শিরোনাম

যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর: মোজতবা খামেনির সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ট্রাম্প

সিটিজেন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর: মোজতবা খামেনির সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ট্রাম্প
মোজতবা খামেনি (বামে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে)। কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে সই করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু দিন সময় চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনের পাঠানো সর্বশেষ খসড়া প্রস্তাবটিতে তেহরান সন্তোষ প্রকাশ করে হোয়াইট হাউসে বার্তা পাঠানোর পরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এই খবর পাওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, চুক্তিটিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করবেন কি না, তা নির্ধারণ করতে তিনি আরও কয়েক দিন সময় নিয়ে পুরো বিষয়টি বিবেচনা করতে চান। তবে মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এ খসড়া নথিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন এমন সুনির্দিষ্ট বার্তা পাওয়ার আগে ট্রাম্পের এ চুক্তিতে সই করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা হবে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি গোলাগুলির ঘটনার পর এ যুদ্ধবিরতি তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটি কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই অবিলম্বে সমস্ত বাণিজ্যিক যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এর বিপরীতে ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই জলসীমায় তাদের পুঁতে রাখা সমস্ত সামুদ্রিক মাইন অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরের ওপর আমেরিকার জারি করা নৌ-অবরোধও ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে, যা ইরানকে দ্রুত মাইন অপসারণে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া পরিকল্পনায় একটি পর্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যার আওতায় ইরান আমেরিকার দেওয়া শর্তগুলো মেনে চলা সাপেক্ষে ধাপে ধাপে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাবে। তবে ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে পরমাণু চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে যেভাবে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সরাসরি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই তার তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। ফলে এবার সরাসরি মার্কিন সম্পৃক্ততা এড়িয়ে অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে, বিশেষ করে কাতারের সহায়তায় ইরানের অবরুদ্ধ হয়ে থাকা তহবিল কীভাবে অবমুক্ত করা যায়, তা নিয়ে পথ খুঁজছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় ধনী আরব দেশগুলোর অর্থায়নে ইরানের জন্য একটি বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেশটির যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনে শতকোটি ডলারের জোগান দেবে। এ তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্থ বিনিয়োগ করবে না।

অবশ্য সম্ভাব্য চুক্তির সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আগামী দিনের পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ট্রাম্প এবং তার আলোচক দল বরাবরই জোর দিয়ে আসছে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার এবং তাদের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পূর্ণ ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। তবে এ ইউরেনিয়াম কীভাবে অপসারিত হবে তা কি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে, ইরানের ভেতরেই ধ্বংস করা হবে নাকি অন্য কোনো তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হবে তা চূড়ান্ত করার বিষয়টি ভবিষ্যতের আলোচনার ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/