেম আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থানের বিষয়টি অত্যন্ত অস্পষ্ট ও ধোঁয়াশাপূর্ণ করে রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা ঠিক কীভাবে এবং কোন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ওই অঞ্চল খালি করবে এবং তাদের ছেড়ে যাওয়া পরীক্ষামূলক এলাকাগুলোতে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে স্থলাভিষিক্ত হবে সে বিষয়ে চুক্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়নি। চুক্তির ফাঁকফোকরের তীব্র সমালোচনা করে হিজবুল্লাহ প্রধান ঘোষণা দেন, দক্ষিণ লেবাননে যতদিন পর্যন্ত ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় থাকবে, ততদিন তাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম অবিরতভাবে চলতে থাকবে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

/এমএকে/