শিরোনাম

পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে  নিহত ১০
ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

বজ্রপাতে দেশের ৫ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ময়মনসিংহে ২, নীলফামারীতে ১, পঞ্চগড়ে ১, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ ও চুয়াডাঙ্গায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহের ২ উপজেলায় বজ্রপাতে কলেজ শিক্ষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গফরগাঁও উপজেলায় সিয়াম (২৮) নামে এক যুবক এবং দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মুক্তাগাছায় এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬) নামে এক কলেজশিক্ষকের মৃত্যু হয়।

নিহত সিয়াম উপজেলার পাগলা থানার পাঁচভাগ ইউনিয়নের মধ্য লামকাইন গ্রামের মৃত রুকন উদ্দিনের ছেলে এবং শিক্ষক খালেকুল আজাদ উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রঘুনাথপুর রৌয়ারচর গ্রামের মৃত হাজী ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন সিয়াম। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, মুক্তাগাছায় বজ্রপাতে এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬) নামে এক কলেজশিক্ষকের মৃত্যু হয়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কলেজ বন্ধ থাকায় নিজ গ্রামে একটি মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন খালেকুল আজাদ। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাত শুরু হলে সেখানে থাকা অন্যরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। এ সময় তিনি পাশের একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নীলফামারীর ডিমলায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ সময় সেরিনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়। সন্ধ্যায় উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলম ইসলাম নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে ও আহত গৃহবধূ সেরিনা একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় নিজ বাড়ির পাশে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলম ইসলাম। তার পাশে থাকা এক প্রতিবেশী গৃহবধূ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান।

পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বিকেলে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শাহাদাত ওই এলাকার কেরামত আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাদাত ট্রাক্টরের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বিকেলে তিনি ট্রাক্টরচালকের সঙ্গে ফসলি জমি থেকে ভুট্টা পরিবহন করছিলেন। এ সময় ট্রাক্টরের চাকা নরম মাটিতে দেবে যায়। বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় ট্রাক্টর তোলার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি বেলচা আনতে বাড়িতে যান তিনি। বেলচা নিয়ে ঘটনাস্থলে ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন শাহাদাত। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বৃষ্টির সময় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩ জন, সদর উপজেলায় ১ জন এবং নাচোল উপজেলায় একজন রয়েছেন।

বিকেলে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

শিবগঞ্জ উপজেলায় নিহতরা হলেন-চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন এবং মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, এই তিনজনই বাড়ির পাশের আম বাগানে বৃষ্টির মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন।

অন্য দুটি ঘটনার মধ্যে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকায় বৃষ্টির সময় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া, নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমিয়ারা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বজ্রপাতে নাফিজ আহমেদ শান্ত (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার চাচাতো নাহিদ (২৩) গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত নাফিজ আহমেদ শান্ত আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের নান্দবার গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার আগে থেকেই এলাকায় ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এ সময় নাফিজ আহমেদ শান্ত ও তার চাচাতো ভাই নাহিদ, নাফিজের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছাদে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে ছাদের পাশের একটি নারিকেল গাছে আগুন ধরে যায়। একই সঙ্গে বজ্রপাতের আঘাতে দুই যুবক অচেতন হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নাফিজকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাহিদকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

/এসবি/