শিরোনাম

হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

সিটিজেন ডেস্ক
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কু সিং চ্যাটার্জি বুধবার (৩ জুন) শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় এই মামলাটি করেন। নতুন 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র ১৫২, ১৫৩, ১৫৩এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ এবং ৩৫৩-সহ একাধিক গুরুতর ও জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করে মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২ জুন কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। আইনজীবীর দাবি, এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে। এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা মাত্র, যা সরাসরি ভারতের জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলের ওই ধর্না মঞ্চ থেকে নাম না করে হাদি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে মমতা ব্যানার্জি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা এক বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) গ্রেপ্তার করেছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আন্দোলন হয়। পরবর্তীতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে তাকে ফোন করে দেশের স্বার্থে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানান। অমিত শাহর প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে মমতা বলেছিলেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সব তথ্য জানি। কিন্তু দেশের স্বার্থে ও বাংলাদেশকে ভালোবাসি বলে সেই নামগুলো মুখে আনছি না। সেদিন তার স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই এ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

এই আইনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অভিযোগকারী আইনজীবী রিঙ্কু সিং চ্যাটার্জি গণমাধ্যমকে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এ দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য বাংলাদেশের কট্টরপন্থীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে, যা দেশদ্রোহিতার সমান অপরাধ। ৮ জুন আদালত খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ চেয়ে আদালতে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাবেন।

সূত্র: ইটিভি ভারত

/এমএকে/