শিরোনাম

মার্কিন রণতরিতে আগুন ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে, অস্বস্তিতে সেনারা

সিটিজেন ডেস্ক
মার্কিন রণতরিতে আগুন ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে, অস্বস্তিতে সেনারা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে গত সপ্তাহে লাগা আগুন ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলেছে। এতে রণতরিটির বেশ কয়েকজন নৌসেনা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রণতরিটির কয়েকজন নাবিক ও সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত সপ্তাহে রণতরিটির লন্ড্রি (কাপড় ধোয়ার জায়গা) অংশে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে লোহিত সাগরে মোতায়েন করা ১ লাখ টন ওজনের এ রণতরির সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর আগে তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এটি কোনো যুদ্ধকালীন হামলার ঘটনা নয়। ওই ঘটনায় দুই নাবিক সামান্য আহত হয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ১৩ বিলিয়ন (১ হাজার ৩০০ কোটি) ডলার মূল্যের এ রণতরিতে থাকা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ক্রু ও বিমান সেনার অবস্থা বর্তমানে ‘চরম অস্বস্তিকর’। অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা হারিয়েছেন। তারা এখন রণতরির টেবিল বা মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। এ ছাড়া লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় অনেকেই কাপড় ধুতে পারছেন না।

১০ মাস ধরে মোতায়েন থাকা এ রণতরিটিতে টয়লেট সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠেছে। এনপিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে এর টয়লেট মেরামতে বারবার বাইরে থেকে সাহায্য নিতে হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর ছাড়ার পর থেকে রণতরিটি আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চল হয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। যদি এই মোতায়েন এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়ায়, তবে তা হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন রণতরির দীর্ঘতম মোতায়েন।

ক্রুদের জানানো হয়েছে, তাদের মোতায়েন সম্ভবত মে মাস পর্যন্ত বাড়ানো হবে। সেক্ষেত্রে তারা পুরো এক বছর সমুদ্রে থাকবে, যা একটি স্বাভাবিক বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের সময়ের দ্বিগুণ।

ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন নৌবাহিনী কখনো কখনো ৯ মাস পর্যন্ত বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রেখেছিল। তবে সাধারণত ছয় মাসের বেশি বাড়ানো হয় না। নৌ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর চেয়ে দীর্ঘ সময় জাহাজ ও ক্রু উভয়ের জন্যই অত্যন্ত কঠিন।

সূত্র: সিএনএন

/এফসি/