ইরান যুদ্ধে জয়ী হবে না কেউই

ইরান যুদ্ধে জয়ী হবে না কেউই
মোসাদ্দেকুর রহমান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। ইতোমধ্যে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় প্রশ্ন—যুদ্ধে কে জয়ী হবে তা নয়, বরং প্রশ্ন হচ্ছে, এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে।
প্রতিটি হামলা ও পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ক্রমশই প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবুও সম্ভাবনার কথা হচ্ছে সবচেয়ে তীব্র যুদ্ধও শেষ পর্যন্ত আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে শেষ হতে পারে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো সেই মুহূর্ত নির্ধারণ করা, যখন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে সমঝোতা করাই কম ব্যয়বহুল বলে মনে হবে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে বিষয়টি যাচাই করার জন্য যৌথ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরান পরামর্শ দিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো ঘটনার প্রকৃতি এবং দায় নির্ধারণ করতে পারে। যদিও কৌশলগত উদ্দেশ্যে এই প্রস্তাব কি না, তা বিতর্কের বিষয়। তবুও ইরান বারবার বলেছে যে, তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা নয়। কিন্তু এই অঞ্চলে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সেই বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো যারা এই সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়নি তারা বুঝতে পারছে যে, এই যুদ্ধ তাদের জন্য নয়। তারা ইরানের ‘সার্বভৌম ভূখণ্ডে অনিয়ন্ত্রিত হামলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করার’ নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। এখানে নিশ্চিতভাবেই তারা ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়েছে। কারণ তারা জানে, ইরানের মতো ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যা ও শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা সম্পন্ন দেশকে সরাসরি লক্ষ্য করলে সংঘাত বড় ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ভয়ঙ্কর স্মৃতি এখনও উপসাগরীয় দেশগুলো ভুলেনি। যেখানে বোঝা যায় কীভাবে এমন সংঘাত বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে এবং অঞ্চলটির সার্বিক পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষমতাসীনরা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এখনও যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পায়নি। তবে তারা এটি বুঝতে পেরেছে যে, এই সংঘাতে ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকারই প্রতিফলিত হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য উদ্বেগ হলো, যদি যুদ্ধ বিস্তৃত হয়, তবে এর প্রভাব তাদের ওপরই বেশি পড়বে।
ইতোমধ্যেই ইসরায়েল লেবাননেও সমানতালে হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনার অংশ। হিজবুল্লাহর অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং লিতানি নদীর দক্ষিণের এলাকা দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে তারা তাদের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের যৌথ তদন্ত ব্যবস্থার প্রস্তাব আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না। উপসাগরীয় দেশগুলো সতর্কতার সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, এমনকি তা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত পর্যায়ে হলেও। এই সংলাপ এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার বিস্তৃত কার্যক্রম এবং ইরানের সীমান্ত অতিক্রম করে বারবার হামলা চালানোর বিষয়টি তাদের সক্ষমতারই প্রমাণ। গত ১৮ মার্চ ইসরায়েলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এ বিষয়টিই তুলে ধরে যে, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে চায়।
তাই চূড়ান্ত সামরিক বিজয় এই যুদ্ধে সম্ভব নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নিকট ভবিষ্যতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি। ঐতিহাসিকভাবে যুদ্ধবিরতি তখনই সম্ভব যখন সব পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে তা বন্ধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে।
পর্যায়ক্রমে উত্তেজনা হ্রাস এবং ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা, উপসাগরীয় ভূখণ্ডকে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ না করা—এই পদক্ষেপগুলো যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ হতে পারে। এ ছাড়া ইরানকে সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযান ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত হলে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোও যুদ্ধবিরতি সমর্থনে উৎসাহিত হবে। তবে ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতসংখক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে ইরান প্রমাণ করেছে তারা এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়।

এ ছাড়া ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং সামরিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা সমান্তরালভাবে মেলাতে হবে। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করতে পারে যে, তাদের অভিযান সফল হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তারা এখন যুদ্ধবিরতি চায়। অন্যদিকে ইরান এই যুদ্ধের ফলাফলকে নিজেদের স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে যুদ্ধবিরতি চাইতে পারে।
যুদ্ধবিরতিতে পরস্পরবিরোধী এই বয়ানগুলো স্বাভাবিক। যুদ্ধ সাধারণত কে বিজয়ী হলো তারা মাধ্যমে নয় বরং সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়, যা উভয় পক্ষকে তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ দেয়। তবে বিবাদমান রাষ্ট্রগুলোর সরাসরি আলোচনা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের অগ্রগতির জন্য একাধিক প্রভাবশালী শক্তির মধ্যস্থতা প্রয়োজন।
এই ভূমিকা পালনে চীন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বেইজিং ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। চীন ইরান ছাড়াও উপসাগরীয় দেশ ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমানভাবে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৩ সালের মার্চে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মধ্যস্থতায় চীন ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে বিলম্বিত উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর অনুষ্ঠিত হলে, আঞ্চলিক সংঘাত প্রতিরোধে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব এই সংলাপে তুরস্ক ও চীনকে সম্পৃক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। ওমান ও কাতার বিচক্ষণ মধ্যস্থকারী হিসেবে পরোক্ষ আলোচনায় সহায়ক হতে পারে। ইউরোপীয় দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক প্রণোদনা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের মাধ্যমে সমর্থন দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ । ইরান দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দুশ্চিন্তা ইরানের সামরিক সক্ষমতা তাদের নিরাপত্তার জন্য যেনো হুমকি না হয়। তাই এই পক্ষগুলোর বিভেদ দূর করতে ধারাবাহিক কূটনীতি ও ধৈর্য প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ কোনো পক্ষই সহজে বিজয়ী হতে পারবে না। এটি শেষ হবে তখনই, যখন সব পক্ষ বুঝবে—সংঘাত দীর্ঘায়িত করা তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। ইতোমধ্যে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় প্রশ্ন—যুদ্ধে কে জয়ী হবে তা নয়, বরং প্রশ্ন হচ্ছে, এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে।
প্রতিটি হামলা ও পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ক্রমশই প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবুও সম্ভাবনার কথা হচ্ছে সবচেয়ে তীব্র যুদ্ধও শেষ পর্যন্ত আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে শেষ হতে পারে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো সেই মুহূর্ত নির্ধারণ করা, যখন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে সমঝোতা করাই কম ব্যয়বহুল বলে মনে হবে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে বিষয়টি যাচাই করার জন্য যৌথ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরান পরামর্শ দিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো ঘটনার প্রকৃতি এবং দায় নির্ধারণ করতে পারে। যদিও কৌশলগত উদ্দেশ্যে এই প্রস্তাব কি না, তা বিতর্কের বিষয়। তবুও ইরান বারবার বলেছে যে, তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা নয়। কিন্তু এই অঞ্চলে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সেই বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো যারা এই সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়নি তারা বুঝতে পারছে যে, এই যুদ্ধ তাদের জন্য নয়। তারা ইরানের ‘সার্বভৌম ভূখণ্ডে অনিয়ন্ত্রিত হামলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করার’ নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। এখানে নিশ্চিতভাবেই তারা ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়েছে। কারণ তারা জানে, ইরানের মতো ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যা ও শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা সম্পন্ন দেশকে সরাসরি লক্ষ্য করলে সংঘাত বড় ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ভয়ঙ্কর স্মৃতি এখনও উপসাগরীয় দেশগুলো ভুলেনি। যেখানে বোঝা যায় কীভাবে এমন সংঘাত বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে এবং অঞ্চলটির সার্বিক পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষমতাসীনরা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এখনও যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পায়নি। তবে তারা এটি বুঝতে পেরেছে যে, এই সংঘাতে ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকারই প্রতিফলিত হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য উদ্বেগ হলো, যদি যুদ্ধ বিস্তৃত হয়, তবে এর প্রভাব তাদের ওপরই বেশি পড়বে।
ইতোমধ্যেই ইসরায়েল লেবাননেও সমানতালে হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনার অংশ। হিজবুল্লাহর অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং লিতানি নদীর দক্ষিণের এলাকা দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে তারা তাদের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের যৌথ তদন্ত ব্যবস্থার প্রস্তাব আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না। উপসাগরীয় দেশগুলো সতর্কতার সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, এমনকি তা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত পর্যায়ে হলেও। এই সংলাপ এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার বিস্তৃত কার্যক্রম এবং ইরানের সীমান্ত অতিক্রম করে বারবার হামলা চালানোর বিষয়টি তাদের সক্ষমতারই প্রমাণ। গত ১৮ মার্চ ইসরায়েলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এ বিষয়টিই তুলে ধরে যে, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে চায়।
তাই চূড়ান্ত সামরিক বিজয় এই যুদ্ধে সম্ভব নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নিকট ভবিষ্যতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি। ঐতিহাসিকভাবে যুদ্ধবিরতি তখনই সম্ভব যখন সব পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে তা বন্ধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে।
পর্যায়ক্রমে উত্তেজনা হ্রাস এবং ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা, উপসাগরীয় ভূখণ্ডকে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ না করা—এই পদক্ষেপগুলো যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ হতে পারে। এ ছাড়া ইরানকে সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযান ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত হলে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোও যুদ্ধবিরতি সমর্থনে উৎসাহিত হবে। তবে ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতসংখক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে ইরান প্রমাণ করেছে তারা এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়।

এ ছাড়া ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং সামরিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা সমান্তরালভাবে মেলাতে হবে। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করতে পারে যে, তাদের অভিযান সফল হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তারা এখন যুদ্ধবিরতি চায়। অন্যদিকে ইরান এই যুদ্ধের ফলাফলকে নিজেদের স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে যুদ্ধবিরতি চাইতে পারে।
যুদ্ধবিরতিতে পরস্পরবিরোধী এই বয়ানগুলো স্বাভাবিক। যুদ্ধ সাধারণত কে বিজয়ী হলো তারা মাধ্যমে নয় বরং সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়, যা উভয় পক্ষকে তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ দেয়। তবে বিবাদমান রাষ্ট্রগুলোর সরাসরি আলোচনা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের অগ্রগতির জন্য একাধিক প্রভাবশালী শক্তির মধ্যস্থতা প্রয়োজন।
এই ভূমিকা পালনে চীন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বেইজিং ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। চীন ইরান ছাড়াও উপসাগরীয় দেশ ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমানভাবে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৩ সালের মার্চে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মধ্যস্থতায় চীন ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে বিলম্বিত উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর অনুষ্ঠিত হলে, আঞ্চলিক সংঘাত প্রতিরোধে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব এই সংলাপে তুরস্ক ও চীনকে সম্পৃক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। ওমান ও কাতার বিচক্ষণ মধ্যস্থকারী হিসেবে পরোক্ষ আলোচনায় সহায়ক হতে পারে। ইউরোপীয় দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক প্রণোদনা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের মাধ্যমে সমর্থন দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ । ইরান দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দুশ্চিন্তা ইরানের সামরিক সক্ষমতা তাদের নিরাপত্তার জন্য যেনো হুমকি না হয়। তাই এই পক্ষগুলোর বিভেদ দূর করতে ধারাবাহিক কূটনীতি ও ধৈর্য প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ কোনো পক্ষই সহজে বিজয়ী হতে পারবে না। এটি শেষ হবে তখনই, যখন সব পক্ষ বুঝবে—সংঘাত দীর্ঘায়িত করা তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।

ইরান যুদ্ধে জয়ী হবে না কেউই
মোসাদ্দেকুর রহমান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। ইতোমধ্যে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় প্রশ্ন—যুদ্ধে কে জয়ী হবে তা নয়, বরং প্রশ্ন হচ্ছে, এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে।
প্রতিটি হামলা ও পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ক্রমশই প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবুও সম্ভাবনার কথা হচ্ছে সবচেয়ে তীব্র যুদ্ধও শেষ পর্যন্ত আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে শেষ হতে পারে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো সেই মুহূর্ত নির্ধারণ করা, যখন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে সমঝোতা করাই কম ব্যয়বহুল বলে মনে হবে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে বিষয়টি যাচাই করার জন্য যৌথ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরান পরামর্শ দিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো ঘটনার প্রকৃতি এবং দায় নির্ধারণ করতে পারে। যদিও কৌশলগত উদ্দেশ্যে এই প্রস্তাব কি না, তা বিতর্কের বিষয়। তবুও ইরান বারবার বলেছে যে, তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা নয়। কিন্তু এই অঞ্চলে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সেই বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো যারা এই সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়নি তারা বুঝতে পারছে যে, এই যুদ্ধ তাদের জন্য নয়। তারা ইরানের ‘সার্বভৌম ভূখণ্ডে অনিয়ন্ত্রিত হামলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করার’ নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। এখানে নিশ্চিতভাবেই তারা ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়েছে। কারণ তারা জানে, ইরানের মতো ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যা ও শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা সম্পন্ন দেশকে সরাসরি লক্ষ্য করলে সংঘাত বড় ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ভয়ঙ্কর স্মৃতি এখনও উপসাগরীয় দেশগুলো ভুলেনি। যেখানে বোঝা যায় কীভাবে এমন সংঘাত বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে এবং অঞ্চলটির সার্বিক পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষমতাসীনরা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এখনও যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পায়নি। তবে তারা এটি বুঝতে পেরেছে যে, এই সংঘাতে ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকারই প্রতিফলিত হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য উদ্বেগ হলো, যদি যুদ্ধ বিস্তৃত হয়, তবে এর প্রভাব তাদের ওপরই বেশি পড়বে।
ইতোমধ্যেই ইসরায়েল লেবাননেও সমানতালে হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনার অংশ। হিজবুল্লাহর অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং লিতানি নদীর দক্ষিণের এলাকা দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে তারা তাদের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের যৌথ তদন্ত ব্যবস্থার প্রস্তাব আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না। উপসাগরীয় দেশগুলো সতর্কতার সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, এমনকি তা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত পর্যায়ে হলেও। এই সংলাপ এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার বিস্তৃত কার্যক্রম এবং ইরানের সীমান্ত অতিক্রম করে বারবার হামলা চালানোর বিষয়টি তাদের সক্ষমতারই প্রমাণ। গত ১৮ মার্চ ইসরায়েলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এ বিষয়টিই তুলে ধরে যে, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে চায়।
তাই চূড়ান্ত সামরিক বিজয় এই যুদ্ধে সম্ভব নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নিকট ভবিষ্যতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি। ঐতিহাসিকভাবে যুদ্ধবিরতি তখনই সম্ভব যখন সব পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে তা বন্ধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে।
পর্যায়ক্রমে উত্তেজনা হ্রাস এবং ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা, উপসাগরীয় ভূখণ্ডকে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ না করা—এই পদক্ষেপগুলো যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ হতে পারে। এ ছাড়া ইরানকে সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযান ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত হলে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোও যুদ্ধবিরতি সমর্থনে উৎসাহিত হবে। তবে ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতসংখক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে ইরান প্রমাণ করেছে তারা এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়।

এ ছাড়া ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং সামরিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা সমান্তরালভাবে মেলাতে হবে। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করতে পারে যে, তাদের অভিযান সফল হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তারা এখন যুদ্ধবিরতি চায়। অন্যদিকে ইরান এই যুদ্ধের ফলাফলকে নিজেদের স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে যুদ্ধবিরতি চাইতে পারে।
যুদ্ধবিরতিতে পরস্পরবিরোধী এই বয়ানগুলো স্বাভাবিক। যুদ্ধ সাধারণত কে বিজয়ী হলো তারা মাধ্যমে নয় বরং সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়, যা উভয় পক্ষকে তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ দেয়। তবে বিবাদমান রাষ্ট্রগুলোর সরাসরি আলোচনা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের অগ্রগতির জন্য একাধিক প্রভাবশালী শক্তির মধ্যস্থতা প্রয়োজন।
এই ভূমিকা পালনে চীন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বেইজিং ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। চীন ইরান ছাড়াও উপসাগরীয় দেশ ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমানভাবে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৩ সালের মার্চে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মধ্যস্থতায় চীন ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে বিলম্বিত উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর অনুষ্ঠিত হলে, আঞ্চলিক সংঘাত প্রতিরোধে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব এই সংলাপে তুরস্ক ও চীনকে সম্পৃক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। ওমান ও কাতার বিচক্ষণ মধ্যস্থকারী হিসেবে পরোক্ষ আলোচনায় সহায়ক হতে পারে। ইউরোপীয় দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক প্রণোদনা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের মাধ্যমে সমর্থন দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ । ইরান দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দুশ্চিন্তা ইরানের সামরিক সক্ষমতা তাদের নিরাপত্তার জন্য যেনো হুমকি না হয়। তাই এই পক্ষগুলোর বিভেদ দূর করতে ধারাবাহিক কূটনীতি ও ধৈর্য প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ কোনো পক্ষই সহজে বিজয়ী হতে পারবে না। এটি শেষ হবে তখনই, যখন সব পক্ষ বুঝবে—সংঘাত দীর্ঘায়িত করা তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।




